যশোর প্রতিনিধি :
স্ত্রী ও মাত্র ৯ মাসের শিশুসন্তানকে হারানোর পরও প্যারোলে মুক্তির অনুমতি মেলেনি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের। শেষ পর্যন্ত যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকেই মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ পান তিনি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্স কারাগারের সামনে আনা হয়। কারা কর্তৃপক্ষ মানবিক বিবেচনায় ছয়জন স্বজনসহ অ্যাম্বুলেন্সটি কারাফটকের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়। এ সময় সাদ্দামকে প্রায় পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হয় স্ত্রী ও সন্তানের শেষ মুখ দেখার জন্য।
দীর্ঘদিন পর স্ত্রীর মুখ ছুঁয়ে দেখেন তিনি। জীবনে প্রথমবারের মতো কোলে নেন নিজের মৃত শিশুসন্তানকে। সেই হৃদয়বিদারক মুহূর্তে কারাফটকে উপস্থিত স্বজন ও কারারক্ষীদের মধ্যেও শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২৫) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘরে পাওয়া যায় তার ৯ মাস বয়সী শিশু নাজিমের নিথর দেহ। পুলিশ ও পরিবারের দাবি, মানসিক হতাশা থেকে শিশু সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন স্বর্ণালী।
নিহত সুবর্ণার স্বামী জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একাধিক রাজনৈতিক মামলার আসামি।
স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সাদ্দামের স্বজনেরা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। তবে সেই আবেদন নাকচ করা হয়। এরপর বাধ্য হয়েই মরদেহ কারাগারের সামনে এনে অন্তত শেষবারের মতো দেখার ব্যবস্থা করা হয়।
সাদ্দামের চাচাতো ভাই সাগর ফারাজী বলেন,
“সে কোনো হত্যা মামলার আসামি না। শুধু রাজনৈতিক মামলায় বন্দি। এমন দুঃসময়ে মানবিক কারণে তাকে অন্তত জানাজায় অংশ নিতে দেওয়া উচিত ছিল।”
সাদ্দামের শ্যালিকা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“রাজনীতির পরিণতি আজ এমন হলো। সে কখনো কাঁদেনি, আজ তাকে কাঁদতে দেখেছি। প্রশাসন একটু মানবিক হলে ভালো হতো।”
কারা সূত্র জানায়, সাধারণত কারাবন্দির স্বজন মারা গেলে এবং মরদেহ কারাফটকে আনা হলে বিশেষ অনুমতি ছাড়াও সীমিত সময়ের জন্য দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ বলেন,
“মানবিক দিক বিবেচনায় ছয়জন স্বজনসহ মরদেহ কারাফটকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সাদ্দাম পাঁচ মিনিট সময় পেয়েছে স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখার জন্য।”
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় জানাজার সময় পিছিয়ে গেছে। রাতেই স্ত্রী ও শিশুসন্তানের জানাজা সম্পন্ন করা হবে।