সময়ের চিত্র ডেস্ক:
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনাধীন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) শিগগিরই আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ইঙ্গিত অনুযায়ী, মঙ্গলবার এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
চুক্তিটি কার্যকর হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানি হওয়া গাড়ি ও মদের ওপর ভারতের উচ্চ শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। এর বিনিময়ে ইউরোপের বাজারে ভারতের তৈরি পোশাক, গয়না, ইলেকট্রনিক পণ্য ও রাসায়নিক দ্রব্যের প্রবেশ আরও সহজ হবে।
আগামী ২৫ থেকে ২৮ জানুয়ারি ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েনের ভারত সফরকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় এই চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি প্রকাশ পেতে পারে। বাস্তবায়ন হলে এটি ভারত-ইইউ অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। এশিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পর ভারতই হতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৃতীয় প্রতিরক্ষা অংশীদার। একই সঙ্গে দক্ষ কর্মী ও শিক্ষার্থীদের চলাচল সহজ করতে একটি ‘মবিলিটি এগ্রিমেন্ট’ নিয়েও আলোচনা চলছে।
বর্তমান অর্থবছরে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। ২৭ দেশের এই জোট বর্তমানে ভারতের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে।
বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিকে ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্ক নীতিতে পরিবর্তনের ফলে ভারত বিকল্প বাজার খুঁজতে আরও সক্রিয় হয়েছে।
সম্প্রতি দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন জানান, চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও কিছু স্পর্শকাতর ইস্যু এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে ভারতের গাড়ি আমদানিতে বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক অন্যতম।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন কার্বন কর ও ভারতের জন্য বিশেষ শুল্ক সুবিধা প্রত্যাহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এসব কারণে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা কাটিয়ে উঠতে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি কার্যকর হলে ভারতের তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়বে এবং বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের প্রতিযোগিতা আরও জোরদার হবে।
সূত্র: রয়টার্স