আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি অংশে চীনাদের পরিচালিত এক রেস্তোরাঁয় বিস্ফোরণে সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন চীনের নাগরিক এবং বাকি ছয়জন আফগান।
সোমবার কাবুলের শাহর-এ-নও এলাকার ওই রেস্তোরাঁয় এ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে এক শিশুসহ আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জারদান বলেন, ‘শাহর-এ-নও এলাকায় বহু সরকারি দপ্তরের ভবন, দূতাবাস ও শপিং কমপ্লেক্স রয়েছে। এলাকাটিকে কাবুল শহরের অন্যতম নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।’
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আফগান শাখা। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, একজন আত্মঘাতী বোমারুকে দিয়ে তারা হামলাটি চালিয়েছে।
খালিদ জারদান জানান, রেস্তোরাঁটি আব্দুল মজিদ নামের এক চীনা মুসলিম, তার স্ত্রী এবং আব্দুল জব্বার মাহমুদ নামের এক আফগান অংশীদার যৌথভাবে পরিচালনা করতেন। কাবুলে বসবাসরত চীনা মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনই মূলত এই রেস্তোরাঁয় যাতায়াত করতেন।
বার্তা সংস্থা আমাক জানিয়েছে, ইসলামিক স্টেটের আফগান শাখা চীনা নাগরিকদের তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত করেছে। সংগঠনটি এর কারণ হিসেবে ‘উইঘুরদের বিরুদ্ধে চীন সরকারের ক্রমবর্ধমান অপরাধের’ কথা উল্লেখ করেছে।
উইঘুররা চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল শিনজিয়াংয়ের একটি সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী। সেখানে প্রায় এক কোটি উইঘুর বাস করে। পশ্চিমা মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, বেইজিং সেখানে উইঘুরদের ওপর নানা ধরনের নিগ্রহ চালাচ্ছে। তবে চীন সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, পশ্চিমা দেশগুলো সেখানে হস্তক্ষেপ করছে এবং ‘অসার মিথ্যা’ ছড়াচ্ছে।
বিস্ফোরণে নিহত চীনা নাগরিকের নাম আইয়ুব বলে জানা গেছে। নিহত অপর ছয়জন আফগান নাগরিক। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণটি রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের কাছে ঘটানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রেস্তোরাঁটির সামনের রাস্তায় বিক্ষিপ্তআফগানিস্তানের আবর্জনা এবং ভবনের সামনের অংশে সৃষ্ট বড় একটি গর্ত দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। মানবাধিকার গোষ্ঠী ‘ইমার্জেন্সি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর দেয়ান পানিচ এক বিবৃতিতে বলেন, “এখন পর্যন্ত আমাদের হাসপাতালে ২০ জন আহতকে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে চারজন নারী ও এক শিশু । দুর্ভাগ্যজনকভাবে সাতজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়।”
কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তারা জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নিরাপত্তা পুনর্বহালের প্রতিশ্রুতি দিলেও দেশটিতে নিয়মিত বোমা হামলার ঘটনা ঘটছে, যার অনেকগুলোর দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট।