কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মরিচের বাম্পার ফলন

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম :

দেশের উত্তরের সীমান্তঘেঁষা কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন বেশি হওয়ার পাশাপাশি বাজারে দামও ভালো থাকায় মরিচ চাষিদের মুখে এখন স্বস্তির হাসি। লাভের আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক থেকে শুরু করে পাইকাররাও।

 

সরেজমিনে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গজেরকুটি, খলিশাকোঠাল, বালাতাড়ী, কুরুষাফেরুষা, জাগিরটারী, গোরকমন্ডল ও চর গোরকমন্ডলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়—দুচোখ যেদিকে যায়, শুধু সবুজ মরিচের ক্ষেত। সারি সারি মরিচগাছ আর ঝুলে থাকা সবুজ মরিচ যেন কৃষকের স্বপ্নপূরণের সবুজ সংকেত দিচ্ছে।

 

এ এলাকার অধিকাংশ কৃষক মরিচের পাশাপাশি পেঁয়াজ, রসুন, সরিষা ও নানা ধরনের রবিশস্য চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। যাদের নিজস্ব জমি নেই, তারাও অন্যের জমি লিজ বা বর্গা নিয়ে মরিচ চাষ করে সংসারের হাল ধরছেন। চলতি মৌসুমে ফলন ও দাম ভালো থাকায় অনেক কৃষক আগের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন।

 

গজেরকুটি এলাকার মরিচ চাষী মোঃ আফজাল হোসেন ১ বিঘা, মোঃ তাহের আলী ৬ বিঘা এবং মোঃ মজিবর রহমান ৫ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। তারা জানান, এ বছর অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো সেচ ও সার প্রয়োগের ফলে ফলন আশানুরূপ হয়েছে। খেতেই প্রতি মন মরিচ ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তারা।

 

মোঃ আব্দুল হানিফ, “১ বিঘা জমিতে মরিচ চাষে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। পুরো মৌসুমে প্রতি বিঘায় ৬৫ থেকে ৭০ মন মরিচ পাওয়া যাচ্ছে। আমি আগেই একটি জমির খেত ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।”

 

মরিচ চাষী মোঃ মজিবর রহমান জানান, যারা আগেভাগে খেত বিক্রি না করে নিজেরা নারী শ্রমিক দিয়ে মরিচ তুলে বাজারে বিক্রি করছেন, তারা আরও বেশি লাভ করছেন। স্থানীয় বাজার ও পাশের জেলা লালমনিরহাটের বড়বাড়ী বাজারে প্রতি মন মরিচ ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এতে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘায় ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় সম্ভব হচ্ছে।

 

স্থানীয় পাইকার মোঃ রাজু মিয়া ও মোঃ মোস্তফা জানান, তারা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মন মরিচ ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় কিনে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের বাজারে বিক্রি করছেন। এতে প্রতি মন মরিচে গড়ে ৬০০ থেকে ৮০০টাকা লাভ হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে ঢাকা ও সিলেটে মরিচের চাহিদা বেশি থাকায় বাজার চাঙা রয়েছে।

 

ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ নিলুফা ইয়াছমিন জানান, ফুলবাড়ী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে মোট ৭৫ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। তিনি বলেন, “এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার কারণে মরিচখেতে রোগবালাইয়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম। ফলে ফলন ভালো হয়েছে। তবে সামনে আবহাওয়ার পরিবর্তন হলে কৃষকদের সতর্ক থাকতে হবে।”

 

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মরিচ চাষে লাভ বাড়ায় আগামী মৌসুমে ফুলবাড়ী উপজেলায় মরিচের আবাদ আরও বাড়তে পারে। এতে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরো খবর