স্টাফ রিপোর্টার:
স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন IUPHPS প্রকল্পে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে ২৪০ জন জনবল সরবরাহের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (SDP)-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ জুন ২০২৫ তারিখে IUPHPS প্রকল্পের আওতায় আউটসোর্সিং জনবল সরবরাহের দরপত্র আহ্বান করা হয় (টেন্ডার প্যাকেজ নং NS-101)। এতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাছরাঙ্গা সিকিউরিটি সার্ভিসেস প্রা. লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, উক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হেমায়েত হুসাইন ফারুক অতীতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত কিছু প্রমাণও আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগকারী দাবি করেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশীশক্তি ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজ আদায় করেছে। বর্তমানে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে গোপনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগে বলা হয়। এ ধরনের বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হলে তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, দরপত্রের কারিগরি প্রস্তাব জমা দেওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি ১২টি পদের বিপরীতে ২৪০ জন জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, যা আইন ও দরপত্র বিধিমালার পরিপন্থি। এটি পূর্বনির্ধারিতভাবে কাজ পাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে বলে অভিযোগ করা হয়।
এসডিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর)-এর ৯৮ ধারার উপধারা অনুযায়ী যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে অনৈতিক মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তারা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছেন।
আবেদনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দাখিলকৃত সকল কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।