উত্তরাঞ্চলের সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোরাচালান পণ্য জব্দ

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম :

গত এক মাসে সীমান্তে বিপুল পরিমাণ চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে রংপুর রিজিয়নের আওতাধীন ৮ জেলার সীমান্তে এই পণ্য জব্দ করে বিজিবি। একই সঙ্গে পাচারের ঝুঁকিতে থাকা ১৫ জন নারী-পুরুষকে উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

 

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর রিজিয়নের পক্ষে কুড়িগ্রাম বিজিবি-২২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

 

বিজিবি জানায়, রংপুর রিজিয়নের আওতাধীন আটটি জেলা রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট এবং নিলফামারী রয়েছে। এসব জেলার প্রায় ১ হাজার ৬৬৮ দশমিক ৮৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় বিজিবির চারটি সেক্টর ও ১৫টি ব্যাটালিয়ন নিয়োজিত রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা, মানবপাচার ও চোরাকারবার প্রতিরোধ এবং আন্তসীমান্ত সমন্বয়সহ জনসেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বিজিবি। এরই ধারাবাহিকতায় সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযানে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সীমান্ত নিরাপত্তা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ডিসেম্বর মাসে রংপুর রিজিয়নের আওতাধীন বিজিবি পরিচালিত অভিযানে ৭০ জন আসামিসহ আনুমানিক ৭ কোটি ৪৮ লাখ ৯৩ হাজার ৪৮৯ টাকা সিজার মূল্যের বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় মাদক, নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইঞ্জেকশন এবং চোরাচালান মালামাল জব্দ করা হয়। এ ছাড়াও বেশ কিছু বিদেশি অস্ত্র-গোলাবারুদ ও ভারতীয় প্রাণী আটক করেছে বিজিবি।

 

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের প্রতিবেদনের বরাতে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিজিবি অধিনায়ক জানান, উল্লিখিত সময়ে বিজিবি ২৯ রাউন্ড গুলিসহ ৬টি বিদেশি পিস্তল আটক করেছে। যা সীমান্ত এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিজিবির কার্যকর উপস্থিতির প্রতিফলন।

 

এ ছাড়াও ডিসেম্বরের চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ১৯৭টি গৃহপালিত প্রাণী (গরু ও মহিষ) উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি জিরা, মোটরসাইকেল, বিভিন্ন প্রকার কসমেটিকস, কীটনাশক, কাপড়, বাইসাইকেল ও কষ্টিপাথরসহ অন্যান্য চোরাচালান পণ্য আটক করা হয়েছে।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, পাচারের ঝুঁকিতে থাকা ১২ জন পুরুষ ও ৩ জন নারীকে উদ্ধার করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বিজিবি। পাশাপাশি শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা চলমান রয়েছে।

 

বিজিবি-২২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে রংপুর রিজিয়নের আওতাধীন বিজিবি ইউনিটগুলো সব সময় প্রস্তুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত টহল, বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন ও সমন্বিত আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান রোধ, অবৈধভাবে শূন্য রেখা পারাপার, মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধ, মানব পাচার রোধ, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

এই বিভাগের আরো খবর