সময়ের চিত্র ডেস্ক:
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করার পর বিএনপি জানিয়েছে, এই রায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সোমবার রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিক্রিয়া জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রায় দিয়েছে।
বিএনপির দাবি, এতে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য মামলার অভিযুক্তদেরও সুবিচারের দাবি জানায় দলটি।
মির্জা ফখরুল মনে করেন, এই রায় অতীতের গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার পরিবারগুলোর ক্ষোভ কিছুটা হলেও প্রশমিত করবে এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহতদের পরিবারও এতে ন্যায়বিচারের অনুভূতি পাবে।
গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদও উপস্থিত ছিলেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এদিন শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে বিবৃতি দেওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
১৫ মাস আগে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনিই প্রথম সাবেক সরকারপ্রধান, যিনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলেন। যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে তার সরকার যে ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল, সেই আদালত থেকেই তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির রায় এল।