সময়ের চিত্র ডেস্ক : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশনের অব্যবস্থাপনার কারণেই শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোটের দায়িত্বে থাকা অপর এক শিক্ষক। নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল কেন্দ্রের রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক সুলতানা আক্তার এই মৃত্যুর ঘটনার সঠিক বিচারের পাশাপাশি জান্নাতুল ফেরদৌসের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবনের সামনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সুলতানা আক্তার। তিনি ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক। দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালনের কারণে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। যেভাবে ভোট গণনা হচ্ছে, তাতে তিন দিনেও শেষ হবে না বলে মনে করছেন এই শিক্ষক।
সুলতানা আক্তার বলেন, ‘সহকর্মীর মৃত্যুতে আমরা সবাই ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। ভোট সুষ্ঠুভাবে করতে আমরা শতভাগ চেষ্টা করেছি। আমার কেন্দ্রে শতভাগ সুষ্ঠুভাবে ভোট নিয়েছি। সেখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। আমাদের কেন্দ্রে ভোট সুষ্ঠুভাবে করতে অমানুষিক পরিশ্রম করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই ভোট গণনা করা হয়, তবে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হলেই যদি ভোট গণনা করা হতো তবে দেখা যেত রাত ১০টার মধ্যে বিভিন্ন হলের রেজাল্ট হয়ে যেত। এবং আমরা রেজাল্ট নির্বাচন কমিশনে নিয়ে আসতাম এবং রাত ১১টার মধ্যেই রেজাল্ট দেওয়া যেত। (বৃহস্পতিবার) রাত ১১টার মধ্যে রেজাল্ট হলে আমার সহকর্মীর মৃত্যু দেখতে হতো না। কারণ, তিনি সারা দিন অমানুষিক পরিশ্রম করার পর বিশ্রাম নিতে গিয়েছেন, তাঁকেও তো বলা হয়েছে আবার ভোট গণনার জন্য তাঁকে সিনেট ভবনে আসতে হবে। তিনি হয়তো এ কারণে স্ট্রেস (মানসিক চাপ) নিয়ে ঘুমাতে পারেননি।’