নিজস্ব প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গায়িকা মমতাজ বেগম। পালিয়ে রয়েছেন কোন এক গোপন স্থানে। লোকমুখে শুনা যাচ্ছেন তিনি নাকি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন (যদিও এর কোন সত্যতা মিলেনি)। এবার হঠাৎ করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন তিনি। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি গান আপলোড করেছেন, এনিয়ে নেট দুনিয়ায় বইছে সমালোচনার ঝড়।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা মন্ত্রী ও এমপিরা আত্মগোপনে চলে যান। আত্মগোপনে থাকা মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, দুর্নীতি, গুম-খুনসহ বিভিন্ন মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন অনেকে, গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেকে দেশ ছেড়েও পালিয়েছেন। পালিয়ে থাকা নেতাকর্মীদের খুঁজছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। গত বুধবার (৯ অক্টোবর) মমতাজ বেগমকে প্রধান আসামি করে মানিকগঞ্জে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঢাকা, আশুলিয়ায়, বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের হয়েছে মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে।
মমতাজ বেগমের সাথে গ্রেপ্তারের ভয়ে এলাকা ছেড়েছেন সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। গ্রেপ্তারও হয়েছেন সাবেক পৌর মেয়রসহ কয়েকজন নেতা। এত কিছুর পরেও তিনি মনের আনন্দে গান গেয়ে ফেসবুকে আপলোড দেয়াটা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে। তিনি এখন কোথায়?
জানা যায়, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন গণজাগরণ মঞ্চ থেকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে কটুক্তি ও ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি দেয় হেফাজতে ইসলাম। তার অংশ হিসেবে ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রবিবার সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের মুসল্লিরা প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা বিদেশী রিভলবার, চাইনিস পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রসহ পুলিশ বাহিনীর সাথে নেতাকর্মী পুলিশের পোষাক পরিহিত অবস্থায় বিনা উস্কানিতে নিরীহ গ্রামবাসীর উপর ঝাপিয়ে পড়ে, পুলিশ ও আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ গ্রামবাসীর উপর গুলি চালায়। ওই গুলিতে ৪জন নিহত, শতাধিক আহত হয়। সে সময় আহত ও নিহতদের পরিবার সরকারি দলের দাপটে ও পুলিশের বাধায় মামলা দায়ের করতে পারেনি। উল্টো গ্রামবাসী ও স্থানীয় বিএনপি জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা নাশকতার মামলা দিয়ে বছরের পর বছর হয়রানি করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় একযুগ পর ৪জনকে হত্যার দায়ে মামলা করা হয়। সেই মামলার প্রধান আসামি এই সাবেক এমপি মমতাজ বেগম।
২০১৩ সালে মমতাজ বেগম তখন সংরক্ষিত আসনের এমপি, এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে নৌকার টিকিট দেয়া হয়। নৌকা প্রতিক নিয়ে তিনি প্রথমবারের মত এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের বিতর্কিত (রাতের ভোটের) নির্বাচনেও তিনি নৌকার মাঝি হন। পরবর্তীতে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে তিনি নৌকা নিয়েও তার দলের একজন নতুন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। পরাজিত হয়ে তিনি ওই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।
মমতাজ বেগম সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেও নির্বাচনে নৌকা ডুবিয়ে তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। সাংগঠনিক কাজ কর্ম ভেঙ্গে পরে। তাকে না পেয়ে তার অনুসারীদের ডামি এমপি দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর গ্রুপে যোগ দিতে দেখা গেছে। এরপর গত ৫ আগষ্টের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবার পর মমতাজ বেগমকে আর কেউ দেখেননি। তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়েছেন।
এতসব ঘটনার পর হত্যা মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে, পালিয়ে বেড়ানো মমতাজ বেগম গত রবিবার বিকেলে হঠাৎ করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি রহস্যময় গান আপলোড করেন। গানের প্রথম কয়েকটি লাইন ছিল এমন; ‘আমার হাত বান্ধিবি, পা বান্ধিবি মন বান্ধিবি কেমনে? আমার চোখ বান্ধিবি, মুখ বান্ধিবি পরাণ বান্ধিবি কেমনে?’ । এখন তিনি নিজেকে কি হিসেবে জাহির করতে চাচ্ছেন, এমন প্রশ্ন সর্ব মহলের।
তার গানের কমেন্টে এক কামরুল হাসান শাকিল নামে একজন লিখেছেন, ‘২০১৪ সালে তোমার নির্বাচনী এলাকা সিংগাইরের গোবিন্দল গ্রামে তোমাদের নির্দেশে যে ৪জন নিরস্ত্র নিরঅপরাধ মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল সেই মামলার প্রধান আসামি তুমি আর তুমি মনের সুখে গান গাও, গাইতে থাকো যতক্ষণ মনে গাইতে পারো…’
ডলি সবনম নামে একজন লিখেছেন, ‘মানিকগঞ্জে আরেক মানিক, কয়েক মাস পর বের হয়ে নিজের কন্ঠে গান শোনাচ্ছে, মানুষ তো সেভ এ অবস্থান নেওয়ার পর শুভাকাঙ্ক্ষীদের পথ প্রদর্শন করেন, সবাইকে নিজ নিজ অবস্থানে সেভ এ থাকতে বলেন,আজব মানুষ আপনি। এনি আসছে গান শুনাতে, এই খারাপ সময় কেউ আপনার গান খায় না, অন্ততপক্ষে আপাতত অফ যান’
এমডি শহিদুল ইসলাম নামে একজন লিখেন, ‘মমতাজ আপু এই গানটা অনেক কষ্টের আপনাদেরকে দেখলে অনেক ভালো লাগে কিন্তু নেত্রীর জন্য অনেক কষ্ট হয় কারণ আমল একটা আমরা সবাই তো করতাম এখন মানুষ আমাদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছন্ন ভাবে কথা বলে সব ঠিক হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ’
প্রিন্স রাজ নামে একজন প্রশ্ন করে কমেন্টবক্সে লিখেছেন, ‘আপা এখন কি মনের সুখে গান গাওয়ার সময় ?’
আগের পোএ্ট
পরে পোষ্ট
এই বিভাগের আরো খবর