অবরোধ করতে এলে বিএনপির পরিণতি করুণ হবে: ওবায়দুল কাদের

বিশেষ প্রতিনিধি:

আওয়ামী যুবলীগের বিশাল ‘যুব সমাবেশ’ থেকে বিএনপির উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ১৮ অক্টোবর সমাবেশ উপলক্ষে বিএনপির নেতাকর্মীরা চুরি করে ঢুকছে। সেই ডিসেম্বরের মতো সরকার পতনের স্বপ্ন দেখছেন মির্জা ফখরুল। কিন্তু ঢাকা অবরোধ করতে এলে বিএনপিই অবরোধ হয়ে যাবে। এরপরে পালাবার পথ পাবে না। শাপলা চত্বরের চেয়ে আরও করুণ পরিণত হবে বিএনপির।
সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে যুবলীগ আয়োজিত যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওবায়দুল কাদের বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ করে বলেন, আর ছাড় দেব না মির্জা ফখরুল সাহেব। ডিসেম্বরের চেয়েও কড়া খেলা হবে। এখন চলছে কোয়ার্টার ফাইনাল। আগামী মাসে সেমি ফাইনাল। জানুয়ারিতে হবে ফাইনাল খেলা। আর এ খেলায় ফাউল করলেই লাল কার্ড। ওরা ঢাকা অবরোধ করতে এলে আমরা বসে বসে ললিপপ খাব না।

বিএনপি ১৮ অক্টোবরের সমাবেশ থেকে ঢাকা অবরোধের কর্মসূচি দিতে পারে এমন ইঙ্গিত দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, হোটেল খালি নাই, হোটেলের সব সিট তারা (বিএনপি) বুক করে ফেলেছে।

চুরি করে ঢাকায় ঢুকছে। ডিসেম্বরের মতো সরকার পতনের স্বপ্ন দেখছে ফখরুল সাহেব। খোয়াব দেখছে। যার সব ভুয়া। এক দফা ভুয়া, ৩২ দল ভুয়া। অবরোধ করলে বিএনপিই অবরোধ হয়ে যাবে। এখন চুরি করে ঢুকছো (ঢাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের আগমন)? এরপরে পালাবার পথ পাবা না। শাপলা চত্বর থেকে শেষ রাতে পালায় গেল না? আরও করুণ পরিণতি হবে বিএনপির।
সোমবার সাড়ের তিনটার পর থেকে যুবলীগের সমাবেশ শুরু হয়। কিন্তু দুপুর একটার পর থেকে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড, থানা এবং গাজীপুর জেলা ও মহানগর থেকে যুবলীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেন। শত শত মিছিলের তোড়ে পুরো বঙ্গবন্ধু এলাকা জনারণ্যে পরিণত হয়।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দীর সঞ্চালনায় বিশাল এই যুব সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলসহ যুবলীগের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।

আগামীকাল ১৮ অক্টোবর বিএনপির কর্মসূচির দিনে আওয়ামী লীগও কর্মসূচি পালন করবে এমন ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেন, ১৮ তারিখ আমরাও এই বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, গুলিস্তান এলাকা, বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে জমায়েত হবো। যুবলীগের যুবকরা, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ আমরাও প্রস্তুত আছি। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে করে তিনি বলেন, ওইদিন আরও বেশি করে আসতে হবে।

যুবলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা সিটির খবর রাখেন? ১৮ (অক্টোবর) তারিখ সামনে রেখে মির্জা ফখরুলের বিএনপি ডিসেম্বর মাসের (২০২২) মতো তাদের নেতাকর্মীদের সারাদেশ থেকে ঢাকা আনতে শুরু করেছে। হোটেলগুলো খালি নাই। সব সিট তারা বুক করে ফেলেছে। ঢাকা শহরে নতুন বাড়ি হচ্ছে, খালি ফ্ল্যাট আছে সব তারা বুক করে ফেলেছে।

তিনি বলেন, আবার ডিসেম্বর মাসের মতো সরকার পতনের স্বপ্ন দেখেছে মির্জা ফখরুল ইসলাম। ফখরুলের আন্দোলন, বিএনপির আন্দোলন ভুয়া। বিএনপিই হচ্ছে ভুয়া। এরা ঢাকা শহরে লোক জমায়েত করবে, অবরোধ করবে, এই শহরে সচিবালয় থেকে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অবরোধ করার কর্মসূচি তারা ১৮ তারিখে ঘোষণা করবে। তারা সেই ষড়যন্ত্র করছে।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখন প্রবেশ করছ (বিএনপি) চুরি করে, চুরি করে এসো আত্মীয়-স্বজনের বাসায়। ফখরুল বলেছে অতিরিক্ত কাপড় আনতে ক্ষমতা দখল করার জন্য। আমরা কি দাঁড়িয়ে ললিপপ খাব? আমরাও প্রস্তুত আছি। আমরাও সেদিন আন্দোলনে নবতর পথযাত্রার সূচনা করব শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আন্দোলনের মিছিল বয়ে নিয়ে যাব বিজয়ের বন্দরে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা মাথানত করেন না বলে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ ছাড়া তিনি কাউকে ভয় করে না। ফখরুল সাহস পাচ্ছে বিদেশ থেকে। আমরা সাহস পাচ্ছি বিদেশী সমীক্ষা এসেছে আগামী নির্বাচনে শতকরা সত্তর ভাগ লোক শেখ হাসিনার পক্ষে ভোট দেবে। আমরা বাংলাদেশের জনগণের সমর্থন থেকে সাহস পাচ্ছি, শেখ হাসিনার মতো সাহসী নেতার নেতৃত্বে।

তিনি বলেন, আমরা কাউকে ভয় করি না। যতক্ষণ জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে ততক্ষণ কোনো ভয় নেই। আল্লাহ পাকও আমাদের সঙ্গে আছে। কারণ আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আছি। আমরা নীতির পক্ষে আছি, গণতন্ত্রের পক্ষে আছি, জনগণের সঙ্গে আছি। বাংলাদেশের মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে, থাকবে।
বিএনপির আন্দোলনে টাকার ছড়াছড়ি হচ্ছে দাবি করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, টাকা পয়সার নতুন চালান আসছে। মালপানি ভালোই। গত ডিসেম্বরের চেয়েও সরবরাহ এখন একটু বেশি। টাকার বস্তার ওপর বসে আছে। ফখরুল টাকা দিয়ে ডিসেম্বরের আন্দোলন হয়নি। ওই টাকার আন্দোলন গোলাপবাগের গরুর হাটের গর্তের মধ্যে চলে গেছে। এখন আবার আন্দোলন?

পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন বিএনপিকে আন্দোলনের সাহস জোগাচ্ছে মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আমরা এটা জানি না। এ খবর হাচা না, মিছা? মিথ্যা কথা আর কত বলবা মির্জা ফখরুল? পশ্চিমা বিশ্বের যারা বাংলাদশে এসেছে, যারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে, বিদেশে বলেছে, দেশে বলেছে, তারা বলেছে বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না। এ কথা আমেরিকাও বলেছে, এ কথা ইউরোপও বলে দিয়েছে। ফখরুল সাহেব কোত্থোকে হাওয়া থেকে মিচা, আজগুবি খবর আনেন?

বিএনপিকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ফাউল করলেই লালকার্ড। লালকার্ড তৈরি হয়ে আছে। আওয়ামী লীগের অ্যাকশন, যুবলীগের অ্যাকশন- ডাইরেক্ট অ্যাকশন। খেলা হবে। ডাইরেক্ট অ্যাকশন চলবে।

‘খালেদা জিয়াকে পঙ্গু করার চেষ্টা করছে সরকার’- বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, খালেদা জিয়াকে ডা. জাহিদ ও পুত্রবধূ ডা. জোবায়দার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা করা হচ্ছে। আমরা ভয়ে আছি বিএনপিতে থাকা ‘আম্মা গ্রুপ’ আর ‘ভাইয়া গ্রুপে’র কোনো অন্তর্ঘাত কি না। সাবধান থাকতে হবে আমাদের। যুবলীগ রাজপথে থাকবে জানিয়ে সংগঠনটির সাবেক চেয়ারম্যান নানক বলেন, যুব সমাজ পরিষ্কার জানাতে এসেছে, রাজপথেই আপনাদের (বিএনপি) কবর রচনা করবে।

বাংলাদেশে যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তি যেন কোনো যড়যন্ত্র করতে না পেরে সেদিকে নজর রাখতে হবে।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, বিএনপি কাকে প্রধানমন্ত্রী বানাবেন, তা তারা জানে না। দেশের মানুষের ঠেকা পড়েছে, একজন পলাতক চোরের কথায় হরতাল পালন করবে। বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর পরিকল্পনা করেছিল জিয়াউর রহমান। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করে চলেছে বিএনপি।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর