Home এক্সক্লুসিভ T২০ বিশ্ব কাপ ২০২২ ফাইনাল এমসিজিতে মুখোমুখি পাকিস্তান- ইংল্যান্ড

T২০ বিশ্ব কাপ ২০২২ ফাইনাল এমসিজিতে মুখোমুখি পাকিস্তান- ইংল্যান্ড

81
0
SHARE

T২০ বিশ্ব কাপ ২০২২ ফাইনাল এমসিজিতে মুখোমুখি পাকিস্তান ইংল্যান্ড। সালেক সুফী নেদারল্যান্ড ক্রিকেট সাগরের অনেক উথাল পাথাল তরঙ্গ পেরিয়ে টি ২০ বিশ্বকাপ ২০২২ পৌঁছেছে শেষ পর্বে। আগামী কাল অস্ট্রেলিয়র ভিক্টোরিয়া রাজ্যের মনোরম শহর মেলবোর্নের আইকনিক এমসিজিতে পসরা সাজিয়ে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ফাইনাল ক্রিকেট জননী ইংল্যান্ড আর চিরদিনের নিশ্চিত ভাবে অনিশ্চিত পাকিস্তান দলের মধ্যে। গুনে ,মানে অভিজ্ঞতটা ,আর টীম রসায়নে দুটি দল সমান ভারসাম্যপূণ। এমনি দুই দলের ক্রিকেট মহারণ জিতে নিতে পারে যে কোনো দল। যদিও ইতিহাসের উদাহরণ তুলে অনেকেই ভাবছেন ১৯৯২ এমসিজিতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ ফাইনালের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। ইমরান খানের কর্নার্ড টাইগারদের মতো এবারেও বাবর আজমের পাকিস্তান জিতে নিতেও পারে টি ২০ বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ড ,পাকিস্তান দুটি দল একবার করে জয়ী হয়েছে টি ২০ বিশ্বকাপ। প্রাক টুর্নামেন্ট বিশ্লেষণে অস্ট্রেলিয়া , ইংল্যান্ড, পাকিস্তান , ভারতকে ফেভরিট ধরা হয়েছিল। কিন্তু প্রথম ম্যাচে শিরোপাধারী স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া বিশাল ব্যাবধানে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে হেরে যাওয়ায় আর শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া আফঘানিস্থাকে বড় ব্যাবধানে পরাজিত করতে বার্থ হওয়ায় চিকে যায় এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নেদারল্যান্ড হারিয়ে দেয়ায় সুযোগ আসে পাকিস্তানের। োর নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে পৌঁছে যায় সেমিফাইনাল। ১৬ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপে ৮ টি দল অস্ট্রেলিয়া , ভারত,নিউজিলণ্ড ,ইংল্যান্ড , দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ সরাসরি সুপার ১২ খেলেছে। বাকি আটটি দল দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ভিক্টোরিয়ার জিলং আর তাসমানিয়ার হোবার্টে খেলেছে কোয়ালিফাইং রাউন্ড। সেখান থেকে ৪ টি দল শ্রীলংকা ,জিম্বাবোয়ে , আয়ারল্যান্ড উঠে এসেছে সুপার ১২। এবারের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় অর্জন আইসিসি সহযোগী দলগুলোর ভয় ডর হীন খেলা। নামিবিয়া হারিয়েছে শ্রীলংকাকে , স্কটল্যান্ড , নেদারল্যান্ড হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। অবশেষে ছিটকে গেছে দুবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সুপার ১২ অনেক ক্রিকেট নাটক দেখতে পায়। আয়ারল্যান্ড হারিয়ে দেয় ইংল্যান্ডকে, নেদারল্যান্ড হারায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে ,জিম্বাবুয়ে হারায় পাকিস্তানকে। নিতান্ত দুর্ভাগ্যের কারণে বাংলাদেশ হারাতে পারেনি ভারতকে। সেমী ফাইনালে পাকিস্তান নিউ জিল্যান্ডকে আর ইংল্যান্ড ভারতকে উড়িয়ে দিয়ে উঠেই এসেছে যোগ্য দুটি দল হিসাবে ফাইনালে। দুটি দল গুনে ,মানে ,রসায়নে সমশক্তির। শাহীন আফ্রিদি, হারিস রউফ , নাসিম শাহ ,ওয়াসিম জুনিয়র, সাদাব খান ,মোহাম্মদ নেওয়াজ হয়তো এগিয়ে আছে বোলিং শক্তিতে ক্রিস ওকস , জর্দান, কুরান , আদিল রাশিদ , লিভিংস্টোন , মঈন আলী থেকে চুলচেরা ব্যাবধানে। একই ভাবে বাটলার ,হেলস , স্টোকস ,মালান , মঈন আলী তেমনি এগিয়ে বাবার আজম , রিজওয়ান, শান মাসুদ , ইফতিখার ,শাদাব খান থেকে। ইংল্যান্ডের সুবিধা ওদের ১১ জন মোটামুটি ব্যাটিং করে। পাকিস্তান ব্যাটিঙে লেজ আছে. পাকিস্তানের সুবিধা হলো শেষ মুহূর্তে জ্বলে উঠেছে। একই ভাবে যেভাবে ভারতের বিরুদ্ধে রুদ্র মূর্তি নিয়ে খেলেছে ইংল্যান্ড তাতে ওদের পিছিয়ে রাখা যাবে না. দুটি সময় শক্তির দলের তুমুল লড়াই হবে. কিছু কিছু মানুষ ১৯৯২ ইমরান খানের দলের সঙ্গে বাবর আযমের দলের সাদৃশ্য দেখছেন। সেবারেও কিন্তু পাকিস্তান গ্রুপ পর্যায় থেকে ছিটকে যেত যদি না ইংল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত না হতো. সেবারেও পাকিস্তান সেমী ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল উড়তে থাকা নিউ জিলান্ডকের। ইনজামাম নামের এক তরুণ মারকাটারি ব্যাটিং করে জয় এনে দিয়েছিলো পাকিস্তানকে। সেবারেও ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ইংল্যান্ড। তরুণ ওয়াসিম আকরামের দুটি ইনসুইং বল ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছিলো। এবারেও কিন্তু পাকিস্তান দলে আছে ওয়াসিম আকরামের মতো বোলিং করা শাহীন শাহ আফ্রিদি। আছে মোহাম্মদ হারিস , শাদাব খানের মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান। বাজির ঘোড়া হয়তো কিছুটা পাকিস্তানের অনুকূলে। কিন্তু ইংল্যান্ড জয়ী হলেও বিস্মিত হবো না।

image_print