1

দেশে ক্যান্সার চিকিৎসায় সরকারের এক যুগান্তকারী উদ্যোগ

মোঃ মাইদুল ইসলাম প্রধান।।

বিষয়টি এখন সবাই জানে, একটি পরিবারে ক্যান্সার আক্রান্ত একজন রোগী থাকা মানেই সেই গোটা পরিবারটিরই চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন করতে করতে হত দরিদ্র পরিবারের কাতারে চলে যাওয়া। অনেক ভালো চিকিৎসার পরও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অত্যন্ত দুঃখপিতাভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিটি শেষমেশ মারাই যান। আর, আক্রান্ত পরিবারটি একদিকে সীমাহীন পারিবারিক কষ্টে থাকে, অন্যদিকে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে গোটা পরিবারটিই দিশেহারা ও বেসামাল হয়ে পড়ে।

সত্যিকার অর্থেই চিকিৎসাক্ষেত্রে ক্যান্সার একটি ভীতিপিতা রোগের নাম। এই রোগটি শরীরে বাসা বাঁধলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ে। একেবারে শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ার কারণে বেশিরভাগ রোগীই মারা যান। অথচ আক্রান্ত হবার শুরুতেই যদি পরীক্ষার মাধ্যমে রোগটি নির্ণয় করা সম্ভব হয় তাহলে খুব অল্প খরচে অধিকাংশ রোগীই সুস্থ হতে পারে।

বড়ো একটি সমস্যা হচ্ছে, দেশে মোটামুটি ভালোমানের ক্যান্সার চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় এরকম হাসপাতাল আছে খুব হাতে গোনা অল্প কিছু। এই হাসপাতালগুলির অধিকাংশই ঢাকা কেন্দ্রিক হওয়ায় দিন দিন রোগীর চাপ বেশি হচ্ছে এবং রোগীরা ক্যান্সার চিকিৎসা করতে বিদেশমুখী হয়ে র্অনৈতিকভাবে নিঃশ্ব হয়ে যাচ্ছেন। দেশে বেসরকারি কিছু হাসপাতালে মানসম্মত ক্যান্সার চিকিৎসা দেওয়া হলেও তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় দেশের অধিকাংশ মানুষ এসব হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারেনা।

অন্যদিকে, পরিসংখ্যান বলছে দিন যতই যাচ্ছে দেশে ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা ততই বেড়ে চলেছে। প্রতিবছর গড়ে দেড় থেকে দুই লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং এদের মধ্যে এক থেকে দেড় লাখ আক্রান্ত মানুষই এই রোগে ধুকে ধুকে মারা যাচ্ছে। অন্যদিকে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে বছরে বছরে এই বিরাট সংখ্যক পরিবারগুলি নিঃস্ব ও দরিদ্র হয়ে যাচ্ছে।

আর্ন্তজাতকি সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্স অন ক্যান্সার (আইএআরসি) এর সাম্প্রতকি প্রকাশতি অনুমিত হিসেব অনুযায়ী বাংলাদশে প্রতিবছর এক লাখ পঞ্চাশ হাজার মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এর মধ্যে মারা যায় এক লাখ আট হাজার এবং এই সংখ্যা প্রতিবছর বেড়েইে চলছে। এই সংস্থার মতে বাংলাদশে ক্যান্সার আক্রান্তের হার প্রতি লাখে ১০৫.৭ এবং মৃত্যুহার প্রতি লাখে ৭৭.১।

অনানুষ্ঠানিক অন্য এক জরিপে দেখা গছে, এই অনুমিত ক্যান্সার রোগীদরে এক তৃতীয়াংশ দেশের স্বীকৃত চিকিৎসা সেবার আওতায় আসে। বাকিদরে একটা বড়ো অংশ বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছে কিংবা নানা অবৈজ্ঞানিক ব্যবস্থার আশ্রয় নিচ্ছে। ফলে ক্যান্সার নির্নয় ও চিকিৎসা সেবার বাইরে থেকে যাচ্ছে বিপুল সংখ্যক রোগী। গত দুই দশকে দেশে সরকারি খাতে ক্যান্সার চিকিৎসার আধুনকি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তরি সন্নিবেশ ঘটেছে লক্ষণীয়ভাব। ঢাকার মহাখালীস্ত জাতীয় ক্যান্সার গবষেণা ইনস্টটিউিট ও হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা প্রথমে ৫০ থেকে ৩০০ তে উন্নীত করা হয়েছে এবং এর পর আরো ৫০০ শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে যেখানে রেডিথেরাপির আধুনকি যন্ত্রপাতি সংযুক্ত হয়ছে।

ঢাকা মেডিকেল কলজে ও ঢাকার বাইরে বগুড়াতে শহীদ জয়িাউর রহমান মেডিকেল কলজে হাসপাতালে রেডিওথেরাপির সর্বাধুনিক লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন সংযুক্ত হয়ছে।পুরাতন ৮টি বিভাগীয় মেডিকেল কলজে হাসপাতালে র্পুণাঙ্গভাবে সবগুলিতে ক্যান্সার বিকিরণ চিকিৎসা, কেমোথেরাপির ব্যবস্থা চালু নেই। বেসরকারিখাতে কয়েকটি বড়ো হাসপাতালে রেডিওথেরাপিসহ ক্যান্সার চিকিৎসা চালু হয়ছে, যেখানে অনেক স্বচ্ছল রোগী চিকিৎসা নিতে পারছেন যা সাধারণ মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তির নাগালে বাইরেই রয়ে গেছে। একমাত্র জাতীয় ক্যান্সার গবষেণা ইনসটিটউিট ছাড়া সরকারি-বেসরকারি কোন বিশেষায়িত ক্যান্সার সেবা প্রতষ্ঠিান গড়ে ওঠেনি। এখন র্পযন্ত ক্যান্সার চিকিৎসাব্যবস্থা রাজধানী কেন্দ্রিক। তাই সরকারিভাবে চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়। উপরন্তু ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী সামর্থ না থাকলেও বাধ্য হয়ে বিদেশি কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনেক পরিবার নিঃশ্ব হয়ে যাচ্ছে। ক্যান্সার নির্নয় ও চিকিৎসা সুবিধা রাজধানী কেন্দ্রিক হওয়ায় এবং ক্যান্সার রোগ সর্ম্পকে জনগণের অজ্ঞতা, অসচতেনতায় রোগ নির্নয় বিলম্বতি হয়, ফলে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসায় আশানুরূপ ফল পাওয়া সম্ভব হয় না।

দক্ষিণ র্পূব এশিয়ায় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্সার নির্নয়ের এক বছররে মধ্যে শতকরা প্রায় পঁচাত্তর ভাগ রোগী মারা যায়, কিংবা ভয়াবহ আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়। এমতাবস্থায়, দেশের অধিকাংশ মানুষের ভৌগলিক ও আর্থিক অবস্থার নাগালের মধ্যে ক্যান্সার সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ প্রয়োজন। ক্যান্সার রোগীর সঠিক পরিসংখ্যান এবং জনগোষ্ঠিভিত্তিক বা পপুলশেনভিত্তিক ক্যান্সার রেজিস্ট্রির মাধ্যমে ক্যান্সারে আক্রান্তের হার, মৃত্যুহারসহ গুরুত্বর্পূণ উপাত্ত পাওয়া সম্ভব, যা সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে সহায়ক ভূমকিা রাখতে পারে। ২০০৪ সালে জাতীয় ক্যান্সার গবষেণা ইনস্টটিউিট হাসপাতালে ও ১৯টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার নিবন্ধন কার্যক্রম স্বল্পপরসিরে শুরু হয়ছে। কিন্তু জনগোষ্ঠীভিত্তিক ক্যান্সার নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয়া ছাড়া উল্লিখিত তথ্য-উপাত্ত পাওয়া সম্ভব নয়।

ক্রমান্বয়ে ক্যান্সার চিকিৎসায় একদিকে ঢাকার উপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমানোর তাগিদ, অন্যদিকে এই ক্যান্সার চিকিৎসায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে দরিদ্র হয়ে যাওয়া ঠেকানোর বিষয়টি সরকারের মাথাব্যাথা হয়ে দেখা দেয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী জাহিদ মালেক ২০১৮ সালে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্যান্সার চিকিৎসায় দেশব্যাপী চিকিৎসাসেবা ছড়িয়ে দেবার উদ্যোগ গ্রহণ করতে নির্দেশনা দেন। মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উঠেপড়ে লাগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ক্যান্সার চিকিৎসায় গুরুত্ব অনুধাবন করে দেশের ৮টি বিভাগেই ৮টি ১৫ তলা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়। ক্যান্সারের পাশাপাশি সেখানে কিডনি, লিভার এবং ডায়ালাইসিস সুবিধা রাখার জন্যও আলাদা ব্যবস্থা রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ক্যান্সার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অবশেষে জুলাই, ২০১৯ থেকে প্রকল্প আকারে বাস্তবায়ন করতে কাজ শুরু হয়। কাজ শেষ করা বা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সময় নির্ধারণ করা হয় জুন ২০২২ পর্যন্ত। প্রকল্পটি গত ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অনুমোদিত হয় এবং ১১ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে প্রকল্পটি প্রশাসনিক অনুমোদন লাভ করে। প্রকল্পটির সার্বিক উদ্দেশ্যে হচ্ছে-সারা দেশে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত বিশাল জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসা সেবার আওতায় আনা;সূচনাতেই ক্যান্সার রোগ নির্ণয় এবং সময়মত ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা; ক্যান্সার চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ ও বিকেন্দ্রীয়করণরে মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসা সেবার আওতায় আনা;ক্যান্সার চিকিৎসা সেবায় বৈদেশিক নির্ভরতা কমিয়ে আনা, পক্ষান্তরে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করা;ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে Out of Pocket Expenditure দেশে ক্যান্সার চিকিৎসা সেবা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা।

সর্বোপরি আট বিভাগে ৮টি উন্নত মানের ক্যান্সার, কিডনী, লিভার চিকিৎসা হাসপাতাল নির্মাণ নিঃসন্দেহে সরকারের একটি সূদুরপ্রসারি ও ফলপ্রসূ চিন্তার ফসল হয়ে দেখা দিবে বলে দেশের বিজ্ঞজনেরা মনে করছেন। হাসপাতালগুলি নির্মাণ কাজের অগ্রগতি এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আজ ৯ জানুয়ারি, ২০২২ তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালগুলির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছেন। আশা করা যাচ্ছে, নির্ধারিত সময়েই হাসপাতালগুলি কার্যক্ষম হয়ে উঠবে। হাসপাতালগুলির প্রতিটিতেই প্রথম অবস্থায় অন্তত ১০০টি করে ক্যান্সার শয্যার মাধ্যমে চিকিৎসা সেবারব্যাবস্থা থাকবে। এর পাশাপাশি সমহারে কিডনি, লিভার চিকিৎসার জন্যও শয্যা থাকবে। এগুলি প্রস্তুত হয়ে গেলে ক্যান্সার চিকিৎসায় ঢাকার উপর চাপ অনেকাংশই কমে যাবে বলে বিশেষজ্ঞগণ মনে করছেন। সাধারণ মানুষজন ঢাকায় এসে চিকিৎসা করাতে অতিরিক্ত টাকা খরচ করার পাশাপাশি চিকিৎসা সংক্রান্ত ভোগান্তির হাত থেকেও বেঁচে যাবেন। হাসপাতালগুলি চালু হলে একদিকে দ্রুততার সাথে রোগটিকে প্রথম পর্যায়েই নির্ণয় করা যেমন সহজ হবে, অন্যদিকে চিকিৎসা সেবায় জটিল ও ভীতির এই রোগটির চিকিৎসায় দেশের প্রান্তিক মানুষ অনেকটাই স্বস্থির শ্বাস নিতে শুরু করবে।

লেখক- জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়

১৩.০২.২০২২ পিআইডি ফিচার




বাড়ির পাশেই ড্রাগন

আফরোজা নাজনীন।।

 

একসময় শুধু ধান-পাট ও দেশী ফল চাষ করেই জীবন যাপন করতো গ্রামের মানুষ, কিন্তু সময় পাল্টেছে এখন। হাঁটছে মানুষ ভিন্ন পথে। মানুষ এখন হাত বাড়িয়েছে অন্য দেশের দিকে। সম্পন্ন চাষীরা এখন বিদেশি ফল উৎপাদনে পারদর্শী হয়ে উঠেছে। তারা বাড়ির পাশেই গড়ে তুলছে বিদেশিফলের বাগান। সে ধারাবাহিকতায় ড্রাগন এখন পরিচিত ফল হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে গ্রাম বাংলায়।

 

ঢাকার অদূরে সাভারের ওয়াসপুরের ষোলমাসী গ্রামের সালেহা বেগম, তার বাড়ির পাশে দু’কাঠা জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করছে। সালেহা বলেন, ‘প্রথম আমার এক বিদেশফেরত আত্মীয় আমাকে ড্রাগন চাষে উৎসাহিত করেন। আমি একেবারে উঠোনের পাশে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করি। বেশ ফল ধরে। সুমিষ্ট ফলগুলো শিশুরা খুব পচ্ছন্দ করে। আমি উৎসাহিত হয়ে বেশি জমিতে এ ফলের চাষ শুরু করি।’

 

সরজমিনে সালেহার বাগান ঘুরে দেখা যায়, একেবারে লতার মতো সবুজের ঘেরে ড্রাগন ধরেছে। প্রায় পাঁচফুট উচ্চতার খুঁটিতে পেঁচিয়ে উঠেছে ড্রাগন ফলের গাছ। সালেহা জানান চারা রোপনের তিনমাসের মাথায় ফল ধরে। এবছর ফল বাজারজাত করে তিনি এক লাখ টাকা লাভ করেছেন।

 

শেরপুরেও ড্রাগন ফলের চাষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে খুব তাড়াতাড়ি। শেরপুরের নকলার রবিনা আলি এখন ড্রাগন চাষ করে সয়ংসম্পূর্ন। আইএ পাশ রবিনা শুরুতে একটা চাকরির জন্য চেষ্টা করে। কিন্তু সফল হয়নি। তারপর বন্ধুদের পরামর্শে ড্রাগন ফলের চাষে ঝোঁকে। আগে সে লাল শাক, টমেটো, বেগুন চাষ করতো। ড্রাগন চাষে লাভবান হওয়ায় অন্য সব চাষ বাদ দিয়েছে। রবিনা শুরুতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট উদ্ভাবিত লালবারী-১ জাতের ৪৫০টি চারা রোপন করে। এক বছরের মধ্যে ফল ধরে। রবিনা জানান, ড্রাগন উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে কম। ড্রাগন গাছে সামান্য জৈব সার দিলেই চলে, রাসয়নিক সারের তেমন প্রয়োজন হয়না। প্রয়োজন হয়না কীটনাশকেরও। মাসে একবার ছত্রাক নাশক ছিটাতে হয়। শীতকালে রোদের জন্য আলোর ব্যবস্থা করতে হয়। একবার রোপন করলে টানা ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত ফল ধরে। একটি গাছ থেকে প্রতি বছর ২৫ থেকে ৩০ কেজি ফল পাওয়া যায়।

 

বাওসা গ্রামের চাষি পারুল বেগম জানান, তার বাগানে ৮০টি গাছ রয়েছে। ড্রাগন চাষে সময় কম লাগে। বাড়তি ব্যয় নেই। সংসারে বাড়তি আয় হয়। ফলে ড্রাগন ফলের চাষ লাভজনক।

 

শেরপুরের রোহা গ্রামের মেয়ে শেফালী ড্রাগন চাষেই নিজের জীবিকা খুঁজে পেয়েছেন। বাবা-মা মারা গেছেন ছোট বেলায়, নানীর কাছে মানুষ হওয়া শেফালীর বয়স এখন আঠেরো বছর। শেফালী যে বাগানে কাজ করেন, সেখানে ড্রাগনসহ অন্য ফলের চাষ হয়। তবে শেফালী অন্য ফল নয়, ড্রাগন ফলের পরিচর্যা করেন। এ বাগানের মালিক হযরত আলী। তার রয়েছে এক’শ বিঘা জমি। এ জমিতে ড্রাগন, মাল্টা, কমলা, আঙ্গুর, খেজুর ও বিভিন্ন দেশিফল বাণ্যিজিকভাবে চাষ করা হয়।

 

শেফালী জানান, এ ফলে ফরমালিন ও ক্ষতিকারক কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না বলে এর চাহিদা বেশি। নকলা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ জানান, এ এলাকার কৃষকদের ড্রাগন চাষে উৎসাহিত করতে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ দেন। বাড়ির আঙ্গিনা ও ফেলে রাখা জমিতে এ ফলের চাষ করে তারা লাভবান হচ্ছেন।

শুরুতে ২০১২ সালে জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টার নকলায় ৩২০ জন নারী-পুরুষ কৃষককে কাটিংকৃত চারা সরবরাহ করে। তাদের প্রশিক্ষণ দেয়াসহ বিনাখরচে প্রয়োজনীয় উপকরণও সরবরাহ করে। প্রতি বছরই প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষকদের সাহায্য করা হয়।

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ির উপ-পরিচালক ড. মোহিত কুমার দে বলেন, ২০১২ সালে নকলায় ড্রাগন চাষ শুরু হয়। পরে তা বাণিজ্যিক চাষে রূপ নেয়। কৃষিবিভাগ থেকে, কৃষকদের সব ধরণের টেকনিক্যাল সার্পোট দেয়া হয়।

 

বগুড়ার আদম দীঘি উপজেলার কুন্দ গ্রামের চাষী সুফলা দে তার ১৫ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করেন। শুরুতে স্বামী মনিলাল দে তার সঙ্গে ছিলেন। এখন তিনি কিডনিজনিত রোগে ভুগছেন, তাই কায়িক পরিশ্রম করতে পারেন না। এবার তাদের প্রতি বিঘাতে খরচ পড়েছে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। সুফলা সাংবাদিকদের কাছে বলেন, কৃষিবিভাগ যদি সহজ শর্তে ঋণ দেয় তবে আরো বেশিসংখ্যক মানুষ ড্রাগন চাষ করবে। সুফলা আরো জানান, সব ধরণের মাটিতে ড্রাগন চাষ হয়। তবে উচুঁজমিতে ভালো ফলন হয়। তিন মিটার পর পর চারা রোপন করতে হয়। বছরের যেকোনো সময়ে চারা রোপন করা যায়। তবে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে হলে ফলন ভালো হয়। প্রতিটি ফলের ওজন ২’শ থেকে ৬’শ গ্রাম। একটি গাছে সর্বোচ্চ ৮০টি ফল ধরে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিঠু চন্দ্র বলেন, সুফলাদের বাগান অন্যদের উৎসাহ দিচ্ছে। কৃষিবিভাগ তার চাষের নজরদারি করছে।

 

বেশকয়েক বছর যাবতই গ্রামীন অর্থনীতি পাল্টে যাচ্ছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রযুক্তিসহ চাষের ধরণ ধারণ পাল্টে গেছে। ফসল নির্বাচনেও কৃষকরা সচেতন হচ্ছে। তারা লাভজনক ফসলের দিকেই ঝুঁকেছেন এখন। সে পথ ধরেই কৃষকদের সামনে ড্রাগন এখন প্রধান অর্থকরী ফসলের একটি হয়ে উঠেছে।

 

ঝালকাঠির রাজাপুরের শুক্তাগড় ইউনিয়নের সাংগর গ্রামে ড্রাগন চাষের জোয়ার লেগেছে। এ গ্রামের মেয়ে আনিসা বেগমের বিয়ে হয়েছিল দশ বছর আগে এগারো বছর বয়সে। আট বছর পর স্বামী মারা যায় হার্টের সমস্যায়। আনিসা ফিরে আসে বাবার বাড়ি। কিছুতো করতে হবে। সেই চিন্তা থেকে ও দশ জনের পরামর্শে ড্রাগন চাষে ঝুঁকে পড়ে। শুরুতেই ঝুঁকি নিয়ে আনিসা বাবার কাছ থেকে পাওয়া দুই বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেন। তার সঙ্গে আরো দুজন রয়েছেন। তারা দুই হাজার ড্রাগন চারা রোপন করেন। আনিসা মনে করেন, মাটি ও আবহাওয়া অনুকুল বলে ফলন ভালো হবে।

 

রাজাপুর উপজেলার কৃষিকর্মকর্তা মোহম্মদ রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর বলেন, নতুন অর্থ বছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি লাভ হবে বলে তারা আশা করছেন। এখানকার মাটি ফল চাষাবাদের জন্য বেশি উপযোগী বলে, এখানকার কৃষকরা নতুন নতুন ফলের আবাদ করছে। তিনি আরও বলেন, ড্রাগন ফল দেশের চাহিদা মিটিয়ে অচিরেই বিদেশ রপ্তানি করা যাবে। সেই সুদিনের অপেক্ষায় রইলাম আমরা।

 

আফরোজা নাজনীন, সনিয়ির রপর্িোটার, দনৈকি আলোকতি বাংলাদশে।

 

পআিইড-ি শশিু ও নারী উন্নয়নে সচতেনতামূলক যোগাযোগ র্কাযক্রম (৫ম র্পযায়) প্রকল্প র্কাযক্রম।




শিশু সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন সংস্কার কেন আবশ্যক

অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ।।

আন্তর্জাতিক মানদন্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশে শিশু আইন ২০১৩ এর ৪ ধারা অনুযায়ী ১৮ বছর পর্যন্ত সকলকে শিশু হিসেবে গণ্য করা হয়। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন প্রদান শিশুদের পরিপূণ বিকাশ, তাদের শিক্ষাগ্রহণ প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যতে সুনাগরিক হিসেব গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বিশেষ অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর ‘শিক্ষার স্তর নির্বিশেষে বিশেষ কয়েকটি পদক্ষেপ’ অধ্যায়ে ১০ ধারায় বলা হয়েছে: ‘‘শিক্ষার কোনো স্তরেই শিক্ষার্থীরা যেন কোনোভাবেই শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের মুখোমুখি না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।” জাতীয় শিক্ষানীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষার সকল স্তরের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর জন্য আচরণবিধি তৈরী করা হবে। তবে নীতিমালার এক দশক অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কোনো পদক্ষেপ দৃষ্টিগোচর না হওয়ায় দুখ:জনক।

 

উল্লেখ্য, শিশু আইন, ২০১৩ এর ৭০ ধারা অনুসারে শিশুর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিসাধন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব আইন ও নিয়ম-নীতি থাকার পরেও যথাযথ প্রয়োগ ও সচেতনতার অভাবে বাস্তব চিত্র অনেকটাই ভিন্ন, এবং করোনা পরিস্থিতিতে ও পরবতী অবস্থায় তা আরো সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। এই অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণে আইনের সংস্কার যে আবশ্যক, তা এ লেখাটির মূল আলোচ্য বিষয় ।

 

২০২০ সালে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সম্পর্কিত এক বৈশ্বিক প্রতিবদেনে দেখা যায় বিশ্বে বছরব্যাপী প্রায় ১০০ কোটি শিশু শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই প্রতিবেদনের আওতায় করা জরিপ থেকে দেখা যায় এক মাসে দেশে ১ থেকে ১৪ বছরের ৮৯ শতাংশ শিশুকেই শৃঙ্খলার নামে নির্যাতন করা হয়েছে। ২০১৬ সালে ব্লাস্টের এক গবেষণায় দেখা যায়, দেশের ৬৯% অভিভাবক মনে করেন নিয়মানুবর্তিতার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের শাস্তি দেয়া প্রয়োজন, ৫৫% মনে করেন শিশুদের সুপথে নিতে শাস্তি সহায়ক। ২৭% মনে করেন শাস্তি না দিলে শিশুরা বখে যায় এবং ২৫% মনে করেন শাস্তি দিলে শিশুরা শিক্ষকদের কথা শুনবে।

 

এই করোনাক্রান্তিকালে দেশের বেশিরভাগ স্কুল বন্ধ থাকার সময় শিশুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন কমেনি, বরং ক্ষেত্রবিশেষে বেড়েছে। বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে শিশুর প্রতি বৈষম্য ও নির্যাতনের হার আরো বেড়ে যাওয়ার কারণ করোনা হতে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দা ও সমাজব্যবস্থায় পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির আয় কমে যাওয়ায় অথবা আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশুর প্রতি আচরণে এসময় অসহিষ্ণুতা বেড়েছে কয়েকগুণ। এছাড়াও করোনা পরিস্থিতি কারণে জাতীয় বাজেট ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর ওপর চাপ বাড়ায় শিশু নির্যাতন বন্ধের উদ্যোগ আরো বাধার সম্মুখীন হয়।

শিশু অধিকার সনদ, ১৯৮৯ এর ৩(১), ১৯(১), ৩৭(১), ৩৭(২) ও ৩৭(৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শিশুদের শারীরিক শাস্তি প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ, ১৯৬৬ এর অনুচ্ছেদ ৭ এ সকল প্রকার নিষ্ঠুর ও মর্যাদাহানীকর আচরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সনদ দুটিতে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শিশুদের প্রতি নির্যাতন বন্ধে অঙ্গীকারবদ্ধ। এরই অংশ হিসেবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ ও শিশু আইন, ২০১৩ তে শিশুদের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ২০১১ সালে ব্লাস্ট এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র কর্তৃক যৌথভাবে দায়েরকৃত একটি জনস্বার্থ মামলার রায়ে বলা হয়েছে, শিক্ষক দ্বারা শিক্ষার্থীদের প্রতি শারীরিক শাস্তি এবং নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অপমানকর আচরণ সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩২ ও ৩৫(৫) নং অনুচ্ছেদে প্রদত্ত শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকারগুলো লঙ্ঘন করে। এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতন বন্ধের উদ্দেশ্যে ২০১০ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র এবং ২০১১ সালে সরকার একটি নীতিমালা জারি করে।

 

কিন্তু এসব ইতিবাচক আইন ও নীতিমালা থাকলেও আইনের প্রয়োগ ও সচেতনতার অভাবে শিশুর প্রতি নির্যাতনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। করোনার জন্য স্কুলগুলো বন্ধ থাকার সময় জনসমক্ষের আড়ালে বাড়িতেই শিশুরা বেশি নির্যাতিত হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে শিশুর প্রতি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১১৯৯টি। এ সাত মাসে খুন হয়েছে ৩৬৫ শিশু। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা এবং নেতিবাচক মানসিকতার কারণেও শিশুর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। এক্ষেত্রে শিশু আইন, ২০১৩ এর ৭০ ধারাটির প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। প্রথমত, এই আইনের ব্যাপারে সচেতনতার অভাব। দ্বিতীয়ত, করোনা পরিস্থিতিতে পরিবারে শিশুর প্রতি নির্যাতন বন্ধের ক্ষেত্রে আইনটির প্রয়োগ না থাকা। তৃতীয়ত, নির্যাতনের কারণে শিশুর মনে যে নেতিবাচক মানসিক প্রভাব পড়ে তা উক্ত ৭০ ধারার আওতায় প্রমাণ করা খুবই কঠিন।

 

করোনা-পূর্বকালে এবং বর্তমানেও, অনেক বাবা-মা শিশুদের মারধর করেন। অথচ শিশুদের আত্মসম্মানবোধ ও মারধরের কারণে তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি তারা অনুধাবন করেন না। শিশুদের সংশোধনে বিকল্প ব্যবস্থার ব্যবহার জানা দরকার যা বিশ্বের বহু দেশের শিক্ষক ও বাবা-মায়েরা করতে অভ্যস্ত। শিক্ষার্থীদেও শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেওয়া যাবেনা, এ কথা শিক্ষকদের নিয়োগপত্রে ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালে উল্লেখ থাকা দরকার। আবার কোনো শিক্ষক অথবা শিক্ষা ব্যবস্থাপক বিধিবহির্ভূত অসঙ্গত আচরণ করলে তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ বক্স স্থাপনের কথা বলা হলেও সেটা প্রকাশ্য স্থানে অনেক জায়গায় নেই।

 

বর্ণিত পরিস্থিতিতে করোনাক্রান্তিকালে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সকল পর্যায়ে শিশুর প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধে শিশু আইনের ৭০ ধারার সংস্কার করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আইনে দুর্যোগকালীন সময়ে শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা যেমন বিবেচনায় আনতে হবে, তেমনি শিশুর প্রতি লঘু শাস্তি প্রদানকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সর্বোপরি শিক্ষক ও অভিভাবকদের এই আইন ও আইনের বিদ্যমান ধারাসমূহের ব্যাপারে সচেতন করতে হবে।

 

এ দিকে দেশের সব স্কুল-কলেজ মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধে হাইকোর্ট ৪ নভেম্বর ২০২১ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন । প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, শিশু আইনের মূল লক্ষ্য নির্যাতনকারীকে শাস্তি প্রদান নয়, বরং কোনো শিশু যেন নির্যাতনের শিকার না হয় তা নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে নির্যাতনকারীর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবার পাশাপাশি সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

 

লেখক:

অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর অন্যতম প্রণেতা ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে গঠিত কোয়ালিশনের আহ্বায়ক।

 




সমুদ্র আর ভূমিতে ভালো- অবৈধ অর্থ ও অস্ত্রে লাগাম টানো

এসডিজি বিষয়ক বিশ্লেষণধর্মী বিশেষ প্রতিবেদন-২

আফজাল হোসেন লাভলু।।এসডিজি ১৬ বাস্তবায়নে সরকার সমুদ্র শাসনে আর অবৈধ ভূমিতে উদ্বারে ভালো কাজ করছে অন্যদিকে অবৈধ অর্থ ও অস্ত্র বন্ধে এখনই কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় এসডিজিতে সরকারের অব্যাহত সফলতা কোনো কাজে আসবে না। অভিষ্ট ১৬ এর ৪ নাম্বার সূচক বিশ্লেষনে দেখা যায়, সমুদ্র জয়, বেখল হওয়া সরকারি সম্পত্তি উদ্বারে সরকার সফল হলেও অর্থ পাচার ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রনে এখনো লাগামহীন অবস্থা। এই অবস্থা উত্তরণে সরকারের আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এসডিজি বিষয়ক জাতীয়,আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এসব জানা গেছে।

শুরুটা ১৯৮৭ সালে। ব্রুটল্যান্ড কমিশন রিপোর্টে প্রথম টেকসই উন্নয়নের কথা আলোচনায় আসে। ২০০০ সালে এসে ‘মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল’ বা এমডিজি তৈরি হয়। শেষ হয় ২০১৫ সালে। বাংলাদেশ সেখানে ৮টি ক্ষেত্রে সফলতা লাভ করে। ধরিত্রির জন্য টেকসই উন্নয়ন নিয়ে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো ২০১৬ সালে তৈরি করে ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল’ বা এসডিজি। সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য ও ১৬৯ টার্গেট পূরণ করতে হবে। এরই মধ্যে কেটে গেছে পাঁচ বছর। চার বছর আগে অর্থাৎ ২০১৭ সালের সূচকে ১৫৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছিল ১২০তম অবস্থানে। ২০১৫ সালের পর থেকে এসডিজি সূচকে স্কোরের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে বাংলাদেশ। এসডিজি সূচকে ১শ’র মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ৬৩.৫। এক বছর আগে এই স্কোর ছিল ৬৩.২৬, তার আগের বছর ছিল ৬৩.০২। জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) চলতি বছরের জুন মাসে তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এসডিজির ১৭ টি অভিষ্টের মধ্যে অভীষ্ট ১৬তে বলা হয় শান্তি, ন্যায়বিচার এবং কার্যকর প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তিপুর্ন ও অন্তভুক্তিমূলক সমাজ ব্যবস্থার প্রচলন, সকলের জন্য ন্যায়বিচারের পথ সুগম করা এবং সকলস্তরে কার্যকর, জবাবদিহিপূর্ন অন্তভুক্তিমূলক প্রতিষ্টান বিনির্মানের কথা। এই অভিষ্টের অন্তর্গত সূচক ৪ এ বলা হয় ২০৩০ সালের মধ্যে অবৈধ অর্থ ও অস্ত্র প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো, অপহৃত সম্পদের পুনরুদ্ধার ও প্রত্যার্পণ প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং সকল প্রকার সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবেলা করার কথা। এসডিজির এই সুচকে অনেকগুলো বিষয় এক সাথে নির্ধারিত ২০৩০ সালের মধ্যে করতে হবে। যার জন্য বৈশি^ক ঐক্যমত ও প্রতিবেশি দেশগুলোর সহযোগীতা প্রয়োজন হবে। অবৈধ অস্ত্রউদ্বার করতে আইন শৃংখলা বাহিনীর তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষতঃ গত পাঁচ বছরে উগ্রবাদ ও চরমপন্থী দমনে আইন শৃংখলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। অবৈধ অর্থ লেনদেন চালু রয়েছে, অন্যদিকে সরকার আন্তর্জাতিক আদালতের মামলায় ভারতের কাছ থেকে সমুদ্র সীমানা উদ্বার। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অর্পিত সম্পত্তি, বাংলাদেশ রেলওয়ে বে-দখল হওয়া সম্পত্তি, অবৈধভাবে নদী-খাল দখল সহ সরকারি খাস সম্পত্তি উদ্বার করে সরকার সফলতার পরিচয় দিয়েছে।

অর্থ পাচারঃ লাগাম ছাড়া ঘোড়া

বেশ কিছু কারণে আর নতুন নতুন পদ্বতি ব্যবহার করে দেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার হয়ে থাকে। ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদরা ছাড়াও বিদেশিরা ও বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার করে। ঠিক কবে থেকে টাকা পাচার শুরু হয়েছে তার কোন গবেষণা ও তথ্য না থাকলেও ধরে নেয়া হয় বিদেশে ছেলে-মেয়েদের স্থান করে দেয়ার প্রবণতা থেকে, ৭০-এর দশকে অর্থপাচার শুরু হয়। আর সর্বশেষ পদ্বতি হিসেবে ই কমার্সের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করা হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এর গবেষণা প্রতিবেদন মতে, বিদেশিরা বছরে পাচার করে ২৬ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) বাংলাদেশ থেকে বছরে গড়ে ৬৪ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যায়। প্রতিবেদনে বলা হয় বাংলাদেশের মোট বানিজ্যের প্রায় ১৯ শতাংশ কোন না কোনভাবে বিদেশে পাচার হয়। সে হিসেবে ২০১৬ থেেক ২০২০ সাল র্পযন্ত পাঁচ বছরে পাচার হয়েেছ তিন লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। ওভার ইনভয়েসিং আর আন্ডার ইনভয়েসিং এই দুটি উপায়ে অর্থ পাচারের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। চলতি বছরের ২০ অক্টোবর আদালতে দেয়া এক তদন্ত প্রতিবেদনে ১২ ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩১০ কোটি ৮০ লাখ ১৪ হাজার ৭৪৮ টাকা বিদেশে পাচারের তথ্য জানায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ছাড়া ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার বিষয়ে বলা হয়, অজ্ঞাত হ্যাকাররা ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছিল। তার মধ্যে ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কা থেকে ৩৪ দশমিক ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উদ্ধার করা হয়েছে। দুটি দেশেই অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছে এবং মামলা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। পরিস্থিতি এতোটাই লাগাম চাড়া যে, সম্প্রতি দেশের উচ্চ আদালত অর্থ পাচারের তথ্য চেয়ে রুল জারি করে। আদালত বলে, পানামা পেপারস ও প্যারাডাইস পেপারসে কাদের নামে এসেছে, অন্তত সেই নামগুলো আমরা জানতে চাই। তবুও লাগামহীন ঘোড়ার মত চলছে অর্থ পাচার।

বাংলাদেশ সরকার ২০০২ সালে মানিলন্ডারিং আইন এবং ২০১২ সালে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন পাশ করে। এই আইনে ২৮টি উপায়ে অর্থ ও সম্পত্তি অর্জন বা সম্পত্তি স্থানান্তর কে অপরাধ বলা হয়েছে। আইনে উল্লেখিত এ সকল অপরাধের জন্য চার থেকে বার বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং দশ থেকে বিশ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আইনে বাংলাদেশ ব্যাংককে ক্ষমতা প্রদান করে, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সশিয়াল ইেেন্টলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) গঠন করা হয়েছিল। বিএফআইইউ ২০১৯-২০২০ সালে অর্থ পাচারের ১১৬টি ঘটনা চিহ্নিত করে। আইনি জটিলতা, তদন্তে দীর্ঘসূত্রীতা, আদালতে আসামি পক্ষের সময়ক্ষেপণ, সমন্বয়ের অভাব এবং উচ্চ আদালতে স্থগিতাদেশ থাকা সহ নানা জটলিতার কারণে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনা যায় না। ফলে সরকার ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর সরকার ‘মানিলন্ডারিং প্রিভেনশন অ্যাক্ট সংশোধন করে দুদকসহ মোট পাঁচটি সংস্থা কে মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেয়। বাণিজ্যের আড়ালে বিদেশে অর্থপাচারকে উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর দেশের সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে একটি নির্দেশনা পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

অবৈধ অস্ত্রঃ দস্যুবাহিনীর পুনর্বাসন

বাংলাদেশের ৩ দিকে ভারত আর একদিকে মিয়ানমার সীমান্ত। একসময় এসব এলাকায় সন্ত্রাসি কর্মকান্ড চলত আর অবৈধ অস্ত্রসরবারহের নিরাপদ রুট হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করত। বিগত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিষ্ঠুর রাজনৈতিক কাজে অস্ত্রের ব্যবহার ছিল বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গ্রেনেড হামলা ও গুলিবর্ষনের ঘটনা। ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যার ওই ঘটনা স্তব্ধ করে দেয় জাতিকে। রাজনৈতিক কর্মকান্ডে গ্রেনেড ও একে ৪৭ এর মতো ভারি অস্ত্রের ব্যবহার ইতিপুর্বে এদেশে হয়নি। চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানার ঘাটে ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাতে সন্ত্রাসী সংঘঠন উলফার আট ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনা ছিল ব্যাপক আলোচিত । বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় এখন নিত্য-নতুন আর অত্যাধুনিক অস্ত্রপরিবহন না থাকলেও অস্ত্রর সবারহ রয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্টিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে পাঁচজন নিহতের পর দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রের ব্যবহার দেখা যায়। দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন ঘিরে ১২ জেলায় সংঘাত, সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে ২৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে অতি সম্প্রতি। এর মধ্যে নরসিংদী, মাগুরা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও কক্সবাজার এই পাঁচ জেলায় গুলিতে নিহত হয়েছেন ১৬ জন।

বাংলাদেশে কী পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র রয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। তবে, ২০১৭ সালের এক হিসেবে দেখা যায়, মোট বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা ১৮৫০০০ টি। আর উদ্বারকৃত আগ্নেয় অস্ত্রের মধ্যে শুধুমাত্র ২০১৯ সালের জুলাই থেকে জুন ২০২০ পর্যন্ত র‌্যাপিড এ্যকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড মোট ৯৭৫টি ছোট-বড় দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৯৫২৭টি তাজা গুলি উদ্বার করে। যার মধ্যে রয়েছে পিস্তল, রিভলবার ও বন্দুক। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ সেন্টার বিডিপিসির গবেষণা সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে অবৈধ অস্ত্রের ১২৮টি সিন্ডিকেট রয়েছে। দেশে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে ৪ লাখের মতো। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৫০০ কোটি টাকার অবৈধ অস্ত্র নিয়ে আসে আন্তর্জাতিক চোরাচালানকারীরা। অর্থনীতিবিদদের মতে শুধু মাত্র জলদস্যুতার কারণে বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার আর্থিক ক্ষতি হয়। গত তিন দশকে সুন্দরবন এলাকায় নানা সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় ছিল। গত পাঁচ বছরে সরকার অবৈধ অস্ত্রউদ্বার ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার কারীদের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন উদ্দ্যোগ গ্রহন করে। যার মধ্যে অন্যতম ছিল দস্যু ও মাদক ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্বার ও তাদের পুনর্বাসন করা। ২০১৬ সালের ৩১ মে সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় দস্যুদল ‘মাস্টার বাহিনী’ আত্মসমর্পণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। বাগেরহাট ও মংলা এলকায় ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই, মজনু বাহিনী’র ৯ জন এবং ইলিয়াস বাহিনী’র ১১ জন দেশি-বিদেশি ২৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক হাজার ২০টি গুলি সহ আত্বসমর্পন করে। ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর, সুন্দরবনের খোকাবাবু বাহিনীর ১২ জন ২২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক হাজারেরও বেশি গুলিসহ আত্মসমর্পণ করে। ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর সশস্ত্র ৪৩ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে। টেকনাফে আত্মসমর্পণ করেন ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী। ২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর কক্সবাজারের মহেশখালীর ১২টি বাহিনীর ৯৬ জন জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগর আত্মসমর্পণ করে। তারা দেশি-বিদেশি ১৫৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৮৪ রাউন্ড গুলি ও অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন প্রকার সরঞ্জাম জমা দেয়। ২০২০ সাল পর্যন্ত একে একে দস্যুতা ছেড়ে ফিরে আসে প্রায় ৪০টি সশস্ত্র দস্যুবাহিনী। এ পর্যন্ত প্রায় চার শতাধিক বনদস্যু-জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে। জমা দেয় ৫০০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রায় ৩০ হাজার গুলি।

১৯৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্ট এবং ১৯২৪ সালে আর্মস রুলস এর আওতায় বৈধ আগ্নেয় অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয়। আইনে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আত্বরক্ষায় ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বৈধ অস্ত্র ব্যবসার আড়ালে অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচার। লাইসেন্সকৃত বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে। কয়েক বছর আগে এক সাংসদের ছেলে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে যানজটে পড়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছিলেন, আর তাতে এক রিকশাচালক ও এক অটোরিকশা চালক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। একই বছরের গাইবান্ধার এক সাংসদ শিশু সৌরভকে গুলি করে হত্যা করে। এসব দিক বিবেচনায় সরকার বৈধ অস্ত্র ব্যবহার সীমিত রাখতে সর্বশেষ ২০১৬ সালে নীতিমালা তৈরি করে। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ছয়টির বেশি লাইসেন্স দেওয়া যাবে না।

বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্বি, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের মাধ্যমে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ ১৯ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা কে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে, এটি একটি বড় সফলতা। বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি টাস্কফোর্স গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। তিনি আরো বলেন, একটি নির্ধরিত সময়ের মধ্যে অবৈধ অর্থ ও অস্ত্র প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সহয কাজ নয়, সেটি শুধু বাংলাদেশ সরকারের একার পক্ষেও সম্বভ নয়, অপরাপর বৈশি^ক নেতা ও রাষ্ট্রগুলোকে একই মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে ।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জিএফআই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বলেন, বাংলাদেশ প্রতি বছর যে পরিমাণ অর্থ বৈদেশিক সাহায্য হিসেবে পায় সেটির প্রায় তিনগুণ টাকা পাচার হয়। বেশি দামের জিনিসকে কম দাম দেখিয়ে পাঠানো হচ্ছে এবং সেটার ভিত্তিতে কম টাকা দেশের ভেতরে আসছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত দাম দেখিয়ে রপ্তানি করা হলেও টাকা আদৌ দেশের ভেতরে আসেনি। তিনি আরও বলেন, এসডিজিতে অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রগতি অর্জন করলেও বিভাজিতভাবে দেখলে দেখা যাবে দলিত, প্রতিবন্ধী, দুর্গম এলাকার নাগরিক এবং শহরের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের মানুষ তেমন সুযোগ পায়নি এখনো।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কর ফাঁকি দেয় বড় বড় ব্যবসায়ীরা, তাদেরকে শতভাগ ট্যাক্সের আওতায় আনা দরকার। এইসব বিপুল আয়ের মানুষ কর ফাঁকি দিয়ে দেশের বাইরে অর্থ পাচার করছেন। একটি বড় সংখ্যার মানুষদেরকে এখনো করের আওতায় আনা যায়নি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এসডিজি পরিবিক্ষণ ও মুল্যায়নে উপাত্ত প্রস্তুত ও বিভাজনের কর্মপরিকল্পনা ও পদ্বতিগত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছেন। সেখানে অভিষ্ট ১৬ এর অন্তর্গত ১২টি টার্গেট অর্জনে ২৪টি ইন্ডিগেটর নির্ধারণ করেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে, এসডিজি-১৬ অর্জনে উল্লেখযোগ্য হারে দুর্নীতি কমানোর কথা বলা হয়েছে। ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট: বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রতিবেদন-২০২০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যকর বিচার ব্যবস্থায় জনসাধারণের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাও মৌলিক চ্যালেঞ্জ। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ‘শান্তি, ন্যায় বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানের’ ক্ষেত্রে ছয়টি ঝুঁকি রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে- বৈদেশিক উৎস থেকে সম্পদ সংগ্রহের ঝুঁকি।

জাতিসংঘের এসডিজি বিষয়ক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়, বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ১৬ অর্জন সহজ হবে না। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, পদ্বতিগত বিষয় বা সিস্টেমেটিক বিষয় সামাল দেয়া। অন্যদিকে সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, সামগ্রিকভাবে এসডিজির ১৬ গোল অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক উন্নতি ও সুশাসনে অগ্রগতি না হলে উপরের ১ থেকে ১৫ নম্বর গোলের লক্ষ্য অর্জন হবে না। মুল্যায়ন করতে হলে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত।

এসডিজি ১৬ নিয়ে কাজ করছেন এমন সংঘঠনগুলো মনে করে, জাতীয় সংসদ. নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, অডিট জেনারেল অফিস ও দুর্নীতি দমন কমিশন কে দক্ষ ও প্রভাবমুক্ত করতে হবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন কে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। সকল সরকারি প্রতষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করে, জনগনের কাছে দায়বদ্ব করতে হবে। একই সাথে আদালত ও আইনশৃংখলা বাহিনীর মাধ্যমে আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরী। অন্যথায় ২০৩০ সালের মধ্যে অবৈধ অর্থ ও অস্ত্র প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সহয কাজ হবে না, সেটি শুধু বাংলাদেশ সরকারের একার পক্ষেও সম্বভ নয়, অপরাপর বৈশি^ক নেতা ও রাষ্ট্রগুলোকে একই মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

 




আগামীর বাংলাদেশে প্রবীণরা থাকবেন সন্মানের সাথে নিরাপদ ও আনন্দে

 

মাসুমুর রহমান।।

জাতিসংঘের উদ্যোগে সকল মানুষের জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে একটি সুন্দর বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে ১৭ টি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (SDGs) ও১৬৯ টি লক্ষ্যমাত্রা গৃহীত হয়েছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশের ভবিষ্যত নির্ভর করছে এসডিজি’র সফল বাস্তবায়নের উপর। এসডিজি’ র ১৭ টি  অভীষ্টের মধ্যে  ৩ নম্বর ক্রমিকে আছে ‘ সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ’ । এ অভীষ্টের মোট ০৯টি লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ‘সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ’ অভীষ্টের ০৯  টি লক্ষ্যমাত্রা (৮ নম্বর লক্ষ্যমাত্রা ব্যতীত,০৯ লক্ষ্যমাত্রায় দুইটি)  বাস্তবায়নে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সহযোগী মন্ত্রণালয় হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসডিজি বাস্তবায়নে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব একটি (১৬.১০), সহযোগী হিসেবে ৩০ টি। এছাড়াও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্হ তথ্য অধিদফতরের সহযোগী হিসেবে ০৭ টি দায়িত্ব রয়েছে । ‘সুস্বাস্হ্য ও কল্যাণ ‘ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ তথ্য অধিদফতর, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর,চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরসহ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার বছরভিত্তিক সমায়াবদ্ধ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

বিবিএস এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ০১ জানুয়ারি ২০২১ সালে দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৮২ লাখ। এরমধ্যে পুরুষ ০৮ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার, মহিলা ০৮ কোটি ৪০ লাখ ৩০ হাজার। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর ০৮ মাস। পুরুষের গড় আয়ু ৭১ বছর ০২ মাস, মহিলাদের গড় আয়ু পুরুষদের থেকে বেশি, ৭৪ বছর ০৫ মাস। জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩ জন। শিশুমৃত্যুর হার প্রতিহাজারে ২১ জন। বাংলাদেশে ১৯৯২ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সি প্রতিহাজার শিশুর মধ্যে মৃত্যু হতো ১২১ জনের। সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ৪০ এ নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ ২৭ বছরে শিশুমৃত্যুর হার প্রায় ৬৭ শতাংশ কমেছে।  মাতৃমৃত্যুর হার ১.৬৩ জন।

জনসংখ্যা আমাদের জন্য সম্পদ। এর কারণ হলো, এ মুহুর্তে এ জনসংখ্যার একটা বিরাট অংশ কর্মক্ষম মানুষ। এরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছে। আমাদের গড় আয়ু দিনদিন বাড়ছে। এটা একটা বড়ো অর্জন। কিন্তু শিগগিরই এ সংখ্যা পরিবর্তন হবে। নির্ভরশীল মানুষের অনুপাত এখন কমছে। কিন্তু খুব দ্রুতই তা বাড়বে। জনমিতিক সুবিধা বারবার আসে না। তাই এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশে ৬৫ বছরের বেশি বয়সের মানুষকে প্রবীণ নাগরিক বা সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে ধরা হয়। দেশে এ বয়সের মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার সাত শতাংশ বা তার বেশি হলে তাকে বয়োবৃদ্ধ সমাজ বলে। এ সংখ্যা ১৪ বা তার বেশি হলে তাকে প্রবীণ সমাজ বলে। বাংলাদেশ ২০২৯ সালে বয়োবৃদ্ধ সমাজ এবং ২০৪৭ এ প্রবীণ সমাজ হবে। এ পরিবর্তনে বাংলাদেশ সময় নেবে মাত্র ১৮ বছর।

জাপানের ক্ষেত্রে সময় লেগেছে ২৪ বছর। আমাদের পরিবর্তন জাপানের থেকেও দ্রুত হবে। নগরায়ণের ফলে গ্রামীণ মানুষের সংখ্যা দিনদিন কমছে। বাড়ছে নগরের পরিধি, ও মানুষ। নতুন নতুন  কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিসহ চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি ও  সহজলভ্য হওয়ায় গড় আয়ু বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশে প্রবীণ মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। আবার আমাদের জন্ম ও মৃত্যু হার কমছে। ফলে আগামী বছরগুলোতে বয়স্কদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা দিনদিন কমবে। প্রবীণদের দেখাশুনা ও তাদের চাহিদা পূরণের সমস্যা দেখা দেবে। গবেষণায় দেখা গেছ ২০২০ সালে একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে দেখাশুনার জন্য ১৩ জন কর্মক্ষম মানুষ ছিল। ২০৪০ সালে ০৬ জন কর্মক্ষম ব্যক্তি একজন প্রবীণকে দেখাশুনা বা সেবাযত্ন করবে। ২০৬০ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়াবে তিন জনে অর্থাৎ একজন প্রবীণ ব্যক্তিকে সেবাযত্ন করার জন্য তিনজন ব্যক্তির বেশি পাওয়া যাবে না। চিকিৎসা সেবার প্রচলিত ধারণার পরিবর্তন হবে। প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হবে। শুধু চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করলেই হবে না,তাদের খাদ্য, বস্ত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় চাহিদা ও ভিন্ন হবে। সেগুলো পূরণের জন্য বিশেষ ব্যবস্হা গ্রহণের এবং দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হবে। অতিরিক্ত সময় ও অর্থের দরকার হবে। তাদের সুরক্ষা ও কল্যাণের বিষয় গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশে তরুণের সংখ্যা ৪ কোটি ৭৬ লাখ যা মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশ। বর্তমান শিশু ও তরুণদের এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এজন্য তাদেরকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য প্রয়োজন শিশুদের জন্য বর্ধিত বিনিয়োগ,বিশেষত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি, স্যানিটেশন,সামাজিক নিরাপত্তাখাতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। টেকসই উন্নয়নের জন্য শিশু ও কিশোরদের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব খুব বেশি দূরে নয়। এ বিপ্লবের প্রভাবে আগামীর কর্মক্ষেত্র হবে

-২-

অটোমেশন ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নির্ভর। সনাতনী প্রতিষ্ঠান দিনদিন হ্রাস পাবে,তার জায়গায় প্রযুক্তি নির্ভর নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। শ্রম বাজারের চাহিদার পরিবর্তন হবে। সোসাল ইমোশনাল স্কিলস ও অভিযোজন দক্ষতার চাহিদা বাড়বে। সে জন্য সফট স্কিলস প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দ্রুততা। এর প্রভাব পূর্বের শিল্পবিপ্লবের চেয়ে গতিশীল হবে। তাই বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে  আমাদের শিশু কিশোরদের পাঠ্যসূচি,শিক্ষা ও শিক্ষণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন করতে হবে। করোনা অতিমারির কালে আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি নির্ভর অনলাইন ক্লাসে ইতোমধ্যে অভ্যস্ত হয়েছে। আগামী দিনে বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতার চাহিদা বাড়বে। যার মাথায় যত সমস্যার সমাধান তার তত চাহিদা বাড়বে।

বাংলাদেশের শ্রম বাজারে পুরুষের অংশগ্রহণ প্রায় ৮৫ শতাংশ, আর মহিলাদের অংশগ্রহণ প্রায় ৩৬ শতাংশ। সবমিলিয়ে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনবলের ৬০ শতাংশ শ্রম বাজারে কাজ করছে। এখনো ৪০ শতাংশকে শ্রম বাজারে আনা সম্ভব হয়নি। তাদেরকেও শ্রম বাজারে আনতে হবে। ভবিষ্যতে আমাদের সামাজিকখাতে অনেক ব্যয় করতে হবে। প্রবীণদের দেখাশুনার জন্য বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করতে হবে। এজন্য অনেক কিছু করণীয় আছে। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী এক বছরের নিচে ও ৬৫ বছরের ওপর সকলকে বিনামূল্যে স্বাস্হ্যসেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সকলের জন্য স্বাস্হ্য, পুষ্টিসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র,যেখানে প্রবীণরা থাকবেন সন্মানের সাথে নিরাপদ ও আনন্দে।

 

 

 




শিশু ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আলাদা কমিশন থাকা প্রয়োজন

রিয়াদ হোসেন।।
একটা দেশের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য শিশুদের সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হবে।
অথচ আজকের দিনে সমাজে এই শিশুরাই হচ্ছে নানাভাবে নিগৃহীত। সমাজের জন্য
অন্য যেকোনো শ্রেণির মানুষের চেয়ে শিশুরাই যেনো বেশি নিগ্রহের শিকার হচ্ছে।
আমাদের সমাজে মানুষরূপী একশ্রেণির নরপিশাচ রয়েছে, যারা বার বার ছোবল মারছে
কেমলমতি শিশুদের ওপর, বিশেষ করে কন্যাশিশুরা যেন আক্রমণের লক্ষ্য বস্তুতে
পরিণত হয়েছে। কখনো কখনো এরা শিকার হয় হত্যাকাণ্ডেরও।
কন্যাশিশুরা অপরিচিতদের পাশাপাশি পরিচিতজনদের কাছ থেকেও হচ্ছে যৌন
হয়রানির শিকার। সমাজের অবক্ষয় এমন পর্যায়ে গেছে যে, এ সকল নরপিশাচরা
আপন-পর হিতাহিত জ্ঞান পর্যন্ত ভুলে গেছে। শিক্ষিত-অশিক্ষিত অনেকের কাছ
থেকেই কন্যাশিশুরা নানা হয়রানির শিকার হচ্ছে। ধর্ষণের ঘটনা এখন যেনো
নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিষয়গুলো গণমাধ্যমেও
প্রকাশিতও হয় না। থেকে যায় লোক-চক্ষুর অন্তরালে। আবার কখনো কখনো কঠিন
বিষয়গুলো ফলাও করে প্রচারিত হয়, প্রশাসন তখন নড়েচড়ে বসে। অনেকেই আবার
লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়গুলো চেপে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দরিদ্র ও অশিক্ষিত
কিংবা অল্পশিক্ষিত সমাজের মানুষজন কন্যাশিশুদের যৌন হয়রানির বিষয়টি চেপে
যায় পরিবারের মানসম্মানের ভয়ে। কিন্তু কেউ কেউ আবার ঠিকই এসব অন্যায়ের
ন্যায়বিচার চায়, নির্যাতনের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে।
তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছে মাদারীপুর জেলায়। জেলার একটি থানায় একজন
নারী তার সাত বছরের কন্যাশিশুকে নিয়ে এসেছেন অভিযোগ জানাতে তারই
দূরসম্পর্কের দেবরের বিরুদ্ধে। মাসখানেক আগে এই দেবর তার মেয়েকে ধর্ষণ
করেছে। ধর্ষণের পর একপর্যায়ে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে মা জানতে পারেন পুরো
বিষয়টি। ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে গত ২৮ মার্চ আর পরিবারটি থানায় অভিযোগ
জানাতে আসে গত ২১ এপ্রিল। অভিযোগ জানানোর পরপরই পুলিশ আসামিকে
গ্রেপ্তার করে। একদিন পর আসামি বিচারিক আদালতে জবানবন্দি দেয়।
বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ)-এর তথ্য অনুযায়ী ২০১৫-
২০১৯ পর্যন্ত শিশুহত্যার ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৪৯১ টি এবং শিশুধর্ষণের ঘটনা ১
হাজার ৯২১টি। শিশুরা প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিকভাবে নিগৃহীত হচ্ছে। এ

2
ধরনের শিশু নিগৃহের ঘটনা পরিবার, বিদ্যালয়সহ সমাজের প্রায় সব জায়গায় ঘটছে
অহরহ। অথচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিশুদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তিরোধ করা
সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশনা এবং সরকারের পরিপত্র রয়েছে। পরিস্থিতি
পর্যালোচনায় এসব ক্ষেত্রে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি দেখা
যাচ্ছে-যা প্রকারান্তরে শিশুর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কাজ করছে
বলে মনে করেন শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারপারসন, ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮টি কাজের
তালিকা রয়েছে। সরকার ২০২৩ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধ করার
লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু সে মোতাবেক কর্মপরিকল্পনা নেই। তাই
শিশুদের পক্ষে বলারও কেউ নেই। শিশুর জন্য আলাদা অধিদপ্তর অথবা আলাদা
কমিশন করার ওপর জোর দেন তিনি। যাতে শিশুর বিষয়গুলো দেখার জন্য শিশুবিষয়ক
কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন এবং তার দায়বদ্ধতা থাকে।
এদিকে বাল্যবিবাহও শিশু নির্যাতনের আরেক নাম। শিশু বিবাহ বা বাল্যবিবাহ কেড়ে
নেয় শিশুর শৈশব। ২০১৯ সালে বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে ৫২৮ জন। বাল্যবিয়ের
জন্য মারা গেছে একজন এবং আহত হয়েছে ৫২৪ জন।
দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতিসহ জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি অর্জনে বড় বাধা
বাল্যবিয়ে। তবে এ নিয়ে সরকারি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক
কর্মসূচি, প্রচার প্রচারণার ফলে বাল্যবিয়ে কমতে শুরু করলেও এখনো প্রকাশ্যে
অপ্রকাশ্যে তা অব্যাহত আছে, যা প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে
সরকার। আশার কথা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রশাসন, শিক্ষার্থীরাও এগিয়ে এসেছে।
সম্মিলিত এইসব উদ্যোগের ফলেই সফলতা পাওয়া যাচ্ছে। অসচেতন অনেক পরিবার
এখনও তাদের কন্যা সন্তানদের বাল্যবিয়ে দিয়ে থাকেন। তাদের ধারণা, বিয়ে দিলে
সংসারের খরচ কমে যাবে। এ অজুহাতে তারা অল্পবয়সে কিছু মেয়েকে বিয়ে দিয়ে তার
ভবিষ্যৎ জীবন অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন তারা। এক্ষেত্রে কিছু কাজীও
দায়ী। তারা টাকার বিনিময়ে বয়স বাড়িয়ে এ ধরনের অনৈতিক কাজ করেন। আবার
গ্রামের কিছু অভিভাবক আছেন, যাদের জন্মনিবন্ধন সম্পর্কে ধারনা নেই, তারা
তাদের সন্তানদের জন্মনিবন্ধন করেননি। ফলে এসব ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা
নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বলা যায়, শিশু নির্যাতনের আরেক নাম বাল্যবিয়ে।
পুলিশ সদরদপ্তরের মুখপাত্র বলেন, সবধরণের অপরাধের ব্যাপারেই পুলিশ
সতর্ক থাকে। তবে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিষয়টি আলাদা। এ ব্যাপারে পুলিশ
সদস্যদের বিশেষ যত্নবান হওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু তারপরও শিশু

নির্যাতন প্রতিরোধ ও শিশুদের জন্য আলাদা অধিদপ্তর অথবা আলাদা কমিশন
থাকা একান্ত প্রয়োজন, যাতে শিশুদের বিষয়গুলো দেখার জন্য শিশুবিষয়ক
কর্মকর্তা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন, যেখানে তার দায়বদ্ধতা
থাকবে কঠোর মনিটরিং-এর আওতায়। কেননা আজকের শিশুই জাতির আগামী দিনের।




দ্বীপ পরিকল্পনায় ভূমি ব্যবস্থাপনা

ইমদাদইসলাম

বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সাফল্যের সাথে সহস্রাব্দ উন্নয়ন  লক্ষ্যমাত্রা( MDG) অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।সম্প্রতি জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্ক ( SDSN) দারিদ্র্য নিরসন,বিশ্বের সুরক্ষা এবং সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চত করতে পদক্ষেপ গ্রহণের সর্বজনীন আহবানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের চাকা নিখুঁতভাবে এগিয়ে চলছে। উন্নয়নের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এখন আমাদের এ প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০৩০ সালের মধ্যে SDGs লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ২০৪১ এর মধ্যে  উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশ্য পরিকল্পনা গ্রহণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনে অভিঘাত সহিষ্ণু সমৃদ্ধ ব- দ্বীপ গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ‘ বাংলাদেশ ডেলটা প্ল্যান ২১০০’ এর মাধ্যমে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। প্রাপ্ত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রারমান দ্রুত উন্নয়ন করে উন্নত বাংলাদেশ গঠন করাই এসব পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে নিম্ন-মধ্যআয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার সারাদেশে সুষম উন্নয়ন করে যাচ্ছে, বিশেষ করে অবকাঠামোখাতে সড়ক, রেল,নৌ, বিমানসহ সমগ্র যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন আমাদের চারপাশে ইতিমধ্যে দৃশ্যমান।

পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ পরিচিতি রয়েছে। নদীসহ ০১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটারের এদেশে প্রতিবর্গ কিলোমিটারে প্রায় ০১ হাজার ২ শত লোক বসবাস করে। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে  প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দেয়। এ সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যতের সম্ভব্য পরিবর্তন  এবং সময়ের সাথে সাথে তথ্য ও অগ্রাধিকারের  পরিবর্তনসমূহকে বিবেচনায় নিয়ে নেদারল্যান্ডস ও স্হানীয় বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় ব- দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ পরিকল্পনায় বাংলাদেশের প্রায় সকল জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সমুদ্র ও নদী থেকে অবস্থানগত দুরত্বের কারণে গাজীপুর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, ময়মনসিংহ নীলফামারী এবং শেরপুর এই ছয়টি জেলা তুলনামূলকভাবে জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য  কম ঝুঁকিপূর্ণ তাই এ জেলাগুলোকে অপেক্ষাকৃত কম দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে । প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকির উপর ভিত্তি করে জেলাগুলোকে ছয়টি হটস্পটে ভাগ করা হয়েছে। মোট ১৯ টি জেলা নিয়ে উপকূলীয় অঞ্চল, যার মোট আয়তন  ২৭ হাজার ৭৩৮ বর্গকিলোমিটার। এ জেলাগুলো হলো বাগেরহাট, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা,চাদঁপুর,চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী,গোপালগঞ্জ, যশোর, ঝালকাঠি, খুলনা, লক্ষ্মীপুর,নড়াইল, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, ও শরীয়তপুর। মোট ১৮ টি জেলা নিয়ে বরেন্দ্র এবং খরাপ্রবণ অঞ্চল, যার আয়তন ২২ হাজার ৮৪৮ বর্গকিলোমিটার। এ জেলাগুলো হলো বগুড়া, চুয়াডাঙ্গা, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, নওগাঁ, নাটোর, চাপাইনবয়াবগঞ্জ, নীলফামারী, পাবনা, পঞ্চগড়, রাজশাহী, রংপুর, সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ ও সিলেট।

মোট ০৭ টি জেলা নিয়ে হাওড় ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল, যার আয়তন ১৬ হাজার ৫৭৪ বর্গকিলোমিটার। জেলাগুলো হলো ব্রাক্ষণবাড়ীয়া,হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা,সুনামগঞ্জ  ও সিলেট। মোট ৯৩ টি জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল, যার আয়তন ১৩ হাজার ২৯৫ বর্গকিলোমিটার। জেলাগুলো হলো বান্দরবান,খাগড়াছড়ি এবং রাঙ্গামাটি। মোট ২৯ টি জেলা নিয়ে গঠিত নদী অঞ্চল এবং মোহনা,যার মোট আয়তন ৩৫ হাজার ২০৪ বর্গকিলোমিটার। জেলাগুলো হলো বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, বগুড়া, চাঁদপুর, কুমিল্লা, ফরিদপুর, ফেনী, গাইবান্ধা, গোপালগঞ্জ, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, লালমনিরহাট, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নাটোর, চাপাইনবয়াবগঞ্জ, নোয়াখালী, পাবনা, পটুয়াখালী, রাজশাহী, রাজবাড়ী, শরিয়তপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল এবং খুলনা। মোট ০৭ টি জেলা নিয়ে নগর এলাকাসমূহ গঠিত, যার আয়তন ১৯ হাজার ৮২৩ বর্গকিলোমিটার। জেলাগুলো হলো বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট। এখানে উল্লেখ, হাইড্রলজিক্যাল কারণে একাধিক জেলা একাধিক হটস্পটের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের মাটি ও পানির সংমিশ্রণ এদেশকে একটি উর্বর ভূখন্ডে পরিণত করেছে। প্রাকৃতিক এই আর্শীবাদের কারণে এদেশের অধিকাংশ জমিতে বছরে দুই বা ততোধিক ফসল উৎপাদিত হচ্ছে। শুধু তাই না আধুনিক সুযোগ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পাচ্ছে। বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণতা  নিশ্চিত করার  পাশাপাশি রপ্তানি সম্ভাবনাও  তৈরি হয়েছে। ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ ভূমিব্যবস্হাপনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনায় কৃষি, বন, নদীনালা, খাল, বিলসহ নগর ও শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি সবই এ পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে। কৃষি ও অকৃষি উভয় খাতের ব্যবহৃত জমিকে এক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়েছে। পরিপ্রেক্ষিতে যে সকল কৌশল এ পরিকল্পনায় গ্রহণ করা হয়েছে তা হলো, ড্রেজিং থেকে প্রাপ্ত মাটি / বালিব্যবস্হাপনা বিষয়েও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, টেকসই খাদ্যশস্য উৎপাদনে বন্যা বা নদী ভাঙ্গন থেকে কৃষিজমি সংরক্ষণ। লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ এবং মরুকরণ প্রতিরোধ,মেঘনা মোহনায় নতুন জেগে ওঠা ভূমির ব্যবস্হাপনা,কৃষি ও অকৃষিজমি বৃদ্ধির জন্য টেকসই উপকূলীয় ভূমিব্যবস্হাপনা, নগরায়ণের জন্য স্হানীয় ভূমি ব্যবহারের পরিকল্পনা। ভূমি স্থিতিশীল করার জন্য উপকূলীয় অঞ্চলে বনায়ন বৃদ্ধি, ভূমি রক্ষায় উপকূলীয় পানিসম্পদ অবকাঠামোগুলোর সমন্বিত ব্যবস্হাপনা,মাটির গুণাগুণ বজায় রাখা এবং ভূমির ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা, ল্যান্ড জোনিং এর জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি প্রণয়ন করা।

ব- দীপ পরিকল্পনা ২১০০ একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এ পরিকল্পনা সময়ে সময়ে প্রয়োজনে হালনাগাদ করাসহ নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তির সমাবেশ ঘটানোর প্রয়োজন হবে। বিশ্বের অন্যান্য ব- দ্বীপ পরিকল্পনার অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ ও বিদ্যমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ত্রুটিবিচ্যুতি পরিহার করে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে।  ডেল্টা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশেরও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। রূপকল্প ২০২১ এর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শনের আলোকে স্বপ্নের উন্নয়ন পথে জাতিকে এগিয়ে নেবে ‘ ব- দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০।’

-পিআইডি ফিচার

 




অধিকার সুরক্ষায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন : প্রয়োজন জনসচেতনতা

মোছা: সাবিহা আক্তার লাকী।।

“সবার জন্য প্রয়োজন, জন্ম ও মৃত্যুর পর পরই নিবন্ধন”-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবছর ৬ অক্টোবর পালিত হচ্ছে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিষয়ে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার ২০১৮ সালের ৬ অক্টোবরকে “জাতীয় জন্ম নিবন্ধন দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে। পরবর্তিতে, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৮০ শতাংশ জন্ম এবং মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন করতে ‘জাতীয় জন্ম নিবন্ধন দিবস’কে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস’  ঘোষণা করা হয়। এবছর দিবসটি উ`&যাপনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের রেজিস্টার জেনারেলের কার্যালয় কেন্দ্রীয় পর্যায়সহ তৃণমূল পর্যায়ে আলোচনাসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস পালনের ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে জনসচেতনতা তৈরিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

 

জন্ম নিবন্ধন প্রতিটি শিশুসহ বয়স্কদেরও একটি নাগরিক অধিকার। একটি শিশুর জন্ম নিজ দেশকে, বিশ্বকে আইনগতভাবে জানান দেওয়ার একমাত্র পথ জন্মের পর জন্ম নিবন্ধন করা। প্রথম জন্ম নিবন্ধনের অধিকার জাতিসংঘের শিশু সনদে (Convention on  the Rights of the Child – CRC)  স্পষ্ট উল্লেখ আছে। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী, Every child to be registered immediate after birth. বাংলাদেশের জাতীয় শিশু নীতি ২০১১- অনুযায়ী সকল শিশুর জন্মের পর পরই জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে। এটি শিশুর মৌলিক অধিকার, রাষ্ট্রীয় অধিকার।

 

আজ থেকে কয়েক বছর আগেও জন্ম নিবন্ধন করা হতো মূলত বহির্বিশ্বে গমন বা বিশেষ প্রয়োজনে। যদিও জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন রয়েছে ব্রিটিশ আমল থেকেই কিন্তু তার কার্যকারিতা ছিল খুবই নগণ্য। ১৮৭৩ সালে তদানীন্তন বৃটিশ ভারতে প্রথম জন্ম ও মৃত্যু বিষয়ক একটি আইন পাশ হয়। এখন সময় পাল্টেছে। দেশের সবমানুষকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের আওতায় আনতে ২০০১ সালে ইউনিসেফ-বাংলাদেশের সহায়তায় প্রকল্প শুরু হয়। তখন হাতে লেখা জন্ম ও মৃত্যু সনদ দেওয়া হতো। জন্ম ও মুত্যু নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে সরকার তা বাধ্যতামূলক করেছে। এ লক্ষ্যে সরকার নতুন করে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ (সংশোধিত ২০১৩) প্রণয়ন করে। জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শিশু অধিকার সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে আইনটি ৩ জুলাই. ২০০৬ থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন অনুসারে, জন্ম নিবন্ধন হলো একজন মানুষের নাম, লিঙ্গ,  জন্মের তারিখ ও স্থান, মা-বাবার নাম, তাদের জাতীয়তা এবং স্থায়ী ঠিকানা নির্ধারিত নিবন্ধক কতৃক রেজিস্টারে লেখা বা কম্পিউটারে এন্ট্রি প্রদান এবং জন্ম সনদ প্রদান করা। একইভাবে, মৃত্যু নিবন্ধন হলো মৃতব্যক্তির নাম, মৃত্যুর তারিখ, মৃত্যুর স্থান, লিঙ্গ, মাতা/পিতা বা স্ত্রী/স্বামীর নাম নির্ধারিত নিবন্ধক কর্তৃক কম্পিউটারে এন্ট্রিপ্রদানসহ ডেটাবেইজে সংরক্ষণ ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদ প্রদান করা। সাধারণত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র বা মেয়র কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কাউন্সিলর বা অন্য কোনো কর্মকর্তা, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এর এক্সিকিউটিভ অফিসার এবং দূতাবাসসমূহের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো অফিসার জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করে থাকেন। পাশাপাশি,  br.lgd.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কার্যালয় বরাবর অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করা যায়। আবেদনের প্রিন্ট কপি নিবন্ধন অফিসে দাখিল করলে নিবন্ধক জন্ম নিবন্ধন করতে পারবেন।

 

শিশু জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন ফ্রি। জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ দিন পর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত নিবন্ধন ফি দেশে ২৫ টাকা, বিদেশে ১ ডলার। ৫ বছর পর নিবন্ধন ফি দেশে ৫০ টাকা, বিদেশে ১ ডলার। জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য আবেদন ফি দেশে ১০০ টাকা, বিদেশে ২ ডলার। অন্যান্য তথ্য সংশোধন এবং বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সনদের নকল সরবরাহের জন্য আবেদন ফি দেশে ৫০ টাকা, বিদেশে ১ ডলার। ২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় দেশে-বিদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের এ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

জন্ম নিবন্ধন করা থাকলে একজন শিশু বা একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ বহু ধরনের সুবিধা  পেতে পারেন। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ এর ধারা ১৮ অনুযায়ী পাসপোর্ট ইস্যু, বিবাহ বন্ধন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে

নিয়োগদান, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, জমি রেজিস্ট্রেশন, জাতীয় পরিচয়পত্র, লাইসেন্স ইন্সুরেন্স পলিসিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। একইভাবে সাকসেশন সার্টিফিকেট প্রাপ্তি, পারিবারিক পেনশন প্রাপ্তি, মৃত ব্যক্তির লাইফ ইন্স্যুরেন্স দাবি, নামজারি ও জমিজমা প্রাপ্তিতে মৃত্য সনদ জরুরি।

 

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বর্তমান সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে সকল নাগরিকের একটি শুদ্ধ ডাটাবেইজ প্রস্তুতকরণে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্যাদি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পদক্ষেপ হিসেবে, সবার জন্ম নিবন্ধন করতে ২০১০ সাল থেকে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। সারাদেশে সরাসরি জন্ম নিবন্ধনের পাশাপাশি অনলাইনেও নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। শুধু অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন ও সনদ ডাউনলোডই নয়, জন্ম নিবন্ধন যাচাইও করা যায় সহজেই। এখন যে কেউ মোবাইলে “জন্ম তথ্য যাচাই” অ্যাপস ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি যাচাই করে দেখতে পারেন। সরকারের এমন যুগান্তকারী উদ্যোগে বন্ধ হয়েছে দ্বৈত নিবন্ধন কার্যক্রম।

 

বর্তমানে সরকার দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনসমূহের জন্য আলাদা আলাদা ৫টি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালাসমূহকে  একীভূত করে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৭ প্রণয়ন করেছে। পরবর্তীতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন পদ্ধতি আরও সহজিকরণের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে প্রণীত বিধিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮ জারি করা হয়, যা ০৮ মার্চ ২০১৮ তারিখে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। সর্বশেষ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে পূর্বের নির্দেশিকা রহিত করে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নির্দেশিকা ২০২১ প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে,  বেড়েছে মৃত্যু নিবন্ধনের সংখ্যাও। নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয় সূত্র অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রমের শুরু থেকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট জন্ম নিবন্ধন হয়েছে ১৭ কোটি ৬৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৩১ জনের। এর মধ্যে জন্মের ৫ বছরের মধ্যে নিবন্ধন হয়েছে ১ কোটি ৬৯ লাখ ১ হাজার ২১১ জনের। ২০২০ সালে জন্ম নিবন্ধন হয়েছে ৩৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৮ জনের। শুরু থেকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট মৃত্যু নিবন্ধন হয়েছে ৯৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ জনের। এর মধ্যে ২০২০ সালে মৃত্যু নিবন্ধন হয়েছে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪০০ জনের।

 

বর্তমানে দেশ ও দেশের বাইরে মিলিয়ে ৫ হাজার ৫৩২টি জায়গা থেকে জন্ম নিবন্ধন করা যাচ্ছে। দেশের সবইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয়, সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের পাশাপাশি বিদেশের বাংলাদেশি দূতাবাসে অনলাইনের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

 

এ কার্যক্রমকে আরো বেগবান করতে এবং  এসডিজি এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশসমূহে গৃহীত সিআরভিএস(CRVS) দশকের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য রেজিস্টার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, স্থানীয় সরকার বিভাগ যুগান্তকারী কিছু উদ্ভাবণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এখন স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত মাকর্মীদের নিকট থেকে নিবন্ধক  কার্যালয়ের মাসিক সভায় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিবন্ধক শিশুর জন্মের পূর্ব সময়ে পরিবারের নিকট অভিন্দন বার্তাসহ জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফর্ম প্রেরণ করবেন। অনুরূপভাবে ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও অন্যান্য সূত্রে মৃত্যু সংবাদ প্রাপ্তির পর নিবন্ধক শোকবার্তাসহ মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন ফর্ম পরিবারের নিকট প্রেরণ করবেন। গ্রাম পুলিশ কর্মচারীর মাধ্যমে এই ফর্ম ও নিবন্ধন সনদ বিতরণ এবং আবেদনপত্র সংগ্রহ করা হবে। আশা করা যায়, এমন উদ্যোগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমের সাফল্যে মাইল ফলক স্থাপন করবে।

#

 

লেখক-তথ্য অফিসার, পিআইডি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়