1

জীবন বাঁচাতে দেশের সবাইকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেয়া হবে : অর্থমন্ত্রী

চ্যালেঞ্জ থাকলেও বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ মহামারী করোনার কবল থেকে জীবন বাঁচাতে দেশের সবাইকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ যাই থাক, টিকা কিনতে অর্থের কোন সমস্যা হবে না। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বরাদ্দ রাখা আছে। এবারের বাজেট শতভাগ বাস্তবায়নযোগ্য বলেও মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি চাঙ্গা করার লক্ষ্যে ব্যবসাবান্ধব বাজেট দিতে কর ছাড় দেয়া হয়েছে। এতে দেশে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ হবে। দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, গো খামার সুরক্ষায় বাজেটে মাংস আমদানি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট-উত্তর অনলাইন ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সংবাদ সম্মেলনে সংযুক্ত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রী। ওই সময় নিজ নিজ দফতর থেকে আরও সংযুক্ত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ফজলে কবির, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মোঃ রাহমাতুল মুনিম প্রমুখ।বাজেট সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য। গত পাঁচ থেকে ছয়টি বাজেটে যে হারে প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জিত হয়েছে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রফতানি ও রেমিটেন্সের আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হচ্ছে। গত মে মাস পর্যন্ত রফতানিতে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। আর রেমিটেন্স অর্জনে রেকর্ড করে এখন তা ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এটাই বাস্তবতা। স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এ বিষয়ে অর্থসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অর্থমন্ত্রী। ওই সময় আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী একবছরের জন্য টিকা কিনতে ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য খাত নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। টিকা কার্যক্রম চলতে থাকবে। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সবাই জীবন বাঁচাতে করোনার টিকা পাবেন। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে ভারতের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে করোনার টিকা আনা হচ্ছে। সবাই বিনামূল্যের সরকারী এই টিকা পাবেন।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দেশীয় শিল্পের বিকাশ হলে দেশে দ্রুত কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হবে। এ কারণে এবারের বাজেট ব্যবসাবান্ধব করে সর্বক্ষেত্রে কর ও ভ্যাট ছাড় দেয়া হয়েছে। এতে করে দ্রুত সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরে আসবে এবং কয়েক বছরের মধ্যেই রাজস্ব আদায় আবার বহুগুণ বাড়বে। এ কারণে কর ও ভ্যাট ছাড়ের বাজেট দেয়া হয়েছে। কালো টাকা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। কেউ বলে এই সুযোগ রাখেন আরেকপক্ষ বলে, এটা ঠিক নয়। তবে দেশের স্বার্থে যেটা ভাল সেটা করার এখনও সময় আছে। বিষয়টি আরও পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। আর এ কারণেই এবার অপ্রদর্শিত অর্থের বিষয়টি বাজেটে আনা হয়নি। অর্থমন্ত্রী বলেন, এই সুযোগ ঢালাওভাবে দেয়া হলে যারা নিয়মিত ট্যাক্স ও ভ্যাট দেন তাদের প্রতি এক ধরনের অবিচার করা হয়। তাঁরা কর প্রদানে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এসব বিষয়ে আরও কাজ করতে হবে।

স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ নিয়ে সমস্যা নেই ॥ বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, বরাদ্দ যাই থাক, এখাতের প্রয়োজনীয় ব্যয় সংকুলান ও টিকা কিনতে কোন সমস্যা হবে না। এ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, প্রয়োজনে অন্য খাত থেকেও টাকা নিয়ে স্বাস্থ্য খাতে দেয়া যাবে, এ নিয়ে কোন সমস্যা নেই। উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন। মহামারীর মধ্যে তার এ বাজেটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। পাশাপাশি মহামারীকালে জরুরী প্রয়োজন মেটাতে ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহামারীর বাস্তবতায় স্বাস্থ্যের এই বরাদ্দ প্রত্যাশা কিংবা প্রয়োজন, কোনটার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের জন্যও কোন দিক নির্দেশনা তারা বাজেটে পাননি। বাজেটের পরদিন অর্থমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। অর্থমন্ত্রী অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিবকে এ বিষয়ে উত্তর দিতে অনুরোধ করেন। মহামারীর বাজেটে স্বাস্থ্য আসলে কী পেল? আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, স্বাস্থ্য খাতে গত বছরের মূল বাজেটে যে বরাদ্দ ছিল, এবার তা ১৩ শতাংশের মতো বেড়েছে।

তিনি বলেন, বরাদ্দ নিয়ে কোন সমস্যা নেই। এক বছরে যে টিকা আমরা দিতে পারব, তার চেয়ে বেশি টাকা বরাদ্দ আছে। সব মিলিয়ে ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা। প্রয়োজনে অন্য খাত থেকেও নেয়া যাবে। আর স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটায় স্বচ্ছতা আনার জন্য উদ্যোগ নেয়ার কথাও বলেন অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব। এ সময় কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সরকার এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের অর্থনীতির এখন যা অবস্থা তাতে মহামারী মোকাবেলায় অর্থ কোন সমস্যা নয়। সরাবিশ্ব যেভাবে মোকাবেলা করছে, বাংলাদেশও তা করবে।

কর ছাড় দেয়া হলেও রাজস্ব আদায় বাড়বে ॥ অর্থনীতির গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে করের হার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে রাজস্ব আদায় বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেটে কর ছাড়ের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য রেখেছি, আইনটিকে আমরা সহজ করব। আমরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি যদি আমরা আইনটিকে সহজ করতে পারি, করদাতাদের যদি এই কাজে সম্পৃক্ত করতে পারি, তাহলে রাজস্ব আদায় অনেক বৃদ্ধি পাবে। রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে পৃথিবীর অনেক দেশ চেষ্টা করেছিল। এমনকি আমেরিকায়ও কোন একসময় ৭৫ শতাংশ ট্যাক্সের পরিমাণ ছিল, সেটা এখন নেই। বেশি করে ট্যাক্স আদায় করা যায় কি না সেটি সবাই চেষ্টা করেছিল। রাজস্বের হার যদি আস্তে আস্তে কমানো হয়, তাহলে আমাদের সংগ্রহ বাড়বে। আমরা যে কর কমালাম, আমরা বিশ্বাস করি ‘উই উইল বি উইনার’। করের হার কমানো হয়েছে, আশা করি আমাদের রাজস্ব আদায় আরও বাড়বে।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ব্যবসায়ী যারা বলছেন ব্যবসায়ীবান্ধব বাজেট করার কথা। ব্যবসায়ী শব্দটি ফ্লেক্সিবল জব, এটাকে ফিক্সড করে রাখা যাবে না। প্রত্যেক সময় মানুষের চাহিদার পরিবর্তন হয়। চাহিদা পূরণে ব্যবসায়ীদেরও পরিবর্তন আসে। তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্যও পরিবর্তন আসে। সুতরাং এটা কখনও ফিক্স রাখা যাবে না। আমাদের সিচুয়েশন কী ডিমান্ড করে, সারাবিশ্ব কী করছে, সেটি দেখতে হবে। উন্নত বিশ্ব যদি পিছিয়ে পড়ে, তাহলে আমরা কিন্তু এগোতে পারব না। কারণ উন্নত বিশ্বের মাধ্যমে কিন্তু আমরা সমৃদ্ধ। আজকে মার্কিন ইকোনমি এটাই আমাদের শেখায়, আমরা একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

দেশীয় শিল্প বিকাশ হলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে ॥ ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে, ফলে সব সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে তারাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেটে কর্মসংস্থানের বিষয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বাজেটে কর্মসংস্থানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা আছে। বাজেটের পুরোটাই হলো ব্যবসায়ী বান্ধব। আমি মনে করি, যে বাজেট ব্যবসায়ীবান্ধব হলেই ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেবেন। আর ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেয়ার মানে হচ্ছে উৎপাদনে যাওয়া। সেই উৎপাদনটি ঘটাবে আমাদের দেশের জনগোষ্ঠী। মানুষের কর্মসংস্থান না করা হলে কিভাবে তারা এগুলো করবেন? সেজন্য আমরা মনে করি, ব্যবসায়ীরাই এ কাজটি করবেন। সেজন্য ব্যবসায়ীদের আমরা সুযোগ দিয়েছি, আমরা কমিটেড। তিনি বলেন, আমরা মেড ইন বাংলাদেশ ট্যাগ লাইনটা ব্যবহার করতে চাই। আমাদের দেশীয় প্রোডাক্ট যেগুলোকে বাড়তি সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে বাজেটে যা দেখেছেন সেটাই যে থাকবে তা নয়, আমরা কিছু ফ্লেক্সিবল থাকব। আমরা আরও পরিবর্তন করব, কখনও বাড়াব না। আমরা সবসময় প্রয়োজনে ট্যাক্স, ভ্যাট কমাব।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের দেশ ভাল করছে। সামগ্রিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। ভারতসহ অন্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ঋণ দেয়ার সময় এসে গেছে। আমরা ঋণ নেব না, ঋণ দেব। তিনি বলেন, বাজেটে ২০২১-২২ অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হয়েছে, গত বাজেটে ৮ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি বেশিদিন থাকবে না। দেশ স্বাভাবিক হলে আবারও বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। আমরা প্রবৃদ্ধি অর্জন করে দেখাব। আমরা এর আগে যা বলেছি তাই করেছি এবারও করে দেখাব। তিনি আরও বলেন, ৭ দশমিক ২ অর্জন করব। সারাবিশ্ব যখন নিচের দিকে যাচ্ছে আমরা উপরের দিকে যাচ্ছি। আমরা যা বলি তাই করি। জিডিপি প্রবৃদ্ধিও অর্জন করে দেখাব। আমারা সারা পৃথিবীতে আলোচনার বিষয়। সময় যত যাচ্ছে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় বাড়ছে।

কালো টাকা সাদা করার বিষয়টি আরও পর্যবেক্ষণ করা হবে ॥ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, কালো টাকা সাদা করার বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কারণ এটা নিয়ে বিতর্ক আছে, বিতর্ক হচ্ছে। তবে দেশের উন্নয়নে যা ভাল সেটিই করা হবে। কালো টাকার সুযোগ না রাখার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কালো টাকা নিয়ে আমি কখনও কথা বলিনি। আমাদের বাজেটে আমরা যেই প্রভিশনটি রেখেছিলাম তা হলো অপ্রদর্শিত আয়। কালো টাকা এবং অপ্রদর্শিত আয়ের মধ্যে ব্যাপক ডিফারেন্স। কালো টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে সৃষ্টি হয়, আর অপ্রদর্শিত টাকাটা আমাদের সিস্টেমের কারণে সৃষ্টি হয়। কালো টাকা সাদা করার সুযোগে যারা নিয়মিত কর ও ট্যাক্স দেন তাহলে অনাগ্রহ তৈরি হতে পারে। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যবেক্ষণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, যারা সীমিত সম্পদকে এক্সপ্লয়েট করে ম্যাক্সিমাম আয় করবে তাদেরকে বেশি করে সুযোগ করে দেয়া উচিত ছিল। সেটা না করে যারা বেশি আয় করেছিল তাদের আরও বেশি চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল, এটা ঠিক না। সেজন্য আমরা এই বিষয়গুলো দেখে যতটা সম্ভব হয়েছে এই বাজেটে খোলামেলাভাবে সুন্দর ও সহজ করে আরও সর্বজনীন করার চেষ্টা করেছি।

গো খামার সুরক্ষা ও মাংস উৎপাদনে উৎসাহিত করা হয়েছে ॥ দেশীয় গো খামার সুরক্ষা এবং মাংস উৎপাদন বাড়াতে প্রস্তাবিত বাজেটে আমদানি নিরৎসাহিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এনবিআর চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ওই সময় তিনি বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে এবং উৎপাদন বাড়াতে মাংস আমদানিতে ট্যারিফ বসানো হয়েছে। এটা শুধু মাংস না, প্রতিটি কৃষি খাতকেই উৎসাহিত করতে, আমদানির পরিবর্তে উৎপাদনকে প্রাধান্য দিতেই সরকার এটা ভাবছে। এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের সম্ভাবনাময় খাত কৃষি। এখন সময় এসেছে আমাদের আমদানি কমানোর। এখন আমরা উৎপাদন করতে চাই। আমরা উৎপাদনে দেশীয় চাহিদা পূরণ করে রফতানিতে যাচ্ছি। এজন্য রফতানিতে সুযোগ দেয়া হচ্ছে আর আমদানিতে ট্যারিফ বসানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত দুই-তিন বছর ধরেই পোল্ট্রি খাত অনেক লোকসানে আছে।

আবার একটি গাভি থেকে দৈনিক ২০ থেকে ৩০ লিটার পর্যন্ত দুধ পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে আমরা চাই উৎপাদন বৃদ্ধি পাক এবং উদ্যোক্তারা আরও সুযোগ পান। এতে আমাদের উৎপাদন বাড়বে, আমদানি কমবে। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে দেশ। তিনি আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এ খাত পুরোপুরি যান্ত্রীকিকরণ করা হবে। শ্রমিকদের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে কৃষিকাজে অনেকে লোকসান করছেন। কিন্তু এ খাতের চাষাবাদে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা গেলে উৎপাদন বিনিয়োগ বাড়বে। তিনি বলেন, কৃষিতে সরকার যা দিচ্ছে তা ভর্তুকি নয় এক ধরনের বিনিয়োগ। এই বিনিয়োগের কারণে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

ঘাটতি বাজেট খারাপ নয়- পরিকল্পনামন্ত্রী ॥ ঘাটতি বাজেট খারাপ নয় বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। মহামারীকালে নতুন অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ঘাটতি রেখে বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। মোট বাজেটের মধ্যে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা তিনি রাজস্ব খাত থেকে যোগান দেয়ার পরিকল্পনা সাজিয়েছেন, যা বাস্তবায়ন করা হবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে উন্নয়নশীল দেশে ঘাটতি বাজেট হতেই পারে, এটি নতুন নয়, বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ঘাটতি বাজেট নতুন নয়, আমরা উন্নয়নশীল দেশ, ঘাটতি বাজেট হবে। তবে সংশয় আছে ঘাটতির পরিমাণ নিয়ে। তবে আমি কনফিডেন্ট, অর্থমন্ত্রী এটিকে মোকাবেলা করতে পারবেন। আমরা একটি অনুমানের জগতে আছি। সেটাকে নিয়ে তর্ক করে কোন লাভ হবে না।

তিনি আরও বলেন, অর্থের জোগান দেয়া অন্যতম একটি বিষয়। যারা বাইরে থেকে আমাদের ধার দেবে, তাদের বাজার বেশ ভাল। বিদেশ থেকে যারা ধার দেয় তাদের কথাবার্তা ও আচরণে সেটি আমরা দেখেছি। আমাদের রেকর্ডও ভাল। আমরা সে ধরনের গ্রাহক নই। কোন সময় আমরা এগুলো মিস করিনি। আমরা সবকিছু পজিটিভলি করেছি বলেই পজিটিভলি গ্রোথ ধরে রাখতে পেরেছি। মাথাপিছু আয় করোনার মধ্যেও আমাদের ২৩০০ ডলারের কাছাকাছি। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, এত কঠিন সময়ের মতো আগে কখনও হয়ত বাজেট দেয়া হয়নি। সময়োপযোগী বাজেট হয়েছে। নদীভাঙ্গন এলাকায় নজর দেয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ফজলে কবির বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজ বড়দের দেয়া হচ্ছে এটা সঠিক নয়। ৪০ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে বৃহৎ সেক্টরের জন্য। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা বিতরণ হয়ে গেছে।। এসএমই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকার ৭৩.৭ শতাংশ বিতরণ হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন দেয়া হয়। কৃষিতে ৫ হাজার কোটি টাকা রয়েছে। সেখানে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। ব্যাংকিং খাত ৮০ ভাগ সাপোর্ট দিচ্ছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, সাধারণত ব্যবসাবান্ধব বাজেট বলে কর ছাড় দেয়া হয়েছে। এ কারণে যে ব্যবসা আবার সক্রিয় হোক। বেসরকারী খাত থেকে ৮০ ভাগ এবং সরকারীভাবে মাত্র ২০ ভাগ বিনিয়োগ হয়।




ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদারের জানাজা সম্পন্ন।। প্রধান মন্ত্রীর শোক প্রকাশ

রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনার প্রদানের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদারের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, বাদ জোহর। জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ধানমন্ডিতে অবস্থিত এবং জয়নুল হক সিকদার প্রতিষ্ঠিত জেড. এইচ. সিকদার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ এ্যান্ড হাসপাতাল প্রাঙ্গণে।
জয়নুল হক সিকদারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডিপুটি স্পিকার, ফজলে রাব্বি মিয়া, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এমপি, পানি সম্পদ উপ-মন্ত্রী এনামুল হক শামীম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস, মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি, আব্দুল্লা আল জ্যাকব এমপি, সাদেক খান এমপি, আলি আজম মুকুল এমপি, আসলামুল হক এমপি, নাহিম রাজ্জাক এমপি, সাবেক ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি লিয়াকত সিকদার, শরিয়তপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাহিদুর রহমান খোকা সিকদারসহ অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মী।
এছাড়া পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, ন্যাশনাল ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানিজ এর আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণী পেশার কয়েক হাজার মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে গত বুধবার ১০ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৩০মিনিটে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড এবং সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানিজ- এর চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। গত শুক্রবার ১২ ফেব্রুয়ারি, বিকাল ৫টা ১০মিনিটে একটি বিশেষ বিমানে করে জয়নুল হক সিকদারের মরদেহ দেশে নিয়ে আসা হয়।

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি।




বাণিজ্যমন্ত্রী ও দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা প্রদানের আহ্বান বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বন্ধু রাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়া ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কাজ করছে। তৈরি পোশাক, ইলেক্ট্রনিক পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি নির্মাণ কাজেও দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রচুর সুযোগ রয়েছে। উভয় দেশ উদ্যোগ নিলে এ সুযোগকে কাজে লাগানো সম্ভব। দক্ষিণ কোরিয়া উন্নয়নশীল দেশগুলোকে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে। বাংলাদেশও উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা প্রদান করলে রপ্তানি বাড়বে এবং উভয় দেশের বাণিজ্য ব্যবধান কমবে।

          মন্ত্রী আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে তাঁর অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত Lee Jang Keun-এর সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার বন্ধু রাষ্ট্র এবং ব্যবসায়িক বড় অংশীদার। বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক ব্যবসা ও বিনিয়োগ রয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও অবদান রাখছে দক্ষিণ কোরিয়া। বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রচুর সুযোগ রয়েছে, এসুযোগকে কাজে লাগাতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়া চট্টগ্রামে কেইপিজেড বাস্তবায়ন করছে, এখানে বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশের কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের পাশে রয়েছে।

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মোঃ হাফিজুর রহমান এবং ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।




চলতি বছরে বেনাপোল রেলপথে ২৬১ কোটি টাকা রাজস্ব আয়

মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল : বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে রেলপথে চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে ২৬১ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করেছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশ রেল কর্তৃপক্ষ ভাড়া বাবদ দুই কোটি ৮৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আয় করেছে। এদিকে রেলপথে পণ্য আমদানি হয়েছে ৮২২ কোটি টাকার। যার পরিমাণ দুই লাখ ৩৯ হাজার ৪৫৪ দশমিক ৩ টন। তবে চলতি অর্থবছরের শেষে এ পথে দ্বিগুণ পরিমাণ রাজস্ব ও ভাড়া আদায় হবে বলে জানান বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান।

সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা যায়, ভারতের বনগাঁ পৌরসভার অধীনে কালিতলা আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক দিনের পর দিন পার্কিং-এ রেখে একটি সিন্ডিকেট নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিল। ওই পার্কিং থেকে কন্ট্রাকের মাধ্যেমে ৩০/৪০ হাজার টাকা ট্রাক ভাড়া নিয়ে বেনাপোল বন্দরে ট্রাক পাঠাতো সিন্ডিকেটের সদস্যরা। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে বাংলাদেশী আমদানিকারক ও ভারতের রপ্তানিকারকরা হিমসিম খাচ্ছিল। এর ফলে প্রতিটি পণ্য চালানে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ায় যার প্রভাব এসে পড়ছিল বাংলাদেশের বাজারে। তারপরও দুদিন পর পর নানা ধর্মঘটের কারণে অতিষ্ঠি হয়ে উঠে দুদেশের ব্যবসায়ীরা।

দুই দেশের কাস্টমস, রেল মন্ত্রণালয় ও সকারের উচ্চ পর্যায়ে নীতি নির্ধারকরা ২০২০ সালের ৪ জুন রেল পথে পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর করোনার আগে বেনাপোল রেলপথে কেবল কার্গো রেলের মাধ্যমে ভারত থেকে সপ্তাহে একটি বা দুটি রেল আসতো। এখন প্রতিদিন কার্গোরেল, সাইডোর কার্গোরেল এবং প্যার্সেল ভ্যানের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হচ্ছে। এতে সরকারের যেমন রাজস্ব আয় হচ্ছে, তেমনি রেলেরও বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আদায় হচ্ছে।

বেনাপোল রেলস্টেশন সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল স্থলবন্দর রেলপথে চলতি ২০২০-২১ অর্থ বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে দুই লাখ ৩৯ হাজার ৪৫৪ দশমিক ৩ টন। যা থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ১১ কোটি ৮৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এদিকে গত বছরের ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ পথে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে এক লাখ ৮৪ হাজার ৭৩ দশমিক ৯ টন। যা থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮ কোটি ৮৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান জানান, বর্তমানে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে স্থলপথের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রেলপথে পণ্য আমদানি হচ্ছে। এতে বন্দরের রেল ইয়ার্ড না থাকায় পণ্য রাখতে কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে বন্দরে দুটি রেল ইয়ার্ড নির্মাণের ভিত্তি স্থাপনা করা হয়েছে। আশা করি খুব শিগগিরই এ সমস্যা সমাধান হবে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভারতীয় ট্রাক পার্কিং সিন্ডিকেট জিম্মি করে রেখেছে। ভারতীয় হাই কমিশনারসহ বিভিন্ন মহলে আবেদন করার পরেও আমরা কোনো সমাধান পাচ্ছি না। বর্তমানে রেলপথে সব ধরনের পণ্য আমদানি সচল রয়েছে। এতে গত বছরের তুলনায় এ বছর রেল খাতে সরকারের দিগুণ রাজস্ব আদায় হবে বলে তিনি জানান।

বেনাপোল কাস্টম কমিশনার মোঃ আজিজুর রহমান জানান, কন্টেইনারের মাধ্যমে আমদানি বাণিজ্য শুরুতে আমাদের স্টক হোল্ডারসহ সকল ব্যবসায়ীর বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। এতে সময় খরচ যেমন বাঁচবে তেমনি যথেষ্ট নিরাপত্তাও রয়েছে। গত ছয় মাসে সরকার ২৬১ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করেছে। তবে চলতি অর্থবছরে এটি বেড়ে দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 




বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ সংক্রান্ত  দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য, শিল্প ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এবং সিউলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সার্বিক ত্বত্তাবাধানে উভয় দেশের মধ্যে ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণ’ সম্পর্কিত প্রথম দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি  ২২ জানুয়ারী ২০২১ তারিখে (ঢাকা সময় সকাল ১১.০০ টায় এবং সিউল সময় দুপুর ২.০০ টায়)  অনলাইনে (জুমের মাধ্যমে) অনুষ্ঠিত  হয়। এই বৈঠকে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্বনামধন্য বাণিজ্যিক সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ৬২ জন অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত  দক্ষিণ কোরিয়ার  মান্যবর রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং-গুন (Lee Jang-keun) তার পূর্বে ধারণকৃত একটি বার্তায় এই বৈঠকের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ আলোচনাকালে পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার উপর জোর দেন।  চীন, ভারত এবং আসিয়ান অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই বিনিয়োগ আকর্ষণে সমর্থ হয়েছে যা তার  অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে  অর্থনৈতিক বিকাশে সহায়ক হয়েছে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার  বাণিজ্য, শিল্প ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক জনাব ইউন-জং চুন (Yoonjong Chun)  মন্তব্য করেন। এর ফলে, বাংলাদেশের প্রতি  কোরিয়ার বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তিনি জানান। তিনি দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বৈচিত্র্যকরণের উপর জোর দেন এবং ইস্পাত, জাহাজ নির্মাণ, রাসায়নিক ও উচ্চ প্রযুক্তির শিল্প সমুহকে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন।

বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের যুগ্মসচিব জনাব মোঃ আবদুর রহিম খান, বাণিজ্য নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের প্রচেষ্টার উপর আলোকপাত কালে বাংলাদেশের রফতানিকৃত পণ্যের বৈচিত্র্যকরণের উপর জোর দেন  এবং বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের উদ্যোগসমুহ তুলে ধরেন। বাংলাদেশে পণ্যের বৈচিত্র্যকরণের এই সুযোগ নিয়ে তিনি কোরিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আহবান জানান।

রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম তাঁর স্বাগত বক্তব্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত সহযোগিতার সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ  দক্ষিণ কোরিয়া কর্তৃক  বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্রসমুহ যেমন-সুনীল অর্থনীতি,জাহাজ শিল্প, বায়োটেক শিল্প, মাছ এবং সমুদ্র শৈবাল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্হাপন ইত্যাদি উল্লেখ করেন।  তাছাড়া, দুই দেশের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপন এবং  মতবিনিময়ের উপরেও তিনি জোর দেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত  দক্ষিণ কোরিয়ার  মান্যবর রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং-গুন (Lee Jang-keun)  তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে  দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিস্থিতি এবং এর ভবিষ্যত সম্পর্কে দিকনির্দেশনামূলক একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে এই বৈঠক সহায়ক হবে বলে রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার  ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (কোইমা)-এর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব হং গুয়াং-হি (Hong Kwang Hee)-এর মতে এই বৈঠক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাণিজ্য সংক্রান্ত কাঙ্ক্ষিত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে অবদান রাখবে। তিনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উভয় দেশের সরকারের পক্ষ হতে অব্যাহত সহযোগিতা প্রদানের আহ্বানও জানান।

 

এরপর, কোরিয়া বাণিজ্য-বিনিয়োগ প্রমোশন এজেন্সি (কোটরা) কর্তৃক ‘অর্থনৈতিক প্রবণতা এবং বাংলাদেশে কোরিয়ার ব্যবসায়িক উপস্থিতি’, কোইমা  কর্তৃক  ‘ভোক্তা বাজার ও আমদানিযোগ্য পণ্য’ বিষয়ক এবং  সিউলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস  কর্তৃক ‘বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণ’ সংক্রান্ত  উপস্থাপনা প্রদান করা হয়। পরে, প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা এই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ককে ভবিষ্যতে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যেকার  বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রসমুহ নিয়ে  দিকনির্দেশনামূলক মতামত প্রকাশ করেন।

পরিশেষে, সিউলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে বৈঠকটি সমাপ্ত হয়।




আগামী মাসেই উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি : অর্থমন্ত্রী

  • সংশোধিত স্বর্ণনীতিমালা অনুমোদন সহ ১ হাজার ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে সাত ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আগামী মাসেই এলডিসি থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদার স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, যে তিন ক্রাইটেরিয়ায় জাতিসংঘ উন্নয়নশীল দেশের মযার্দা দেয় তার সবগুলো পূরণ করা হয়েছে। করোনায় সামষ্টিক অর্থনীতিতে সাময়িক অসুবিধা তৈরি করলেও সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের ফলে এখন আবার সবাই যে যার কাজে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এ অবস্থায় দারিদ্র্য বাড়ার কোন কারণ নেই। যেসব সংগঠন বলছে করোনায় দারিদ্র্য বেড়েছে তা সঠিক নয়, অযৌক্তিক। সংশোধিত স্বর্ণনীতি মালা অনুমোদনসহ সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ১ হাজার ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে সাত প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বুধবার বিকেলে অর্থনৈতিক ও সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতিসংঘের সিডিপি’র ত্রিবার্ষিক সভায় বাংলাদেশকে চূড়ান্তভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদার সুপারিশ করা হবে। স্বল্পোন্নত বা এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এরফলে আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী পরিকল্পনায় দ্রুত দারিদ্র্যের হার কমেছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে মানুষের। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশ্বের প্রথম কয়েকটি দেশের মধ্যে এখন বাংলাদেশের নাম।

অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে অর্থনীতিতে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও একটি মানুষও কিন্তু না খেয়ে থাকছে না। বিনামূল্যে খাদ্য ও নগদ সহায়তা দেয়ায় দারিদ্র্য বাড়েনি। বরং প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের ফলে উৎপাদনমুখী শিল্পখাতে আবার চাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছে। এছাড়া প্যাকেজের আওতায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করায় সবাই আবার সুবিধা মতো কাজে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এ অবস্থায় দারিদ্র্য বাড়তে পারে না। দারিদ্র্য নিয়ে গবেষণা করা একটি বেসরকারী সংস্থার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের বিশ্লেষণ সঠিক নয়, মনগড়া। দেশের কেউ এখন আর খারাপ অবস্থায় নেই। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে দারিদ্র্যরা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যে রয়েছেন। গৃহহীনরে ঘর উপহার দেয়া হচ্ছে। খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা, বিধবাভাতা, বয়স্কভাতাসহ নানা রকম কর্মসূচী চালু রয়েছে। এ কারণে দারিদ্র্যের হার কমছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বাংলাদেশে দ্রুত দারিদ্র্যের হার কমায় বিভিন্ন সময় প্রশংসা করেছে। আর এ কারণে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেটা তাদের সার্টিফিকেট, তাদেরই তথ্য। স্বর্ণ নীতিমালা বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রী বলেন, এটা এটা পাশ করেছি। সংশোধনীতে তারা বলেছে যে পরিশোধিত না এনে অনেক দেশেই অপরিশোধিত স্বর্ণ এনে পরিশোধিত করে। পরিশোধনের জন্য তারা আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েছে, এগুলো পরিশোধন করার জন্য যে প্রয়োজনীয় ইক্যুইপমেন্ট লাগবে সেগুলো বসানোর জন্য অনুমোদন নিয়েছে। এগুলো খারাপ কিছু না, ভালোই।

করোনা ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, জন্য নির্ধারিত সময় এলেই ভ্যাকসিন নিবেন তিনি। আমি একা নিলেই তো হবে না। আমি এখনো সবার আগে টিকা নিতে চাই। যেদিন নেব সেদিন আমি সবার আগে থাকব এটা আশ্বস্ত করতে পারি। এখন ডেটসহ (তারিখ) অন্যান্য বিষয় নিয়ে কাজ চলছে। সমাজের বিভিন্ন এলাকা ধরে আমরা এগুলো (টিকা) বিতরণ করব, সেভাবেই এগোচ্ছে। সেজন্য বিভিন্ন ক্রাইটেরিয়া এবং বিভিন্ন বয়স বিবেচনায় নিয়ে এগুলো করা হবে। আমার জন্য নির্ধারিত সময় কখন আসবে আমি এখনো জানি না, যেদিন আসবে আমি নিশ্চয়ই সেদিন ভ্যাকসিন নেব।

১ হাজার ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে সাত ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন ॥ সংশোধিত স্বর্ণনীতিমালার অুনমোদসনহ ১ হাজার ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে সাত ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। অর্থমন্ত্রী জানান, বলেন, প্রথমে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে দুইটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে আমরা একটি প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছি একটি প্রস্তাব ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে ৮ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে ৭ প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে খরচ হবে ১১৪২ কোটি ৬৯ লাখ ৯৮ টাকা। মোট অর্থায়নের মধ্যে জিওবি খাত থেকে পাওয়া যাবে ১১১০ কোটি ৭৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪০১ টাকা এবং বিশ্ব ব্যাংক ও জাইকা থেকে ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে ৩১ কোটি ৯২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৯৭ টাকা। প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ৫টি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ২টি এবং বিদ্যুৎ বিভাগের ১টি প্রস্তাবনা ছিল।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় হাতিরঝিল-রামপুরা সেতু-বনশ্রী-শেখেরজায়গা-আমুলিয়া-ডেমরা মহাসড়ক (চিটাগাং রোড মোড় এবং তারাবো লিংক মহাসড়কসহ) পিপিপি ভিত্তিতে ৪-লেনে উন্নীতকরণ কনসোর্টিয়াম চায়না রোড এ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন এর সঙ্গে পিপিপি চুক্তি বাস্তবায়নে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বর্ণ নীতিমালা (২০১৮ সংশোধন করে প্রস্তাবিত “স্বর্ণ নীতিমালা (সংশোধিত)” নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক ‘শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগ) (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের ২৩ হাজার ৬৫০টি এসপিসি পোল বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেড নিকট থেকে ৩২ কোটি ৩৭ লক্ষ ৮৬ হাজার ৯০০ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গৃহায়ণ গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ সদস্যদের জন্য ৯টি আবাসিক টাওয়ার ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় ডেমরা পুলিশ লাইন্স এলাকায় ২০তলা আবাসিক ভবন নির্মাণের পূর্ত কাজ ৮০ কোটি ৩৫ লক্ষ ৩২ হাজার ২৯৭ টাকায় টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গৃহায়ণ গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক শহর এলাকায় স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য উন্নত জীবন ব্যবস্থা (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের পরামর্শক সেবা নিকট থেকে ক্রয়ের ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ১৩ কোটি ৪ লক্ষ ৩ হাজার ৭২৯ টাকার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে কয়েকটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।




সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে : শিল্প প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেছেন, সরকার সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছে। সহজলভ্য সেবা জনগণের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।

          শিল্প প্রতিমন্ত্রী ররিবার রাজধানীর মিরপুরের মনিপুরে অবস্থিত মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের মূল বালক শাখা এবং রূপনগরে অবস্থিত কলেজ শাখায় ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) এর দু’টি উপশাখা উদ্বোধনকালে একথা বলেন।

          কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, করোনার এ সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেজন্য সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় অপচয় না করে বাসায় পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার জন্য ছাত্রছাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানান এবং এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।

          ইউসিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শওকত জামিল, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ফরহাদ হোসেনসহ কলেজের গভর্নিং বডি’র সদস্যবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন




৩৭টি ব্যাংককে বিল কালেকশন এওয়ার্ড প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক :  স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম আজ ঢাকা ওয়াসা ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে আয়োজিত সরকারি-বেসরকারি ব্যাংককে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃক ‘বিল কালেকশন এওয়ার্ড-২০১৯-২০ইং’ প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি ৩৭টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের হাতে এ ‘এওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।

          এওয়ার্ড প্রদানশেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে মন্ত্রী বলেন, নগরীর পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা ঢাকা ওয়াসা থেকে দুই সিটি কর্পোরেশনের নিকট হস্তান্তরের পর থেকেই কাজ শুরু হলেও আগামী সপ্তাহে দুই সিটি কর্পোরেশনকে নিয়ে মন্ত্রণালয়ে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হবে। দুইমেয়রের পরিকল্পনা জেনে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও কর্মপরিকল্পনা ঠিক করে দেয়া হবে। ঢাকা শহরের নাগরিক সমস্যাসমাধানে একটি আধুনিক বাসযোগ্য শহর করতে যা যা দরকার, তা করা হবে।

          আমিনবাজারে বর্জ্যের স্তূপপ্রসঙ্গে বলেন, মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি রাজধানীর বর্জ্যব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমিনবাজারে ইন্সিনেরেশন প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে এবং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইন্সিনেরেশন প্লান্টে প্রতিদিন যে পরিমাণ বর্জ্য লাগবে, সে পরিমান বর্জ্য সরবরাহ করলে যেখানে সেখানে আর ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকবে না। সকল সিটি কর্পোরেশন এবং জেলায় ইন্সিনেরেশন প্লান্ট স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

          মন্ত্রী বলেন, সকলের অংশগ্রহণ থাকলে যে কোনো সমস্যা সমাধানের বড় উদাহরণ হচ্ছে, রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবনিয়ন্ত্রণ। নগরবাসীর অংশগ্রহণ ও সচেতনতা এবং সকলের সমন্বিত উদ্যোগে এখন পর্যন্ত মশা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যদিও আইডিসিআর পূর্বাভাস দিয়েছিল ২০১৯ এর তুলনায় ২০২১ সালে তিনগুণ মানুষ আক্রান্ত ও মৃত্যু হবে।

          ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার তাকসিম এ খানের সভাপতিত্বে ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইবরাহীম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।