উপসাগরীয় দেশগুলোতে চরম উত্তেজনা

দোহা থেকে কুয়েতজুড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সময়ের চিত্র ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের তৃতীয় দিনে উপসাগরীয় দেশগুলোতে উত্তজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সোমবার সকালে কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার শব্দ এবং বিমান হামলার সাইরেনে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর আল জাজিরা।

 

কাতারের রাজধানী দোহায় স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে পর পর বেশ কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা যায়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এগুলো প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের শব্দ, যা আকাশপথে ধেয়ে আসা ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের সময় তৈরি হয়। সকালে দোহাবাসীর ঘুম ভেঙেছে এই যুদ্ধের দামামার মধ্য দিয়েই।

 

কুয়েতের আকাশেও সোমবার সকালে বড় ধরনের সামরিক বিপর্যয় ঘটেছে। বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একটি মার্কিন এফ-১৫ই ‘স্ট্রাইক ইগল’ যুদ্ধবিমানের পেছনের অংশে আগুন ধরে যায় এবং সেটি ঘুরতে ঘুরতে নিচে পড়ে যায়।

 

সৌভাগ্যবশত, দুইজন পাইলটই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন এবং স্থানীয়রা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, সকালে একের পর এক বেশ কিছু মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করে এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে।

 

এদিকে, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের দিক থেকেও ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে এবং সেখানে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থির।

 

বাহরাইনেও সকাল থেকে দফায় দফায় বিমান হামলার সাইরেন বেজেছে। ইরানের পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে বাহরাইন নিয়মিতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণের শিকার হচ্ছে।

 

কিংস কলেজ লন্ডনের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ রব গিস্ট পিনফোল্ড আল জাজিরাকে জানান, ইরান অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তার মতে, ইসরাইলের তুলনায় উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করা ইরানের জন্য সহজ।

 

তিনি বলেন, ইরান মনে করছে এই দেশগুলোতে হামলা চালালে তারা দ্রুত যুদ্ধবিরতির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। কারণ, এই দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয়। উপসাগরীয় দেশগুলো বর্তমানে দ্বন্দ্বে আছে, তারা কি এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের পক্ষ নেবে, না কি নিরপেক্ষ থাকবে। ইরান মূলত তাদের এই দুর্বলতাকেই কাজে লাগাচ্ছে।

 

যদিও ওপর ওপর উপসাগরীয় দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা বলছে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ইরানের সাথে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে তা নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে গভীর মতভেদ রয়ে গেছে। সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নিজেদের স্বার্থ বজায় রাখা এখন এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর