সময়ের চিত্র ডেস্ক:
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ভারতের নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) আয়োজিত ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনায় তিনি অডিও বার্তার মাধ্যমে এ বক্তব্য দেন।
বক্তব্যে শেখ হাসিনা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনকে অবৈধ ও সহিংস আখ্যা দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থা গণতন্ত্রবিরোধী এবং ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার ভাষায়, বাংলাদেশ বর্তমানে চরম সংকটের মুখে।
শেখ হাসিনা দাবি করেন, দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে, নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গত ৫ আগস্টের ঘটনাকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময় থেকেই দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, মব সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের জন্য তিনি উগ্রবাদী গোষ্ঠী ও বিদেশি স্বার্থকে দায়ী করেন।
বক্তব্যে শেখ হাসিনা আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসন জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কৌশলগত সম্পদ বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দিচ্ছে, যা দেশকে আঞ্চলিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তিনি পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১) নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য বর্তমান প্রশাসনের পরিবর্তন,
২) সহিংসতা বন্ধ করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,
৩) নারী, সংখ্যালঘু ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ,
৪) সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
৫) সাম্প্রতিক ঘটনাবলি তদন্তে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা।
বক্তব্যের শেষ অংশে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে দেশের গণতান্ত্রিক ধারার গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তিগুলোকে সংবিধান ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
এক পর্যায়ে তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নির্বাচনের মাধ্যমে যে কোনো আসনে তার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চ্যালেঞ্জও দেন।