চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার চরফ্যাশনে দানকৃত জমিতে ৩৫ বছর পর স্কুল ঘর নির্মাণ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে দক্ষিণ আইচা থানার চরমানিকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাশেম মিয়ার বাড়ির দরজায় এই ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত মিয়া মুন্সির ছেলে মো. নুরনবী মিয়া (৫৫) দক্ষিণ আইচা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নুরনবী মিয়ার বাড়ির পাশে প্রায় ৫০ শতক জমির ওয়ারিশসূত্রে মালিক ছিলেন তিনি। প্রায় ৩৫ বছর আগে এলাকার শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি ওই জমি পূর্ব চর আইচা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে একটি প্রতিষ্ঠানে দান করেন। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও জমিটিতে কোনো বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। পরবর্তীতে তিনি জমি ফেরত পেতে চরফ্যাশন আদালতে দেঃ নং ৮৬৩/২০২৫ ইং মামলা দায়ের করেন। আদালত উক্ত জমির ওপর উকিল কমিশনের নির্দেশ দেন। জমিতে কোন ঘর বা স্থাপনা নাই মর্মে উকিল কমিশন রিপোর্ট এ উল্লেখ করেন। এতে মামলার বিবাদী পক্ষের উপর রুল জারি করে ৭ দিনের মধ্যে আদালত জবাব চান। দাতা জমি ফেরত পাওয়ার তৎপর দেখে তার বড় ভাই আবুল কাশেম মিয়া, ও জান্নাতুল ফেরদাউস এবং ডালিয়া রহমান রত্না দানকৃত জমিতে অবৈধভাবে স্কুল ঘর নির্মাণ করে দখল নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী নুরনবী অভিযোগ করে বলেন, স্কুল নির্মাণের টের পেয়ে আমি বাধা দিতে গেলে আমার বড় ভাই আবুল কাশেম মিয়ার নেতৃত্বে অভিযুক্তরা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নুরনবীর বাড়ির পাশের জমিতে টিন ও কাঠ দিয়ে একটি স্কুল ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করতে দেখা যায়। জমির আশপাশে ভিড় জমিয়েছেন স্থানীয়রা। কেউ কেউ কাজ বন্ধের দাবি জানালেও অভিযুক্ত পক্ষ নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, এতে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ছিল। আদালতের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরও সেখানে কাশেম মিয়া ঘর তোলা নিয়ে এলাকায় দুপক্ষের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি যেকোনো সময় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল কাশেম মিয়া বলেন, জমিটি বিদ্যালয়ের নামে দানকৃত করেছে ছোট ভাই নুরনবী এটা সত্য। এখানে স্কুল ঘর ছিল, সেটি ভেঙ্গে পরায় এখন আবার সংস্কার করছি। আদালতের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে গিয়ে বলেন আমরা কাউকে মারধরের হুমকি দেয়নি।
দক্ষিণ আইচা থানার তদন্তকারী অফিসার এ এস আই প্রতাপ চন্দ্র দাশ বলেন, নুরনবী মিয়ার লিখিত অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’পক্ষকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।