কনকনে শীতে বিপর্যস্ত কুড়িগ্রাম, বৃষ্টির মতো পড়ছে কুয়াশা

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম :

উত্তরাঞ্চলের শেষ জেলা কুড়িগ্রাম। সকালে বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে। সন্ধ্যার পর নামছে ঘন কুয়াশা। সেই সঙ্গে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে-খাওয়া দিনমজুর ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা।

 

রোববার (০৪ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় কুড়িগ্রাম জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ।

 

হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এ অঞ্চলে দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে শীত। দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় কুড়িগ্রাম জেলাজুড়ে শীতের দাপট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমর, ধরলাসহ ১৬ নদ-নদীর চরাঞ্চলের মানুষ।

 

কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের ভ্যানচালক মোঃ সাইদুর রহমান (৫৫) বলেন, ঠান্ডা এত বেশি যে গাড়ি নিয়ে বের হলে শরীর শীতল হয়ে যায়। ঠান্ডায় হাত-পা কাঁপে। ঠান্ডার কারণে ভ্যান চালাতে পারছি না। আগে অনেক কামাই হতো, এখন আর হয় না। এমন ঠান্ডা আগে দেখিনি।

 

ধরলা নদীর পাড় এলাকার মোঃ আজাহার আলী (৭৫) বলেন, আমরা নদীর পাড়ের মানুষ। এখানে খুব ঠান্ডা। বয়স্ক মানুষরা খুব কষ্টে আছি। অ্যাজমার সমস্যা বেড়ে যায়, শরীর সারাক্ষণ হাঁপায়।

 

শীতের এই তীব্রতায় কুড়িগ্রাম জেলার শীতার্ত মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা অবিলম্বে সরকারি ও বেসরকারিভাবে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ এবং মানবিক সহায়তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

 

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, রোববার (০৪ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় কুড়িগ্রাম জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ।

 

আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা এমনই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরের হিমেল বাতাস এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর