সময়ের চিত্র ডেস্ক:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস ও পাশের জোবরা গ্রামে টানা দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১৮০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৬০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রবিবার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে বহু শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে অনেককে মাথা, হাত ও পায়ে ব্যান্ডেজসহ স্ট্রেচারে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভর্তির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াদ আহমেদের অভিযোগ— স্থানীয়রা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হঠাৎ হামলা চালায় এবং কিছু শিক্ষার্থীকে ভবনে আটকে রাখা হয়। তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে এক ছাত্রীকে মারধরের জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৭০ শিক্ষার্থী আহত হন। গভীর রাতে সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও রবিবার দুপুরে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয় এবং আরও অন্তত ১১০ শিক্ষার্থী আহত হন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, তাদেরও অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
ঘটনার পর রোববার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ক্যাম্পাসে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে মোতায়েন করা হয়। এর আগে বিকেল ৩টার দিকে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট বাজার থেকে রেলগেট পর্যন্ত এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন।