Home আইন আদালত শুধু আইন দিয়েই কি যৌতুক বন্ধ করা সম্ভব?

শুধু আইন দিয়েই কি যৌতুক বন্ধ করা সম্ভব?

377
0
SHARE
Spread the love

হুমায়েরা খানম তানজু:

যৌতুক কতটা ভয়ংকর তার একটা রূপরেখা আমরা দেখিঃ
গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর মুনা আক্তার হত্যায় আদালতকে দেয়া পুলিশের প্রতিবেদন বলছে, ৭/৮ মাসে মুনার সাথে পারভেজের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে পারভেজ মুনাকে চাপ দিতে থাকে যৌতুকের চার লাখ টাকা এনে দেয়ার জন্য।ঘটনার দিন মুনাকে প্রথমে লোহার পাইপ পেটানো এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮ ঃ এই আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপসযোগ্য হবে।

ধারা ২ (খ) যৌতুক ঃ যৌতুক অর্থ বিবাহে এক পক্ষ দ্বারা অন্য পক্ষের কাছে বৈবাহিক সম্পর্ক তৈরী করার জন্য পূর্ব শর্ত হিসেবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পণ দাবি করাকে বুঝায়।তবে মুসলিম ধর্মের দেনমোহর বা আত্মীয় স্বজনদের দেয়া উপহার যৌতুক হিসেবে ধরা হবে না। ধারা ৩ঃ কেউ যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যৌতুকের দাবি করেন তবে তা হবে এই আইনের অধীনে একটি অপরাধ এবং সেজন্য তিনি অনধিক(৫) বছর এবং অন্যূন ১ বছর বা অনধিক ৫০,০০০(পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হবে।ধারা ৪ঃ কেউ যদি যৌতুক প্রাদান, গ্রহণ কিংবা গ্রহণে সাহায্য করে তাহলে তাকে অনধিক ৫ বছর কিন্তু অন্যূন ১ বছর বা অনধিক ৫০,০০০( পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হবে।ধারা ৬ঃ যদি কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীনে মিথ্যা মামলা করেন, তাহলে তাকে অনধিক ৫ বছর কারাদন্ড বা অনধিক ৫০,০০০ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হতে হবে।
যারা আইনের অপব্যবহার করে মিথ্যা মামলা করেন তাদেরও শাস্তির বিধান আছে।

নারী নির্যাতন দমন আইন,২০০০
ধারা ১১(ক) ঃ যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করলে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডনীয় হবে।

(খ) মারাত্মক জখম করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড অথবা অনধিক ১২ বছর কিন্তু অন্যূন ৫ বছর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হবে এবং অর্থদন্ড দন্ডনীয় হবে।

(গ) সাধারণ জখম করার জন্য অনধিক ৩ বছর এবং অন্যূন ১ বছর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হবে এবং অর্থদন্ডে দন্ডনীয় হবে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সংগঠনটি বলছে, গত ২০১২-২০১৭ পর্যন্ত যৌতুকের জন্য হত্যার শিকার হয়েছেন ১ হাজার ১৫১ জন নারী।২০১৮ সালে এই সংগঠনটি বলছে ১০২ জন নারী যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে।বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী গত দুই বছরে ৬৭২৮ টি যৌতুকের মামলা হয়েছে। যদিও আসক বলছে যৌতুকের কারণে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা কম হচ্ছে।

আমাদের সমাজে মেয়েদের যেভবে দেখা হয় তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়নি।যৌতুক দেয়া নেয়া এখনো সমাজে প্রচলিত আছে। বাংলাদেশে যৌতুকবিরোধী আইন আছে। কিন্তু এর তোয়াক্কা করছে না। আমাদের দেশে ৮৭ ভাগ মেয়ে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর সিংহ ভাগই হচ্ছে যৌতুকের কারণে।এটা পরিসংখ্যান ব্যুরোর রিপোর্টে উঠে এসেছে।

শুধু আইন দিয়ে এই অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার অবশ্যই নারীদের শিক্ষিত করে তোলা, তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা, অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা এবং আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ। তবেই নারী নির্যাতন থেকে মুক্তি পাবে বলে আশা করছি।

লেখক: হুমায়েরা খানম তানজু

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী।