Home মতামত মাদকাসক্তি সব সন্ত্রাস এবং অপরাধের জনক

মাদকাসক্তি সব সন্ত্রাস এবং অপরাধের জনক

479
0
SHARE
Spread the love

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ :২(৩১) কোন ব্যক্তি  যদি শারীরিক এবং মানসিকভাবে মাদকদ্রেব্যের উপর নির্ভরশীল  হয়ে পড়ে তাকে মাদকাসক্ত বলে। ঐশীর নিজের বাবা মাকে খুন , সিনহা বা ১১ ডিসেম্বর ঘটে যাওয়া তালহা হত্যাই মাদকসক্তি ভয়ংকর ফল।পথশিশু থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  সব জায়গায় ছড়িয়ে  পড়েছে মাদক।

 

বাংলাদেশে ৯১ শতাংশ কিশোর,তরুণ এবং যুবক মাদকাসক্ত। মাদকাসক্তের ৮০ শতাংশই যুবক।তাদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ বেকার এবং ৫০ শতাংশ অপরাধের সাথে জড়িত।এ দেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন বলছে,  মাদকাসক্তের মধ্যে ৮৪ ভাগ পুরুষ এবং ১৬ ভাগ নারী।মানসের পরিসংখ্যান বলছে ২০১৫ ইং সালের থেকে  মাদকাসক্ত বৃদ্ধি পেয়ে ১,৫৩,৯০,০০০ পৌঁছে গিয়েছে। ২০১৭ অর্থনৈতিক  সমীক্ষা অনুযায়ী জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭%। UNDP দেয়া তথ্য মতে মাদাকাসক্ত বৃদ্ধির হার ৩.৮%। মাদক দ্রব্য আমাদনির জন্য প্রতি বছর ১০ হাজার কোটিরও বেশি টাকার মুদ্রা বিদেশে পাচার হচ্ছে।সারাদেশে প্রায় ৩০ লাখ মাদক ব্যবসায়ী প্রতিদিন কমপক্ষে প্রায় ২০০ কোটি টাকার মাদক কেনাবেচা করে।সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া ইয়াবার শতকরা ৮৫ ভাগই ভেজাল যার ফলে এসব ইয়াবা গ্রহণকারী নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে(সূত্রঃএকুশে টেলিভিশন)। সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের  তথ্য অনুযায়ী শতকরা ৮০ ভাগ খুনের সঙ্গে মাদকাসক্তরা জড়িত।৪০ বছর বয়সের পরে আকস্মিক  মৃত্যুর ৫০ শতাংশই ঘটে মাদকাসক্তির কারণে।আইন মন্ত্রালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩ লাখ ১২ হাজার মাদক মামলা রয়েছে,  যা মোট মামলার ২৭ শতাংশ।অন্যদিকে গত ১১ মাসে নতুন মাদক আইনে মামলার সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার (সূত্র ২৮ অক্টোবর ২০১৯, প্রথম আলো)। ২০২০ সালে (জানুয়ারি -অক্টোবর) দয়ের কৃত মোট মামলার সংখ্যা ২৬,৮১১ টি।(সূত্রঃwww. Bgb.gov.bd)

ধারা ৯: অ্যালকোহল ব্যতীত অন্যান্য মাদকদ্রব্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাত,  ক্রয়, বিক্রয় করতে পারবে না।

ধারা ১০ : লাইসেন্স ব্যতীত কেউ অ্যালকোহল আমদানি, রপ্তানি, ক্রয় -বিক্রয় করা যাবে না।

ধারা : ১১(১) পারমিট ছাড়া অ্যালকোহল পান করা যাবে না তবে ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ হিসেবে অ্যালকোহল গ্রহণ করা যাবে।

১১(২) মুচি, ম্যাথড, ডোম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার লোকজন নিজেদের উৎপাদিত অ্যালকোহল পান করতে পারবে।

১১(৩): লাইসেন্স প্রাপ্ত বার-এ বসে বিদেশি এবং দেশিয় নাগরিকরা অ্যালকোহল পান করতে পারবে।

১৯(১) মহাপরিচালকের অনুমতি ছাড়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোন মদের দোকান বন্ধ করা যাবে না তবে ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কমিশনার যদি মনে করেন তার এলাকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষার সুবিধার্থে কোন বার বন্ধ করতে, তাহলে তিনি লিখিত আদেশ দ্বারা ৩০ মধ্যে  দিনের বার বন্ধ করতে পারবেন।

১৯(২)জরুরী প্রয়োজনে আরো ৩০ দিনের জন্য বার বন্ধ রাখতে পারবেন। ধারা ২১ এবং২৩ : বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার এবং তল্লাশি করতে পারবেন ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তি।

৩১(১)(ক):অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনের সময়  পুলিশ অফিসার যদি হাতে নাতে ধরতে পারে তাহলে ধরার ৩০ দিনের মধ্যে তদন্তের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

৩১(১)(খ) পুলিশ যদি হাতেনাতে ধরতে না পারে তবে অন্য রিপোর্টে মাধ্যমে ধরতে পারলে ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত  সম্পন্ন করতে হবে।

৩১(২)(১): ১ উল্লেখিত সময় সীমার মধ্যে যদি তদন্ত করতে না পারে অতিরিক্ত ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে।

৩১ (৩)(২): ২ উল্লেখিত সময়সীমার মধ্যে যদি তদন্ত সম্পন্ন করতে না পারে তাহলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাইবুনালকে জানাতে হবে।

৩৬: ইয়াবা,  মদ, গাজা ইত্যাদি  রাখার শাস্তি দেয়া  আছে যেমন : (ক) শ্রেণী অর্থাৎ  পপিগাছ, ফল, কোকা গাছ ইত্যাদি রাখার সর্বনিম্ন  শাস্তি অন্যূন ৩ মাস এবং সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যদন্ড।

(খ)  শ্রেণী অর্থাৎ  গাজা গাছ,  ইথাইল অ্যালকোহল, ভাং, সিদ্ধি  ইত্যাদি রাখার জন্য সর্বনিম্ন শাস্তি অন্যূন  ৩ মাস এবং সর্বোচ্চ  শাস্তি অনূর্ধ্ব  ১০ বছর কারাদন্ড।

(গ) শ্রেণীর  অর্থাৎ  তাঁড়ি,পচুঁই, মিথাইল অ্যালকোহল  রাখার সর্বনিম্ন  শাস্তি অন্যূন ৬ মাস  এবং অনূর্ধ্ব ৭ বছর।

৩৯(গ) : কোন ব্যক্তিকে হয়রানিমূলক তল্লাশি করেন অথবা গ্রেফতার করেন তাহলে অনূর্ধ্ব ১ বছর কারাদন্ড অথবা অর্থদন্ড  অথবা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হবে।

৪৭(২) : কোন মদকদ্রব্যের অপরাধের তদন্ত সমাপ্তির পর যদি আদালত মনে করেন যে, আসামী এই অপরাধের সাথে জড়িত নয় তাহলে তাকে জামিন দেয়া হবে।

৫৩: ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে রায় প্রদানের দিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল  করা যাবে তবে রায়ের জাবেদা নকল পাওয়ার জন্য যে সময় লাগবে তা উক্ত সময় হতে কাটা হবে।

বাংলাদেশ পুলিশের অনেক ভালো কর্মকান্ডের সাক্ষী পুরো বাংলাদেশ। তবে কিছু কিছু পুলিশ সদস্য মাদকদ্রব্য গ্রহণ করা এবং ব্যবসার  সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার বিবিসিকে জানান, দেড় বছর আগে জেলায় ১২ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য গ্রহণের অভিযোগ উঠে।এরপর তাদের ডোপ টেস্ট করানো হয় এবং প্রমাণ হওয়ার পর ৮ জন সদস্যকে চাকুরী চ্যুত করা হয়। তাছাড়া ২০১৮ পুলিশের বিরুদ্ধে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে গ্রেফতার করার অভিযোগ উঠেছে। এ যেনো মরার উপর খাঁড়ার ঘাঁ অবস্থা।

সরকার এত পদক্ষেপ নিচ্ছে তাও কেন মাদকের সরবারহ কমছে না? অর্থনীতিতে Demand and supply তত্ত্ব অনুযায়ী কোন পণ্যের চাহিদা থাকলে সরবারহ আসবেই কিন্তু একেবারেই যে সরবারহ কমছে না তা নয়।ফলে চাহিদা  টা কেন তৈরী হচ্ছে সে বিষয় নজর দিতে হবে। বেকারত্ব,  হতাশা ইত্যাদির কারণে মাদকের দিকে ঝুঁকছে  যুবসমাজ।  আসলে কি কি করলে এর থেকে উত্তরণ সম্ভব: গণমাধ্যমকে এর বিরুদ্ধে প্রচার বাড়াতে হবে , মাদক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পৃথক আদালত গঠন করা যেতে পারে, সীমান্ত এলকায় মাদক পাচারে জড়িত অতি দরিদ্রদের  কর্মসংস্থানের  সুযোগ করে দেয়া যেতে পারে,  মাদকের পাচাররোধ করতে আন্তর্জাতিক  যোগাযোগ বৃদ্ধি  করা এবং কেউ যেনো ক্ষমতার অপব্যবহার করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

তাছাড়া ২ জানুয়ারী ২০২০ থেকে একটি হটলাইন নাম্বার চালু হয়েছে।  মাদক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো.জামালউদ্দিন আহমেদ বলেন ০১৯০৮৮৮৮৮৮৮ নাম্বারে ফোন করে মাদক  অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে পারবেন এবং মাদক তথ্য দিতে পারবেন।ফলে জনসাধারণ অংশগ্রহণে মাদকমুক্ত  বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

লেখক:

হুমায়েরা খানম তানজু

শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ

American International University-Bangladesh (AIUB)