খেলাধুলা

 ৫ উইকেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অস্টেলিয়ার জয় 

খেলাধুলা ডেস্ক:

এ যেন ১৯৯৯ আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের অস্ট্রেলিয়া। নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচের প্রথম দুটিতেই হেরে গিয়েছিল তারা। সেখান থেকে পরে টানা সাত ম্যাচে জিতে একেবারে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গিয়েছিল স্টিভ ওয়াহের দলটি। এবারের চলমান বিশ্বকাপে প্যাট কামিন্সের অস্ট্রেলিয়া দলকে বলা হচ্ছিল ‘ বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্ব জঘন্য’ দল! কেননা প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে যাচ্ছেতাইভাবে হারে তারা। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং… সব বিভাগেই যা তা পারফর্ম্যান্স! ফলে লিগভিত্তিক এই টুর্নামেন্টে তারা সেমিফাইনালে যেতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিস্তর সংশয় ছিল।

কিন্তু সোমবার রাতে সেটা কিছুটা হলেও দূর করেছে সর্বাধিক পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কেননা দাপুটে ও প্রথম জয়ে শেষ চারে নাম লেখানোর আশা বাঁচিয়ে রেখেছে ক্যাঙ্গারুর দেশটি। লক্ষেপৌছতে অনুষ্ঠিত আইসিসি ত্রয়োদশ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১৪ নম্বর ম্যাচে তারা ৫ উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। ৪৩.৩ ওভারে শ্রীলঙ্কার করা ২০৯ রান টপকে অস্ট্রেলিয়া ৩৫.২ ওভারে ৫ উইকেটে করে ২১৫ রান। ম্যাচসেরা হন বিজয়ী দলের অ্যাডাম জাম্পা।
সেমির আশা জিইয়ে রাখলেও পয়েন্ট টেবিলে এখনো বেশ নিচের দিকেই আছে সর্বাধিক সাতবারের ফাইনালিস্ট অস্ট্রেলিয়া। ৩ ম্যাচে ১ জয় ও ২ হারে ২ পয়েন্ট নিয়ে তাদের অবস্থান ১০ দলের মধ্যে অষ্টম। যদিও তাদের সমান পয়েন্ট ইংল্যান্ড, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের। কিন্তু রানরেট কম হওয়ায় দেশ তিনটির পেছনে আছে অস্ট্রেলিয়া। পক্ষান্তরে টানা তিন ম্যাচেই হেরে পয়েন্টশূন্য শ্রীলঙ্কা আছে অস্ট্রেলিয়ার ঠিক নিচেই। সেমিতে যাওয়ার সম্ভাবনা আরও কঠিন করে ফেলল তারা।
ম্যাচে ফেরা যাক। অটল বিহারী বাজপেয়ি স্টেডিয়ামে খেলতে গিয়ে নির্ধারিত পুরো ৫০ ওভার পর্যন্ত আর ‘অটল’ থাকতে পারেনি শ্রীলঙ্কা! অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এমনটাই হয় একবারের শিরোপাধারী শ্রীলঙ্কার। ৪৩.৩ ওভারে ২০৯ রান করে অলআউট হয়ে যায় লঙ্কাবাহিনী।
যদিও টসে জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। শুরুটা একেবারে উড়ন্ত-দুরন্তই করে তারা। রান রেট প্রায় ৬ রেখেই চমৎকার উইলোবাজি করেন দুই ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা এবং কুসল পেরেরা। দুজনেই হাঁকান উদ্ভাসিত অর্ধশতক। এই দুই ব্যাটার মাত্র ২১.৪ ওভারেই স্কোরবোর্ডে জমা করে ফেলেন ১২৫ রান। ওই রানেই নিশাঙ্কা (৬১) আউট হয়ে সাজঘরে ফিরলে উইকেট পতনের পালা শুরু হয় লঙ্কাবাহিনী। দলীয় ১৫৭ রানে বিদায় নেন কুসল-ও (৭৮)। এরপরই বাকিদের আসা-যাওয়ার ‘প্রতিযোগিতা’ শুরু হয়। আগের দুই ম্যাচে হারলেও শ্রীলঙ্কা প্রতিবারই ৩০০-এর বেশি রান করেছিল।

ফলে তারা অসিদের বিরুদ্ধেও এই ম্যাচে ব্যাটিং সামর্থ্যরে পরিচয় দেবে, এমনটাই ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু সেই আশায় গুড়েবালি ঢেলে দেন বাকি আট উইলোবাজ। মাত্র ৫২ রানে শেষ ৯ উইকেটের পতন ঘটে! দারুণভাব ম্যাচে ফিরে আসেন অসি বোলাররা। একে একে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন দলীয় ১৬৫ রানে কুসল মেন্ডিস (৯), ১৬৬ রানে সাদিরা সামারাবিক্রমা (৮), ১৭৮ রানে ধনঞ্জয়া ডি সিলভা (৭), ১৮৪ রানে দুনিথ ভেল্লালাগে (২), ১৯৬ রানে চামিকা করুণারতেœ (২), ১৯৯ রানে মহিশ থিকশানা (০), ২০৪ রানে লাহিরু কুমারা (৪) এবং ২০৯ রানে চারিথ আসালঙ্কা (২৫)। দিলশানা মদুশঙ্কা অপরাজিত থাকলেও কোন রান করতে পারেননি (০)। আর অতিরিক্ত খাত সর্বসাকুল্যে আসে মোটে ১ রান!
অসি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা (৪/৪৭)। এ ছাড়া উইকেট শিকার করেন প্যাট কামিন্স (২/৩২), মিচেল স্টার্ক (২/৪৩) এবং গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (১/৩৬)।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ২৪ রানেই (৩.১ ওভারে) ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারকে (১১) হারিয়ে ফেলে অসিরা। ওই স্কোরেই সাজঘরে ফেরেন স্টিভেন স্মিথ (০)। বেকায়দায় পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। হাল ধরেন মিচেল মার্শ এবং মার্নাস লাবুচেঞ্জ। দলীয় ৮১ রানে মার্শ রানআউট হওয়ার আগে করেন অর্ধশতক (৫২)। ১৫৮ রানের মাথায় আউট হন মার্নাস (৪০)। দলীয় ১৯২ রানে যখন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জশ ইংলিস (৫৮) সাজঘরে ফেরেন, তখন অস্ট্রেলিয়ার জয় একেবারেই নাগালে। হয়ও তাই। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (৩১*) এবং মার্কাস স্টয়নিস (২০*) দলকে জয়ের বন্দরে নোঙর করিয়ে দেন। লঙ্কান বোলার মদুশঙ্কা ৩টি ও ভেল্লালাগে ১টি উইকেট শিকার করলেও জয়ের জন্য তা মোটেও যথেষ্ট ছিল না।
এখন দেখার বিষয়, এবারের বিশ^কাপের শিরোপা জিতে ১৯৯৯ সালের স্টিভ ওয়াহ হতে পারেন কি না প্যাট কামিন্স।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button