বিদেশ

৫৬০ ফিলিস্তিনি নিহত , ইসরায়েলের হামলা জোরদার

অনলাইন ডেস্ক:

একের পর এক হামলা চালিয়েই যাচ্ছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। গাজার রিফিউজি ক্যাম্পগুলোও বাদ যাচ্ছে না। ফিলিস্তিনে স্বাস্থ্য বিভাগ সোমবার জানিয়েছে, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৫৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৯০০।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, গাজার পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ। সেখানকার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি বলেন, কয়েকটি স্কুলে গাদাগাদি করে হাজারো ফিলিস্তিনি রিফিউজি আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে নেই বিদ্যুৎ। নেই কোনো খাবার। এমনকি পানিও পাচ্ছেন না।

এভাবে স্কুলে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা জানালেন, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেছে। অন্যত্র চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু তাদের যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র বিভাগ জানায়, দুইটি শরণার্থী শিবিরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

এরই মধ্যে এবার ফিলিস্তিনি গোষ্ঠি হামাসের বিরুদ্ধে অনেক বড় পরিসরে সেনা নামাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি সোমবার বলেন, দেশের ওপর এত বড় হামলার জবাব দিতে শুরু করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী।

এর আগে শনিবার ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। ৫ হাজারের বেশি রকেট হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৮০০ ইসরায়েলি মারা গেছেন। এর মধ্যে একটি গানের উৎসবে রকেট হামলায় মারা গেছেন ২৬০ জন।

ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে গাজায় পানি সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের বিদ্যুৎ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া গাজা উপত্যকা সম্পূর্ণ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউয়াব গ্যালান্ত। সেখানে খাবার, বিদ্যুৎ, গ্যাস সরবরাহ সবকিছুই বন্ধ থাকবে বলে জানান তিনি।

সোমবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউয়াব গ্যালান্ত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘হামাস অধ্যুষিত গাজার সর্বাত্মক নিয়ন্ত্রণ নিতে সেখানে কোনো বিদ্যুৎ, খাবার, পানি ও গ্যাস থাকবে না, সব বন্ধ থাকবে।’

‘হিংস্র পশুর মতো’ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অংশ হিসেবে ইসরায়েলের এই অবরোধকে বর্ণনা করেছেন গ্যালান্ত। তবে, এই ঘোষণার আগে থেকেই গাজা উপত্যকায় আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে অবরোধ দিয়ে রেখেছে ইসরায়েল।

২০০৭ সাল থেকে এই অবরোধ চলছে। যার ফলে এ অঞ্চলের দুই লাখেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎ ও পানি সংকটে ভুগছেন। এ ছাড়া, চিকিৎসা সেবা ও ওষুধেরও অপ্রতুলতা রয়েছে সেখানে।

 

 

 

 

 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button