Home আইন আদালত ৩৭০০ কোটি টাকা লুটে পাঁচ ডেপুটি গভর্নরের নামকেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসছে,হাইকোর্টে...

৩৭০০ কোটি টাকা লুটে পাঁচ ডেপুটি গভর্নরের নামকেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসছে,হাইকোর্টে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী

72
0
SHARE

সময়ের চিত্র ডেস্ক।।

দুই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনে নাম আসা পাঁচ ডেপুটি গভর্নরসহ জড়িতদের বিষয়ে ‘কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসছে’ বলে হাইকোর্টে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী।

এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য নিয়ে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ওপর শুনানিকালে মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে দুদকের আইনজীবী এই মন্তব্য করেন।

এসময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। দুদকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

শুনানিকালে আদালত জানতে চান, ‘এরা (অভিযুক্তরা) কোথায়? তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কিনা? তারা আটক আছে কিনা?’

এসময় আদালত আরও বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনও গন্ধ আছে কিনা? হয়ে থাকলে সেটি আমরা শুনবো। দুর্নীতি বা অর্থপাচারের অভিযোগ থাকলে সেটি আমরা শুনবো।’

এক পর্যায়ে দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান আদালতকে বলেন, ‘পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়টি আমি দুদককে অবহিত করেছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসছে।’

শুনানি শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শত কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনে নাম আসা পাঁচ ডেপুটি গভর্নরসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তা আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে জানানোর নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এর আগে গত ১৭ অক্টোবর দৈনিক কালবেলা পত্রিকায় ‘৩৭শ কোটি টাকা লুটপাটে দায়ী পাঁচ ডেপুটি গভর্নর’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডে (আইএলএফএসএল) আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দায় রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পাঁচ ডেপুটি গভর্নরসহ ২৪৯ কর্মকর্তার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তিনটি বিভাগের এই কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুট করেছেন আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে হালদার) এবং মেজর (অব.) মান্নান। নজিরবিহীন এই অনিয়মের কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির আলাদা তদন্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মোট ১২শ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দুটি এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিআইএফসি ও আইএলএফএসএল থেকে অবৈধভাবে জামানতবিহীন ঋণ নিয়ে মোট ৩ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে আইএলএফএসএল শুধু ভারতে কারাবন্দি প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে হালদার) এবং তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামেই নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। আর বিআইএফসি থেকে বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) মান্নান ও তার প্রতিষ্ঠান নিয়ে গেছে ৬০০ কোটি টাকা। বছরের পর বছর ধরে এই লুটপাটের ঘটনা ঘটলেও নিশ্চুপ ছিলেন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।’

image_print