৩২৮ রানের রেকর্ড ব্যবধানে বাংলাদেশের পরাজয়

খেলাধুলা ডেস্ক:

৫১১ রানের রেকর্ড লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তৃতীয় দিনের শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে আগেই ছিটকে গিয়েছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনে মোমিনুল-মিরাজের জুটিতেই শুধু প্রতিরোধ করতে পেরেছে শান্তর দল। শেষ পর্যন্ত মোমিনুলের অপরাজিত ৮৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংসের পরেও বড় পরাজয় এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। রাজিথার পাঁচ উইকেটের সুবাদে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮২ রানেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। রেকর্ড ৩২৮ রানের ব্যবধানে ম্যাচ হেরে সিরিজে ১-০ তে পিছিয়ে গেল বাংলাদেশ। এটি রানের হিসেবে টেস্টে বাংলাদেশের ষষ্ঠ বড় পরাজয়। অন্যদিকে লংকানদের ইতিহাসে রানের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় বড় জয়।

প্রথম সেশনের মতো লাঞ্চের পরেও দারুণ ব্যাটিং করছিলেন মোমিনুল। তাকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছিলেন শরিফুলও। প্রায় আধ ঘণ্টা লংকান বোলারদের হতাশায় ডুবিয়ে এই জুটি তোলে ৪৭ রান। অবশেষে ৪২ বল খেলে ১২ রান করা শরিফুলকে ফিরিয়ে শ্রীলংকা শিবিরে স্বস্তি ফেরান রাজিথা। নিজের বলে নিজেই ক্যাচ ধরে চতুর্থ উইকেট পান রাজিথা। পরের বলেই মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে ফেরেন খালেদ আহমেদ।

৯ উইকেট যাওয়ার পর বেশ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাট করেছেন মোমিনুল। একের পর এক চার ছক্কায় সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে গিয়েছেন, কমিয়েছেন দলের পরাজয়ের ব্যবধানও। শেষ পর্যন্ত সঙ্গীর অভাবে পূর্ণ করতে পারেননি সেঞ্চুরি। শেষ ব্যাটার হিসেবে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন নাহিদ রানা, তাকে শূন্য রানেই রান আউট করেছেন ডি সিলভা। আর এতেই ১৮২ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। এই ম্যাচে ২০ উইকেটের সবকয়টিই পেয়েছেন লংকান পেসাররা।

দারুণ এই জয়ে এবারের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম পয়েন্ট পেল শ্রীলংকা। দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরির সুবাদে ম্যাচসেরা হয়েছেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। বিশাল জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেলেন তারা। পরের ম্যাচে ৩০ মার্চ চট্টগ্রামে মুখোমুখি হবে দুই দল।

এর আগে চতুর্থ দিনের শুরুতেই তাইজুলকে ফেরান রাজিথা। এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে ৬ রান করেই ফেরেন প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোরার তাইজুল। তাইজুল ফেরার পর দলের হাল ধরেছেন মোমিনুল-মিরাজ জুটি। ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাটিং করে লংকান বোলারদের প্রতিহত করেছেন তারা। উইকেটের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠায় এর মাঝে অবশ্য দুটি রিভিউ নষ্ট করেছেন লংকান অধিনায়ক। আত্মবিশ্বাসী দুই ব্যাটার গতকালের হতাশা কিছুটা হলেও পেছনে ফেলে এগিয়ে নিয়েছেন।

শ্রীলংকার অপেক্ষা বাড়িয়ে প্রায় দেড় ঘন্টা ব্যাট করছেন মোমিনুল-মিরাজ জুটি। বেশ কয়েকবার বোলিংয়ে পরিবর্তন এনেও এই জুটি ভাঙতে পারছিলেন না ডি সিলভা। শেষ পর্যন্ত সেই রাজিথাই ভাঙ্গেন ৬৬ রানের জুটি। মিরাজ ৬টি চারে সাজানো ইনিংসে ৫০ বলে ৩৩ রান করে ডি সিলভার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন লাঞ্চের আধ ঘণ্টা আগে। এক প্রান্ত আগলে রাখা মোমিনুলই শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর