২১১ রানের লিড শ্রীলংকার, চাপে বাংলাদেশ

খেলাধুলা ডেস্ক:

বাংলাদেশকে ১৮৮ রানে অলআউট করার সুবাদে ৯২ রানের লিড পেয়েছিল শ্রীলংকা। দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনে সেই লিড ২১১ রানে নিয়ে গেছেন লংকান ব্যাটাররা। বল হাতে ৫ উইকেট তুলে নিলেও চাপে থেকেই দ্বিতীয় দিন শেষ করল বাংলাদেশ। দিন শেষে শ্রীলংকার স্কোর ৫ উইকেটে ১১৯ রান।

 

প্রথম ইনিংসের মতো আজও দারুণ বোলিং করেছেন অভিষিক্ত নাহিদ। চা বিরতির ঠিক আগে লংকানদের প্রথম উইকেট তুলে নেন তিনি। নিশান মাদুশকাকে ১০ রানে ফিরিয়েছেন তিনি। কুশল মেন্ডিসও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তাকেও ফিরিয়েছেন নাহিদই। ৩ রান করা মেন্ডিস ফিরেছেন লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে।

 

ম্যাথিউসকে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধের আভাস দিয়েছিলেন করুনারত্নে। ম্যাথিউস দারুণ কিছু শট খেললেও ক্রিজে থিতু হতে পারেননি। তাইজুলের বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২২ রানে। দীনেশ চান্দিমাল রানের খাতা না খুলেই মিরাজের বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়েছেন।

 

৬৪ রানে ৪ উইকেট হারালে বেশ চাপে পড়ে শ্রীলংকা। সেই অবস্থা থেকে দলকে সামলেছেন করুনারত্নে-ডি সিলভা জুটি। এই জুটি তুলেছে ৪৯ রান।। ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন করুনারত্নে। হাফ সেঞ্চুরির পরেই প্যাভিলিয়নে ফিরেছে করুনারত্নে। শরিফুলের বলে নাহিদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ৫২ রান করা করুনারত্নে। অপরাজিত আছেন ডি সিলভা ও নাইট ওয়াচম্যান ফার্নান্দো।

 

এর আগে দিনের দ্বিতীয় সেশনে ১৮৮ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলংকা। দ্বিতীয় দিনের শুরুটা দেখে শুনেই করেছিলেন জয়-তাইজুল জুটি। তবে নিজের ইনিংস খুব বেশি বড় করতে পারেননি জয়। ১২ রান করে কুমারার বলে ডি সিলভার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন এই ওপেনার। এরপর শাহাদাত নেমে কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের আভাস দিয়েছিলেন। চোখ জুড়ানো শট খেলেছেন তাইজুলও।

 

৩০ রানের জুটি থিতু হওয়ার আগেই আবার আঘাত হানেন কুমারা। লাফিয়ে ওঠা বলে স্লিপে ডি সিলভার হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয়েছে শাহাদাতকে। ফেরার আগে করেছেন ১৮ রান। অন্যদের আসা যাওয়ার আগে এক প্রান্ত আগলে রেখেছেন তাইজুল। ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাটিং করেছেন এই স্পিনার।

 

শাহাদাত ফিরলে ক্রিজে আসেন লিটন দাস। লিটনকে নিয়ে আবারও জুটি গড়েছেন তাইজুল। এই জুটি ভালো কিছুর আভাস দিচ্ছিল বাংলাদেশকে। তবে ঠিক লাঞ্চের আগে আবারও বাংলাদেশকে ধাক্কা দেন কুমারা। ২৫ রান করা লিটনকে বোল্ড করে দিনের তৃতীয় উইকেট তুলে নেন তিনি। লিটন ফিরলে ভাঙ্গে ৪১ রানের জুটি। প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ১৩২ রান।

 

লাঞ্চের পর খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তাইজুল। ৬ চারে সাজানো ৪৭ রানের ইনিংস থেমেছে রাজিথার অফ সাইডের অনেক বাইরের বলে মারতে গিয়ে মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে। মেহেদি মিরাজও ১১ রান করে রাজিথার বলেই প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন।

 

শেষের দিকে ৯ম উইকেটে খালেদ আহমেদ ও শরিফুলের ক্যামিওতে মূল্যবান কিছু রান যোগ করতে পেরেছে বাংলাদেশ। এই জুটি ৩৫ বলে যোগ করেছে ৪০ রান, দুজন মেরেছেন ৪টি ছক্কা। এতেই লংকানদের লিড অনেকটাই কমিয়ে এনেছে বাংলাদেশ। ১৫ রান করে ফার্নান্দোর বলে ফিরেছেন শরিফুল। খালেদ শেষ পর্যন্ত ফিরেছেন ২২ রান করে। প্রথম ইনিংসে ১৮৮ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ইনিংসে ১০টি উইকেটই নিয়েছেন লংকান পেসাররা। ১৬ বছর পর ঘটল এমন ঘটনা। সবশেষ ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশের বিপক্ষে ১০ উইকেট নিয়েছিল স্টেইন, ক্যালিস ও এনটিনির কল্যাণে।

এই বিভাগের আরো খবর