Home অর্থ ও বানিজ্য ১২ কেজি এলপিজির প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম ১০৪ টাকা কমেছে

১২ কেজি এলপিজির প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম ১০৪ টাকা কমেছে

67
0
SHARE

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঈদের পর পরই এলপিজির গ্রাহকদের সুখবর দিল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজির প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম ১০৪ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিইআরসি। এতে করে ১ হাজার ৪৩৯ থেকে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়াল এক হাজার ৩৩৫। যা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই কার্যকর। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে পরিবহনে ব্যবহৃত এলপি গ্যাসের দামও। যা অটোগ্যাস নামে প্রচলিত। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাসাবাড়িতে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত (রেটিকুলেটেড) এলপিজির দামও কমানো হয়েছে। প্রতি কেজি ১১৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমিয়ে ১০৮ টাকা ০২ পয়সা করা হয়েছে। এ ছাড়া সাড়ে ৫ কেজি থেকে শুরু করে ৪৫ কেজি পর্যন্ত সব সিলিন্ডারের দামই কমানো।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি জানায়, বেসরকারী এলপিজির রিটেইলার পয়েন্টে (ভোক্তা পর্যায়ে) মূসক ব্যতীত মূল্য প্রতি কেজি ১০৪ টাকা ২৬ পয়সা ও মূসকসহ মূল্য প্রতি কেজি ১১১ টাকা ২৬ পয়সায় সমন্বয় করা হয়েছে। সে অনুযায়ী রিটেইলার পয়েন্টে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজির মূসকসহ মূল্য ১ হাজার ৩৩৫ টাকায় সমন্বয় করা হয়েছে।

গত বছর টানা পাঁচ দফা এলপিজির দাম বাড়ে। টানা দাম বাড়ার কারণে গত বছর আলোচনায় ছিল এলপিজি। এ বছর জানুয়ারি মাসে ৫০ টাকা কমিয়ে এলপিজির দাম ১ হাজার ১৭৮ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। ফেব্রুয়ারি মাসে ৬২ টাকা দাম বাড়ানো হয়। মার্চ মাসে দাম করা হয় ১ হাজার ৩৯১ টাকা। এপ্রিল মাসে দাম বাড়িয়ে করা হয় ১ হাজার ৪৩৯ টাকা।

আন্তর্জাতিক বাজারের দাম এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে এই দাম নির্ধারণ করে এবার কমানো হয়েছে এলপিজির দাম। বিইআরসি জানায়, প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১১৯ টাকা ৯৪ পয়সা থেকে কমিয়ে ১১১ টাকা ২৬ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে ৮ টাকা ৬৮ পয়সা দাম কমেছে। এতে প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৪৩৯ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৩৩৫ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে মে মাসের জন্য অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৬৭ টাকা ২ পয়সা থেকে কমিয়ে ৬২ টাকা ২১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সৌদি সিপি অনুসারে ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম বেড়েছে। প্রোপেন ও বিউটেনের দাম প্রতি টন যথাক্রমে ৯৪০ থেকে কমে ৮৫০ এবং ৯৬০ থেকে কমে ৮৬০ ডলার হয়েছে। প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণ অনুপাত ৩৫:৬৫ বিবেচনায় মে মাসের জন্য এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে এপ্রিল মাসে ১ হাজার ৩৯০ টাকা দশমিক ৫৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৩৯ টাকা, মার্চ মাসে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৯০ টাকা দশমিক ৫৬ পয়সা করা হয়। তার আগের মাসেও দাম বাড়ানো হয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে প্রতি কেজি এলপিজি ৯৮ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০৩ টাকা ৩৪ পয়সা করেছিল কমিশন। ওই সময় ১২ কেজির দাম ১ হাজার ১৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২৪০ টাকা করা হয়।

প্রসঙ্গত, রাশিয়া-ইউক্রেন সঙ্কটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। এর প্রভাবে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও এলপিজির দাম প্রথম দিকে বাড়লেও এখন আবার নিচের দিকে নেমেছে। সেটারই প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারে।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, নির্ধারিত দামে বাজারে গ্যাস বিক্রি হয় কি না এবং তা মনিটরিং করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিষয়টি মনিটরিং করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর কমিশন নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিইআরসির আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সচিব আবু সায়িদ, সদস্য মকবুল-ই ইলাহি প্রমুখ।

image_print