সাংবাদিক নাদিমকে বাবুর পরিকল্পনায় হত্যা করা হয়: র‍্যাব

সময়ের চিত্র ডেস্ক: জামালপুরের বকশীগঞ্জের সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর পরিকল্পনাতেই সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।
শনিবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, মাহমুদুল হাসান বাবুর বিভিন্ন কেলেঙ্কারির খবর প্রকাশ করায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে যান। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও আক্রোশ থেকে তাকে উচিত শিক্ষা দিতে নাদিমের ওপর পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হয়।
 আল মঈন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফেরার সময় একদল সন্ত্রাসী নাদিমের ওপর হামলা চালান। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে তাকে জামালপুর হাসপাতাল হয়ে ময়মনসিংহ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে ১৫ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
বাবুকে গ্রেফতারের বিষয়ে মঈন বলেন, র‍্যাবের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যে র‍্যাব-১৩ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত চেষ্টায় সিসিটিভি ফুটেজ অ্যানালাইসিস করে বাবুসহ জড়িত ৪ জনকে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ও বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থেকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।
মঈন আরও বলেন, বাবু মোবাইল ব্যবহার না করে ঘটনার পরদিনই তার আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে চলে যান। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সাংবাদিক নাদিমকে যে ব্যক্তি মোটরসাইকেল থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় তাকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে আল মঈন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ অ্যানালাইসিস করে রেজাউল নামের এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। যিনি চলন্ত গাড়ি থেকে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এরপর অন্যরা তখন এলোপাতাড়ি তাকে মারতে থাকে। ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া রেজাউলকে বগুড়া থেকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। মামলার শুরু থেকেই র‍্যাবের জামালপুর ক্যাম্প এ অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
 সরাসরি ঘটনাস্থলে যারা আক্রমণ করেছে তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে আল মঈন বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছি। বাকিদের ধরতেও আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আমাদের গোয়েন্দারা কাজ করছেন। বাবুর ছেলে ও অন্যান্যদের ধরতে আমাদের অভিযান চলমান আছে।
সাংবাদিক নাদিম জীবনের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আকুল আবেদন করেছিলেন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আল মঈন বলেন, স্থানীয় থানায় তিনি কোনো অভিযোগ করেছেন কিনা সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
বাবুর বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা আছে কিনা জানতে চাইলে মঈন বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা ও মারামারির মামলা রয়েছে। আরও কোনো মামলা আছে কিনা সেটি আমরা স্থানীয় থানায় জিজ্ঞেস করলে পরে জানাতে পারব। আমরা তাকে মাত্র আটক করেছি। সামগ্রিক বিষয়টি আমরা পরবর্তীতে জানাতে পারব।’
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মূল পরিকল্পনাকারী বাবুসহ মো. মনিরুজ্জামান মনির (৩৫), জাকিরুল ইসলাম (৩১), মো. রেজাউল করিমকে (২৬) সকালে পঞ্চগড় থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গত বুধবার (১৪ জুন) রাতে বকশীগঞ্জের পাটহাটি মোড়ে সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমের ওপর ইউপি চেয়ারম্যান বাবুর নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। পরদিন ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাদিম।
 এ ঘটনায় বকশীগঞ্জ থানায় ইউপি চেয়ারম্যান বাবুসহ ২২ জনের নাম উল্লেখসহ ৪৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন নাদিমের স্ত্রী। আত্মগোপনে থাকা বাবুকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনায় অভিযুক্ত তার ছেলের কোনো হদিস এখনও পাওয়া যায়নি।
এই বিভাগের আরো খবর