সরকার খালেদা জিয়াকে হত্যা করতে চায়

অনলাইন ডেস্ক:

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে তাকে হত্যা করতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে বিশাল কৃষক সমাবেশে তিনি এই অভিযোগ করেন। সারাদেশ থেকে সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই সমাবেশে যোগ দেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে এমন এক সময় এই কৃষক সমাবেশ হচ্ছে, যখন বাংলাদেশের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। কারণ বেগম খালেদা জিয়াকে এই গণবিরোধী সরকার হত্যা করতে চায়। তাকে চিকিৎসার কোনো সুযোগ না দিয়ে মিথ্যা-প্রতারণা করে এবং জনগণকে আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিনা চিকিৎসায় সরকার হত্যা করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লক্ষ্য একটাই—এই দেশে কোনো বিরোধী দল থাকবে না। এই দেশে শুধু তারাই সরকার চালাবে, তারাই শাসন করবে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তাকে নির্বাসিত করে রাখা হয়েছে। তাদের (সরকার) কথা-বার্তা শুনলে মনে হবে তারাই দেশের মালিক, আমরা সবাই প্রজা। এ জন্য আমরা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন করিনি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্যই মুক্তিযুদ্ধ করেছি, মুক্ত সমাজ, মুক্ত অর্থনীতি, মুক্ত দেশ প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন আইন কানুন দেখাচ্ছে। আপনার (প্রধানমন্ত্রী) কানের সমস্যা হয়েছিল, তখন তো ঠিকই প্যারোল নিয়ে আমেরিকা চলে গিয়েছিলেন। কি যান নাই। আজকে যখন খালেদা জিয়ার জীবন মরণ সমস্যা, তখন এই ব্যবস্থা করতে আপত্তি কেন। কারণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, তারা খালেদা জিয়াকে হিংসা করে, তারা তাকে সুস্থ হতে দেখতে চান না। তারা তাকে রাজনীতি করতে দিতে চান না।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘যে কথাগুলো উনারা বলছেন, উনারা আসলে কাপুরুষ, ভীতু। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যদি সুস্থ হয়ে যান, যদি জনগণের মাঝে ফিরে আসেন, তার ডাকে কোটি মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসবে এবং তাদের তখতে তাউশ ধ্বংস হয়ে যাবে।’

খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ করেছিলেন উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘১৯৯১ সালে জনগণের ভালোবাসায় শিক্ত হয়ে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে প্রথম যে কাজ করেছিলেন তার মধ্যে ছিল ২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষকদের খাজনা মাফ করে দেওয়া, পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদ মওকুফ করেছেন। আজকের এই সরকার কৃষক ভাইদের ২৫ হাজার টাকা কৃষি ঋণ শোধ করতে না পারায় কোমরে দড়ি লাগায়। ২৫ হাজার কোটি টাকা যারা চুরি করে, লুট করে নিয়ে যায় তাদেরকে ব্যাংক রিসিডিউল করে ঋণ পরিশোধ করার সুযোগ করে দেয়। এই সরকার লুটেরাদের সরকার, ব্যাংক চোরদের সরকার। এরা দেশের মানুষকে লুট করে নিয়ে যায়। এদের কার সঙ্গে তুলনা করবেন।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আজকে শুধুমাত্র কৃষক নয়, শ্রমিকরাও তার ন্যায্য মজুরি পান না। সত্যিকারের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারে না। ব্যবসা করে আওয়ামী লীগের লুটেরা। মেধাবী ছাত্ররা চাকরি পায় না, যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তারা ছাড়া কেউ চাকরি পান না। চাকরি পেতে হলে ঘুষ দিতে হয়। এখানে পুলিশ ভাইয়েরা আছেন। আমার জানা মতে, পুলিশ কনস্টেবলেও চাকরি পেতে ২০ লাখ টাকার নিচে হয় না। দেশে এই অবস্থা তৈরি করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।’

জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, বরকত উল্লাহ বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি নেতা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষক দলের নাসির হায়দার, জামাল উদ্দিন খান মিলন, মামুনুর রশীদ খান, এসএম ফয়সাল, খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, আনম খলিলুর রহমান, আসলাম মিয়া, সৈয়দ অলিউল্লাহ সিদ্দিকী, মোশাররফ হোসেন, মিজানুর রহমান লিটু, ওবায়দুল রহমান টিপু, ফজলে হুদা, শাহ আবদুল্লাহ বাকী, শাহ মো. মুনিরুর রহমান, মাহমুদা হাবিবা, দীপু হায়দার খান, ইউনুস আলী মোল্লা, সাহাদাত হোসেন বিপ্লব, আশরাফুল আরিফ ডন, কাজী হোসেন, শফিকুর রহমান মিঠু, মীর হাসান কামাল তাপসসহ আরও অনেকে।

 

এই বিভাগের আরো খবর