Home সম্পাদকীয় বসন্তের রঙে রঙিন ভালোবাসা

বসন্তের রঙে রঙিন ভালোবাসা

56
0
SHARE

আজ বিশ্ব ভালবাসা দিবস। আজ আবার পহেলা ফাল্গুনও, মানে ঋতুরাজ বসন্তের প্রথমদিন। যুগল উপলক্ষ। প্রেমিকযুগলের জন্য এক মহার্ঘ্য দিন হয়ে এসেছে আজকের দিনটি। শুধু জুটিদের কথা বললে সঠিক বলা হয় না। ভালবাসা দিবস আর শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার একান্ত নিজস্ব দিন নেই, এটি হয়ে উঠেছে সর্বজনীন। সর্বজনীন শব্দটি যদি মানতে অপারগ হোন, তাহলে এটা তো অস্বীকার করার কোন সুযোগই নেই যে, ভালবাসা দিবস হয়ে উঠেছে তাদের জন্য বছরের পরম উৎসবের দিন, যারা ভালবাসতে জানেন। শুধু কি জানলেই হয়? জানানোও জরুরী। ছেলে মাকে বিলক্ষণ ভালবাসে। কিন্তু ঘটা করে সে-কথা যদি আজকে মুখে একবার উচ্চারণ করে মায়ের সামনে, তবে জননীর আনন্দ কি বাঁধ মানবে? যিনি ভালবাসেন, যিনি ভালবাসা পেতে উন্মুখ, যিনি হারিয়ে যাওয়া ভালবাসা খুঁজে চলেছেন, যিনি ভালবাসার কথা বলতে কুণ্ঠিত হোন- সবার জন্য আজ এক পরম ক্ষণ। ছাত্র তার শিক্ষককে বলুন, ভালবাসি। সহকর্মী তার পাশের ডেস্কে কর্মরত মানুষটিকে বলুন, আপনার ভালবাসা আমার কাছে মূল্যবান। মেয়ে তার বাবাকে বলুক, তোমাকে ভালবাসি; মা তার সন্তানদের বলুন, বাছারা তোরা আমার কলিজা, তোদের অনেক ভালবাসি। বললেই হলো, উপহারসমেত বললে খুব ভাল, উপহার ছাড়াও বলতে বাধা নেই। দেখুন কী কাণ্ডটাই না ঘটে যাবে চারপাশে। ঝলমল করে উঠবে পরিবেশ। প্রকৃতি হেসে উঠবে।

আর হ্যাঁ, প্রকৃতি তো স্মিতমুখে বসেই আছে এ দিনটির জন্য, কেননা আজ যে পহেলা ফাল্গুন। বসন্ত এসে গেছে করোনাভাইরাসকে ভ্রƒকুটি দেখিয়ে। তবে পাজি ভাইরাসটিও আমাদের দেশে রক্তচক্ষু বার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বড় একটা সুবিধা করতে পারছে না। পারবে কী করে! বাংলার মানুষ যেমন ভালবাসতে জানে, তেমনি জানে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেও। তার মনে রং ছড়ায় প্রকৃতি। সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা এই বাংলায় স্বল্পকালীন হলেও ফিরে ফিরে আসে ছয়-ছয়টি ঋতু। এই গ্রহে আর কোন দেশটিতে আছে পুরো অর্ধডজন ঋতু? তাই আমরা বড় সৌভাগ্যবান। আমাদের সুনাম আছে ভালবাসতে পারার। সর্বাধিক সুখী মানুষের দেশ হিসেবে রেকর্ড গড়েছি আমরা। আমাদের মায়ার কোন তুলনা হয় না। অচেনাকে আমরা অল্পতেই আপন করে নিই। তার অমঙ্গল আশঙ্কায় আমাদের চোখ ছলছল করে ওঠে। আর আমরা উৎসব অন্তপ্রাণ জাতিও। উপলক্ষ পেলেই আমরা আনন্দে মাতি। তার জন্য বারো মাসের তেরো পার্বণের অপেক্ষায় থাকি না। এক কুড়ি উৎসব না হলে আমাদের চলে না। চব্বিশ ঘণ্টার মেয়াদ নিয়ে দুটো বড় উৎসবের উপলক্ষ এসেছে আজ বাংলাদেশে। পরপর দুদিন হলে এই উৎসব ৪৮ ঘণ্টা হতো, এটি ভেবে হা-হুতাশ করার কিছু নেই। কেননা, ভালবাসার জন্য দিবস কোন বড় বিষয়ও নয়। প্রতিদিন ভালবাসুন, কে বাধা দিচ্ছে।

আর পহেলা ফাল্গুন মানে হলো বসন্তের সূচনা। পুরো দুটি যমজ মাস থাকছে বসন্তের রূপলাবণ্য নিয়ে। তাই আমাদের উৎসব কোন সীমাবদ্ধতার ঘেরাটোপে থাকছে না। কিন্তু মনে রাখা চাই হলুদ বরনে নিজেকে সাজাব এই বসন্তে, অন্যদিকে অনেকেরই চলছে দুর্যোগকাল। কোভিড-দানব এসে আমাদের অনেককে কর্মহীন করেছে। বহুজন শহর ছেড়ে চলে গেছেন গ্রামে। আপনার জানাশোনার পরিধিতে এমন মানুষ নিশ্চয়ই আছে, তাকেও আপনার আনন্দের সঙ্গী করে নিন। তার পাশে দাঁড়ান। তাকে ভালবেসে তার উপকারে নিয়োজিত হোন। বসন্ত ও ভালবাসা দিবসের এমন যুগলবন্দী তার সৌরভ ছড়াবে। আপনিও আপনার হৃদয়ের জানালা খুলে দিন। মানবকল্যাণের সুবাস ছড়ান। তবেই না সার্থক হবে এই আহ্বানÑ ‘জগতের আনন্দযজ্ঞে আমার নিমন্ত্রণ, ধন্য হলো ধন্য হলো মানবজীবন।’