Home সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় ১৯৭o  এর ১২ নভেম্বর সম্পর্কে সাপ্তাহিক পূর্বাপর পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ইয়াছিন মোহাম্মদের...

১৯৭o  এর ১২ নভেম্বর সম্পর্কে সাপ্তাহিক পূর্বাপর পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ইয়াছিন মোহাম্মদের জীবন কথা

196
0
SHARE
Spread the love
১৯৭০ এর ১২ নভেম্বর  আমার জীবনে ছিল একটি  বেছে থাকার জীবন যুদ্ধ। তখন আমার  বয়স মাএ ৭ মাস। আমার জম্ম  ভোলা জেলার চরফ্যাসন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার  চরমানিকা ইউনিয়নের দক্ষিণ চর আইচা গ্রামে ঐ খানে আমার বাবা মায়ের বসবাস। ঐ সময় তাদের  একমাত্র সন্তান আমি । আমার বাবা শরাফত আলী  মা পিয়ারা বেগম, তাদের মুখ থেকে যতটুকু শুনতে পেরেছি। ১৯৭০ এর ১২ নভেম্বর সকাল ১০ টার দিকে আমাদের বাড়ির উঠানে পানি আসতে থাকে।তখন আমাদের এলাকায় বেড়ীবাঁধ ছিলনা।পূর্বদিকে বাতাস  বাড়তে থাকে সাথে সাথে পানি ও বাড়তে থাকে, তখন বাংলা কার্তিক বা অগ্রহায়ণ মাস ছিল। তখন মা আমাকে বাচানোর জন্য কিছু কাথা, দুধের ফিডার সহ কিছু খাবার কাছে রাখেন।বন্যার পানি উঠান বড়ে ঘরের বিটা ডুবে যায়,আমাদের কাচা ঘর ছিল। মা ও বাবা একমাত্র সন্তান আমাকে বাচাতে ঘড়ের মাচায়  আশ্রয় নেয়।মাচা ডুবে গেলে ঘড়ের চালে উঠে বসেন।বৃষ্টি বাতাস সাথে জোয়ারের পানি, এক সময় জোয়ারের পানির সাথে ঘরের চালা  বাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময়  বাড়ির একটি খেজুর গাছের সাথে আটকে যায়।বাবা মা দুজনে খেজুর গাছে আশ্রয় নেয়,
তখন তারা  ৭ মাসের একজন শিশুকে দুজনের মাঝখানে আড়াল করে রাখার চেস্টা করছে জোয়ারের পানি  ঠান্ডা বাতাস ও বৃষ্টির পানি  থেকে আমাকে রক্ষা করতে কষ্ট অনেক কষ্ট হয়েছে বাবা মার ।মা বলেন আমরা একটি খেজুর গাছের মাথায় বসে ছিলাম একটি কাটা ও আমাদের গায়ে লাগেনি।জোয়ারের ঢেউ আমার মায়ের পিঠে বাড়ি খাচ্ছে মা কয়েকটি ভিজা কাথা পেচিয়ে রাখছেন আমি শীতে ঠক ঠক করে কাপছি এবং মায়ের বুকের গরম দুধ খাচ্ছি।একটি সময় মা যখন আমাকে ধরে রাখতে পারছিলেন না।কিছু মসয়ের জন্য বাবার কোলে আমাকে তুলে দেন।জোয়ারের পানি ও বাতাস আরো তীব্র থেকে তীব্রতর হল।জোয়ারের প্রচন্ড ঢেউ এসে বাবার বুক থেকে আমাকে বাসিয়ে নিয়ে যাচছে।মা দেখতে পায় আমি জোয়ারের পানির সাথে বেসে চলে যাচ্ছি, মা সাতরিয়ে আমার হাত ধরে সাতরিয়ে আবার একটি উচু খেজুর গাছে আশ্রয়  নেয়।সারা রাত থেমে থেমে বৃষ্টি, বাতাস এবং বন্যার পানি শীতে আমি ঠক ঠক করে কাপছি আর মার বুকের গরম দুধ খাচ্ছি, মা বলেন বুকের গরম দুধ ই ছিল আমার বেচে থাকার উছিলা বাকিটা অল্লাহর ভরসা।সকাল হলে পানি কমতে থাকে। বাড়ি ঘড় ভিটা শুন্য মাটি ছাড়া কিছু ছিল না।আবার শুরু হয় আমার পরিবারের মত হাজার হাজার উপকূল বাসির জীবন সংগ্রাম।হাজার হাজার লোকের মৃত্যু,  লাসের মিছিল,চারিদিকে আকাশ বাতাস বারী হয়ে যায়,স্বজন হারার বেদনা ।
২০১৫ সালে আমার বাবা শরাফত আলী মৃত্যু বরণ করেন। ১৯৭o  এর ১২ নভেম্বর সম্পর্কে সাপ্তাহিক পূর্বাপর পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ইয়াছিন মোহাম্মদের জীবন কথা ধরলাম ভুল  ত্রুটি ক্ষমা করেন।
ইয়াছিন মোহাম্মদ
নির্বাহী সম্পাদক
সাপ্তাহিক পূর্বাপর।