Home সম্পাদকীয় শিক্ষা, শ্রমশক্তির উৎপাদনশীলতা ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লব

শিক্ষা, শ্রমশক্তির উৎপাদনশীলতা ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লব

65
0
SHARE

সময়ের চিত্র ডেস্ক।।

শিক্ষাকে আত্মিক ও নৈতিক উন্নতির উপকরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এ দেশে বহু যুগ বা শতাব্দী ধরে। তবে শিক্ষা, বিশেষত বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক শিক্ষার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের বিষয়টি সামনে এসেছে সাম্প্রতিককালে। উন্নয়নের জন্য শিক্ষার অপরিসীম গুরুত্ব আজ বিশ্বে স্বীকৃত। এটা শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপকরণ নয়, বরং সার্বিক উন্নয়নের একটি অংশ। বাংলাদেশও কয়েক দশক ধরে শিক্ষাকে উন্নয়নের একটি লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে। শিক্ষার অগ্রগতির ফলে জনমানসে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, যার সঙ্গে নানাবিধ সামাজিক সুফল অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

সাম্প্রতিক কালে জাতীয় আয়ের ওপর শিক্ষার ইতিবাচক প্রভাবসম্পর্কিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে ‘নব্য প্রবৃদ্ধি তত্ত্ব’। সেখানে শিক্ষার ভূমিকাটি দেখা হয়েছে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রভাবক হিসেবে। শিক্ষা ও জ্ঞান এখন শুধু জীবনদর্শনের অংশ নয়, বরং তা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের কৌশল।

বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়েছে। এই বিনিয়োগ এবং নানা ধরনের সহায়ক কার্যক্রম ও নীতিমালার সুফল কিছুটা অর্জিত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ভর্তির হার বেড়েছে, ছেলেমেয়ে সবার জন্যই সেটা একশতে পৌঁছেছে। মাধ্যমিক পর্যায়েও ভর্তির হার বেড়েছে। এ দুই ক্ষেত্রে মেয়েদের অগ্রগতি বেশি। এসব পর্যায়ে শিক্ষা সমাপনী হারও বেড়েছে, তবে ভর্তি হারের তুলনায় সেই সাফল্য কম। এসব তথ্য মোটামুটি সুবিদিত, তাই বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হলো না।

এ সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে কিছু বিষয়ে সমস্যাও পরস্ফুিট হচ্ছে। এখানে একটি প্রধান সমস্যা সংক্ষেপে উল্লেখ করা উচিত, যা ভবিষ্যতে জাতীয় উৎপাদন প্রবৃদ্ধিতে শিক্ষার অবদানের ও কার্যকর ভূমিকার পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াতে পারে। তা হচ্ছে শিক্ষার মান এখনো আদর্শের তুলনায় অনেক নিচে। অনেক ক্ষেত্রে তার গতি নিম্নমুখী।

পরবর্তী আলোচনায় বাংলাদেশে শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতি কীভাবে শ্রমের উৎপাদনশীলতা ও তার মাধ্যমে জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং শ্রম আয়ের ওপর নির্ভরশীল বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবনমানের অগ্রগতিতে সহায়ক হতে পারে, সে বিষয়টি আলোচনা করা হবে। দারিদ্র্য হ্রাসে শিক্ষার অবদানের প্রসঙ্গে কিছু তথ্যভিত্তিক আলোচনা থাকবে। শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য কীভাবে এসব অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধক হতে পারে, সেটাও মনোযোগ পাবে।

শুরুতেই বাংলাদেশের শ্রমশক্তিতে শিক্ষার প্রসারের চিত্রটি তুলে ধরা যাক। নিচের সারণিতে কিছু তথ্য দেয়া হয়েছে। তথ্য থেকে কিছুটা উৎসাহব্যঞ্জক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০০০ থেকে ২০১৭ সাল সময়ে একেবারে কোনো শিক্ষা নেই এমন শ্রমশক্তি ৪৮ দশমিক ১ থেকে কমে ৩১ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে এসএসসি বা এইচএসসি পর্যন্ত শিক্ষিতদের অংশ অনেক বেড়েছে। উচ্চশিক্ষিতদের (স্নাতক বা তদূর্ধ্ব) অংশও বেড়েছে। তবে তা এখনো মাত্র ৫ দশমিক ৩ শতাংশে।

শ্রমশক্তির উৎপাদনশীলতার ওপর শিক্ষার সুপ্রভাব থাকবে, এটা অনেকটা স্বতঃসিদ্ধ মতই। উচ্চশিক্ষিত ও বিশ্লেষক পর্যায়ে এটা ঘটে তাদের নতুন উৎপাদনপন্থা চিহ্নিত করা বা আবিষ্কার করার মাধ্যমে। আমদানীকৃত প্রযুক্তি নিজ দেশে ব্যবহার করার জন্যও সে রকম শিক্ষা প্রয়োজন। তবে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষাও শ্রমশক্তিতে কর্মদক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে। শ্রমশক্তির উৎপাদনশীলতার ওপর শিক্ষার প্রভাব বোঝা যায় মজুরি বা উপার্জনের ওপর শিক্ষার প্রভাবের মাধ্যমে। মজুরি, উৎপাদন বা বেতন তো উৎপাদনশীলতারই প্রতিফলন ঘটায়, যদিও তাতে অন্যান্য প্রভাবও থাকতে পারে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাংলাদেশে শিক্ষার ইতিবাচক প্রভাব দেখা গিয়েছে বেতন বা মজুরি ও উপার্জনের ওপর। এটা প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সর্বস্তরের শিক্ষার জন্যই প্রযোজ্য। আর শিক্ষাস্তর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপার্জন ক্রমান্বয়েই বাড়ে।

এসব বিশ্লেষণে আরেকটি বিষয় পরিলক্ষিত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ের তথ্য নিয়ে এ ধরনের বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, আগের তুলনায় একই পর্যায়ের শিক্ষার সুফল কমে এসেছে। তার একটি কারণ হতে পারে শিক্ষা মানের অবনমন। অন্যথায় তার বিপরীতটি হওয়া প্রত্যাশিত। কারণ বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির উন্নয়নের প্রভাবে এ দেশে আরো বেশি অনুপাতে কর্মসংস্থান হওয়া উচিত অধিকতর শিক্ষিত শ্রমশক্তির জন্য, যাদের উৎপাদনশীলতা ও উপার্জন বেশি হবে এসব আধুনিক উৎপাদন ক্ষেত্রে। সেটি নাও হতে পারে যদি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অযৌক্তিক পুঁজিঘনত্বের কৌশল অবলম্বন করে। এ দুটি প্রবণতাই কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত।

শিক্ষার মানের অবনমন এবং এর ফলে উৎপাদনশীলতায় শিক্ষার অবদান হ্রাস—এ দুই প্রবণতার সঙ্গে আরো একটি অবাঞ্ছিত প্রক্রিয়াও কার্যকর থাকে। তা হচ্ছে বৈষম্য বৃদ্ধি। কীভাবে সেটা ঘটে সেই প্রসঙ্গে যাওয়া উচিত।

শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্যের উপস্থিতি আছে কিনা দেখা যাক। প্রাথমিকে ভর্তির হার তুলনা করলে আপাতদৃষ্টিতে তেমন বৈষম্য দেখা য়ায় না। দরিদ্র ও দরিদ্র নয় এমন শ্রেণিবিভাগ থেকে খুব বড় বৈষম্য ধরা পড়ে না প্রাথমিক ভর্তিহারে। তবে ১১-১৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও দরিদ্র নয় এ দুই ধরনের পরিবারে ভর্তিহার যথাক্রমে ৭৪.৮ ও ৮৫.৮ শতাংশ। শহরাঞ্চলে এক্ষেত্রে পার্থক্য গ্রামের তুলনায় বেশি। তার কারণ এই যে শহরে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের উপার্জন কাজে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ বেশি। ওপরের তথ্য খানা আয়-ব্যায় জরিপ থেকে নেয়া। সেখানে তার ওপরের বয়সীদের জন্য বা আরো বেশি আয় শ্রেণিতে ভাগ করে তথ্য দেয়া নেই। এ লেখকের নিজের একটি গবেষণা থেকে দেখা গিয়েছে, ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ (চারটি শ্রেণিবিভাগের মধ্যে) আয়ের পরিবারে ছেলেমেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির হার যথাক্রমে ১৪ দশমিক ২ ও শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। নিম্নতম ও উচ্চতম আয় শ্রেণীতে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং এসএসসি ও তদূর্ধ্ব স্তরের ৪১.৪ শতাংশ শিক্ষা পেয়েছে। গ্রাম ও শহরের মধ্যেও ১৮ ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য বিরাজ করছে। যদিও এর চেয়ে কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ভর্তির হারে গ্রাম এগিয়ে রয়েছে। তার অর্থ হচ্ছে এই যে গ্রামে স্কুলশিক্ষার নিম্নমানের জন্য তারা উচ্চশিক্ষায় যেতে পারছে না অথবা দারিদ্র্যের কারণে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দূরত্বের কারণে যেতে পারছে না।

ছেলেমেয়েদের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ভর্তির হার বিবেচনা করলে মেয়েরা অগ্রসর অবস্থানে আছে। কিন্তু এসএসসি বা তদূর্ধ্ব শিক্ষা অর্জন বিবেচনা করলে এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের ভর্তির হারে তারা পশ্চাত্পদ অবস্থানে আছে।

উৎপাদনশীলতার ওপর শিক্ষার যে প্রভাব তা ক্রমহ্রাসমান হলে এবং শিক্ষা অর্জনে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বিরাজ করতে থাকলে দারিদ্র্য হ্রাসে শিক্ষার্জনের যে সহায়ক ভূমিকা তা দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। ওপরের তথ্যগুলো শিক্ষা অর্জনে বৈষম্যের সংখ্যাগত তথ্য দিচ্ছে। সেই সঙ্গে শিক্ষার মান ও প্রকৃত শিক্ষা অর্জনও নিম্ন আয় পরিবারের জন্য নিম্নতর হতে পারে। তার কারণ তারা গ্রামের ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের কম সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন স্কুলে পড়ে, গৃহশিক্ষকের সহায়তা নেয়ার মতো ব্যয় করতে পারে না। পিতামাতার শিক্ষাস্তরও এ ধরনের পরিবারে কম। ফলে তারাও যথাযথ সহায়তা দিতে অসমর্থ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বৈষম্য দারিদ্র্য হ্রাসে ব্যাঘাত ঘটায়। সম্পদবৈষম্যের চেয়েও শিক্ষা অর্জনে বৈষম্য আরো বেশি ক্ষতিকর প্রভাব রাখে দারিদ্র্য হ্রাসের ওপর।

বাংলাদেশের খানা আয়-ব্যয় জরিপ থেকে (বিবিএস কর্তৃক পরিচালিত) শিক্ষা ও দারিদ্র্য হ্রাসের কিছু তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে (সারণি ২)। তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে যে শিক্ষিতদের মধ্যে দারিদ্র্য হ্রাসের পরিমাণ (শতকরা পয়েন্ট) কমে যাচ্ছে। বরং যাদের শিক্ষা নেই বা শিক্ষাস্তর কম তাদের মধ্যেই দারিদ্র্য হ্রাস দ্রুততর। এটা অবশ্যই একটি দুশ্চিন্তাজনক প্রবণতা। দরিদ্র্যদের মধ্যে উচ্চতর শিক্ষা দারিদ্র্য হ্রাসে যথেষ্ট সুফল দিচ্ছে না। তার অর্থ এই যে শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে তারা অধিকতর উপার্জনে সক্ষম হচ্ছে না। এক্ষেত্রে তাদের শিক্ষার নিম্ন মান একটি কারণ হতে পারে। অন্যদিকে উচ্চহারে শিক্ষিত বেকারত্বও এ ব্যর্থতার জন্য দায়ী হতে পারে। বিবিএসের বিগত কয়েকটি জরিপ থেকে দেখা যাচ্ছে যে শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার যে বেশি শুধু তাই নয়, এ হার বাড়ছে। কয়েকটি জরিপ থেকেও দেখা গিয়েছে যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত কলেজগুলো থেকে যারা স্নাতক ডিগ্রি পেয়েছে, তাদের মধ্যে অতি উচ্চ হারে বেকারত্ব বিরাজ করছে। তার পেছনে শিক্ষার নিম্নমান, যা নিয়োগকারীর প্রত্যাশার তুলনায় কম, সেটাই হতে পারে একটি বড় কারণ।

যখন বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপ থেকে এসব আশঙ্কাজনক তথ্য ও প্রবণতা চিহ্নিত হচ্ছে তখনই কিন্তু দেশ একটি বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনার দ্বারে দাঁড়িয়ে আছে। সম্প্রতি বিষয়টি সব আলোচনায়ই জোরেশোরে উল্লেখ করা হচ্ছে যে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বিশ্বের দ্বারপ্রান্তে। এ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের অর্থ হচ্ছে দ্রব্য ও সেবা উৎপাদনে, বিপণনে ও ভোগের ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব কিন্তু শুধু যান্ত্রিক কৌশল নয়; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উচ্চতর পর্যায়ের তথ্যপ্রযুক্তি, রোবোটিকস ও কম্পিউটারে উচ্চতর প্রযুক্তি নিয়ে আসবে। সেগুলো ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষা, দক্ষতা ও উদ্যোগী মনোভাব। সেই দক্ষতা অর্জনের জন্য শুরু থেকে সব স্তরেই শিক্ষার মানের ব্যাপক উন্নতি প্রয়োজন হবে। এখন থেকেই তাই শিক্ষা ও দক্ষতার মান ও প্রকৃত অর্জন বাড়াতে মনোযোগী হতে হবে।

সে রকম শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি না করতে পারলে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বিশাল সম্ভাবনাকে স্বাগত জানানো সম্ভব নাও হতে পারে।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব প্রসার লাভ করলে শ্রমশক্তির মোট চাহিদা যে হ্রাস পাবে তা নয়, কিন্তু অদক্ষ শ্রমিকের জন্য বর্তমানে বিদ্যমান পেশাগুলোতে চাহিদা দ্রুত কমে আসবে। অন্যদিকে উচ্চতর শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন এমন পেশায় চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে যে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য প্রয়োজন শিক্ষা বিপ্লব।

সেই সঙ্গে প্রয়োজন হবে শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমানে বিরাজমান বৈষম্য দূর করার পদক্ষেপ। তাহলেই শিক্ষার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটানো এবং সেই উন্নয়নের মাধ্যমে সর্বস্তরের জনগণের, বিশেষত পিছিয়ে পড়া মানুষের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ সাধন সম্ভব হবে।

রুশিদান ইসলাম রহমান: বিআইডিএসের সাবেক গবেষণা পরিচালক, বর্তমানে সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট রিসার্চের এক্সিকিউটিভ চেয়ারপারসন

image_print