Home প্রধান খবর ১৬ বছর ধরে স্বাস্থ্যবিমা থেকে বঞ্চিত জবি শিক্ষার্থীরা

১৬ বছর ধরে স্বাস্থ্যবিমা থেকে বঞ্চিত জবি শিক্ষার্থীরা

45
0
SHARE
Spread the love

জবি প্রতিনিধিঃ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৬ বছর পার হলেও এখনো স্বাস্থ্যবিমা থেকে বঞ্চিত রয়েছে শিক্ষার্থীরা। অর্থাভাবে সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না অনেক শিক্ষার্থী। বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন কেউ কেউ। কয়েক দফা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিমার দাবি উঠলেও ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সম্প্রতি কিছু শিক্ষার্থীর অসুস্থতায় মৃত্যু ঘটলে ফের আলোচনায় এসেছে স্বাস্থ্যবিমা।

 

শিক্ষার্থীদের মতে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা। আবাসিক হল না থাকায় শিক্ষার্থীদের বাইরে থাকতে হয়। ঢাকার আবাসন খরচ মেটাতেই যখন তাদের হিমশিম অবস্থা তখন স্বাস্থ্যসেবার দিকে নজর দেবার সুযোগ কম। স্বাস্থ্যবিমা করা থাকলে সহজেই তারা চিকিৎসা করাতে পারবেন।

 

বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল আমিন লেবু গত বৃহস্পতিবার মারা যান। তীব্র জ্বরে আক্রান্ত লেবু টাকার অভাবে চিকিৎসা শুরু করতে পারেননি।

স্বজনরা জানান, লেবুর দুই ভাই ভ্যানচালক, বাবা গোবরের জ্বালানি বিক্রি করেন। অসুস্থ অবস্থায় লেবু বাড়িতে টাকা চাইলে, তারা অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। সেই সময় আর পাননি লেবু। চিকিৎসা ছাড়াই মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষার্থী।

 

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী রাহাত আরা রিমি মারা যান গত ১১ জুলাই। তিনি জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভূগছিলেন। শারীরিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ভুগতে থাকা রিমি সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছিলেন না টাকার অভাবে।

 

ব্যবস্থাপনা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান পাভেল মারা যান টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে। গত বছর ১৪ সেপ্টেম্বর মারা যাওয়ার আগে পাভেল ঢাকায় এসেছিলেন টিউশনি করার জন্য।

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ আইনুল ইসলাম বলেন,’‘আমি তো নতুন দায়িত্ব পেয়েছি, আগে ছাত্রকল্যাণের সবকিছু অগোছাল ছিল। আমি শিক্ষার্থীদের পরিসংখ্যান তৈরি করছি। স্বাস্থ্যবিমার বিষয়ে আমরা একবার আলোচনা করেছিলাম। বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থা করাটা অনেক বড় কাজ। সবকিছু বিবেচনায় এটা করা যেতে পারে।”

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ ইমদাদুল হক বলেন, “স্বাস্থ্যবিমা থাকলে বিপদের সময় কাজে লাগে। বর্তমানে আমাদের শিক্ষক শিক্ষার্থী কারো ই স্বাস্থ্যবিমা নেই। আমরা চেষ্ঠা করবো সবার জন্য স্বাস্থ্যবিমা করার।”