Home শিক্ষাঙ্গন নিরাপত্তাহীনতায় জবির নিরাপত্তাকর্মীরা

নিরাপত্তাহীনতায় জবির নিরাপত্তাকর্মীরা

42
0
SHARE

মোঃসুমন,জবি প্রতিনিধিঃ

মহামারী করোনাভাইরাস প্রকোপের মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নিরাপত্তাকর্মীরা। তবে তাদের মেলেনি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সামগ্রী ও ঝুঁকি ভাতার কোনোটিই।

করােনা সংক্রমণ রােধে গত ১৮ মার্চ ২০২০ দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতাে বন্ধ রয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ও । শিক্ষক শিক্ষার্থী কর্মকর্তা কর্মচারীরা ছুটিতে থাকলেও এই ছুটি মেলেনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) নিরাপত্তাকর্মীদের। অনেকটা স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই দ্বায়িত্ব পালন যাচ্ছেন তারা।

স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে এমন দায়িত্ব পালনের পরও কোনো ধরনের সুরক্ষা সামগ্রী ও আর্থিক নিশ্চয়তা না পাওয়ায় অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে নিরাপত্তাকর্মীদের মাঝে।

এরআগে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গত বছর ২০ জুলাই থেকে সীমিত পরিসরে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে ক্যাম্পাসে আনাগোনা শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের। এসময়ে সামাজিক দূরত্ব মানা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়েছে নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সামগ্রী নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে না পারায় নিরাপত্তাকর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ২২ জন নিরাপত্তাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। যাদের মধ্যে স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত এবং অস্থায়ী নিয়োগে কাজ করছেন।

নিরাপত্তা কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনবল সংকটে প্রায়ই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয় তাদের। করোনাভাইরাস সংকটে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের জন্য কোনো ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রণোদনা বা ঝুঁকি ভাতা প্রদান করেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তা কর্মী বলেন, ‘ আমাদেরকে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাস্থ্যসামগ্রী দেয়া হয়নি। তবে আমরা যারা অতিরিক্ত কাজ করছি তাদেরকে ওভারটাইম দেয়া হচ্ছে। করোনায় বিভিন্ন পেশার লোকজন প্রণোদনা বা ঝুঁকি ভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু এ সংকটের মধ্যেও যারা ক্যাম্পাসকে নিরাপদ রাখছেন, এখন পর্যন্ত তাদেরকে করোনাকালীন কোনো ধরনের সুবিধা প্রদান করা হয়নি। আমরা আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করবেন’।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, গতবছর সুরক্ষাসামগ্রী নিয়ে আমাদের প্লান ছিল না। কিন্তু প্রয়োজন হলে অবশ্যই সিকিউরিটি শাখার সাথে কথা বলে সুরক্ষাসামগ্রী প্রদান করা হবে। তবে তাদের ঝুঁকি ভাতার জন্য নথি উপস্থাপন করা হয়েছে। গতবারও তাদেরকে এই ভাতা প্রদান করা হয়েছে।