Home প্রধান খবর দেরি করে কথা বলছে এখনকার শিশুরা

দেরি করে কথা বলছে এখনকার শিশুরা

83
0
SHARE

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

ফরিদ উদ্দিন আহমেদের ছেলের বয়স তিন বছর। একটা সময় তিনি ও তার স্ত্রী ছেলের কথা বলায় অস্পষ্টতা ও ধীরগতি লক্ষ করেন। ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সন্তানকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিকস নিউরো ডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম-‘ইপনা’য় নিয়ে যান। সেখানে শিশুর জন্য বিশেষ খাওয়াদাওয়া এবং কীভাবে কথা বলতে হবে, সে বিষয়ে তিন মাসের ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। তিন মাসেই শিশুটির অনেক উন্নতি হয়। শিশুটি এখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির এই সময়ে শিশুরা অনেক বেশি সময় ইন্টারনেটে কাটাচ্ছে। এছাড়া একক পরিবারে শিশু কথা বলার সঙ্গী কম পায়। এ কারণে শিশু দেরিতে কথা বলছে। বিষয়টি অবহেলা না করে বরং দ্রুত বিশেষজ্ঞদের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তারা।

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ  বলেন, “আমার ছেলের বয়স যখন এক বছর, তখন সে স্বাভাবিক দুই-একটি কথা বলত। এর মধ্যেই করোনা শুরু হয়। তখন আমরা বাড়িতে বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহার করি। ওকেও মোবাইল ফোনে ইউটিউব দেখাতাম। পাশাপাশি ও টিভিও দেখত। পরে লক্ষ করলাম, শুরুতে ও যেভাবে কথা বলত, এখন ওর কথা বলার গতি খুবই কম। ‘ইপনা’য় নিয়ে গেলে ওকে বিশেষ ডাইট ও কথা বলার চর্চার ওপর বিশেষ ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। আর মোবাইল ফোন ও টিভি দেখাতে নিষেধ করে দেন। আমাদের ওর সঙ্গে বেশি বেশি কথা বলার পরামর্শ দেন। তিন মাসে ও অনেক উন্নতি করে।”

শিশু দেরিতে কথা বলছে?এই কাজগুলো করে দেখুন – shangkhachil

বেটার লাইফ হসপিটালের নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার ও চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পেডিয়াট্রিক কনসালট্যান্ট ডা. সেলিনা সুলতান বলেন, ‘তিন মাসের মধ্যে শিশু সামাজিক হাসি হাসবে, ঘার শক্ত হয়ে যাবে। যখন আমরা দেখব শিশুর মধ্যে এসব বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে না, তখনই বলব শিশুটির ভেতরে বিলম্বের কিছু ব্যাপার আছে। এক বছরের একটি শিশুও বিভিন্ন শব্দের মাধ্যমে সামাজিকভাবে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। যোগাযোগ স্থাপন যে শুধু কথা বলার মাধ্যমে হচ্ছে, তা নয়। আকার-ইঙ্গিত, শব্দ, শরীরের অঙ্গভঙ্গি দিয়েও করে, সামনে কেউ দাঁড়ালে সে বিভিন্ন ধরনের শব্দ করে তার মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করে। দুই বছরের একটি শিশুর মধ্যে কমপক্ষে ৫০ থেকে ১০০টি শব্দের ভান্ডার থাকবে। যদি না থাকে, তবেই আমরা তার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন হব।’

আইসিডিডিআরবির শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিজ্ঞানী ডা. জেনা হামদানী ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, শিশুর দেরিতে কথা বলা সম্প্রতি একটু বেড়েছে। তবে কতটা বেড়েছে তা আমরা বলতে পারব না। কারণ সঠিক পরিসংখ্যান নেই। আমরা দেখেছি, বাবা-মা চাকরিজীবী হলে বাচ্চাদের কাজের লোকদের কাছে রেখে যায়। এই শিশুদের মধ্যে দেরিতে কথা বলার প্রবণতা বেশি। কারণ কাজের মেয়ে শিশুর সঙ্গে বেশি কথা বলে না। তাকে নিয়ে টিভি দেখে। এ কারণে আমাদের একশ্রেণির শিশুদের মধ্যে বাংলার চেয়ে হিন্দি বলার প্রবণতা বেশি ছিল। আবার বাবা-মা নিজেদের ব্যস্ততার জন্য শিশুদের ট্যাব, মোবাইল দিয়ে বসিয়ে দেন।’ শিশুর সঙ্গে প্রচুর কথা বলার পরামর্শ

শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরো ডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম-ইপনা’র সহকারী অধ্যাপক ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, প্রতিদিন ইপনায় ১০০ থেকে ১২০টি শিশু চিকিত্সার জন্য আসে। এদের মধ্যে ২০ শতাংশ রোগী আসে দেরিতে কথা বলার সমস্যা নিয়ে। কথা বলার জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগে ও উদ্দীপকের অভাব, কানে না শুনতে পাওয়া, জন্মের সময় কোনো সমস্যা হওয়া—এমন অনেক করণে শিশুরা কথা বলতে দেরি করে।

image_print