Home প্রধান খবর বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে রাজনৈতিক আইসোলেশনে আছে : ওবায়দুল কাদের

বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে রাজনৈতিক আইসোলেশনে আছে : ওবায়দুল কাদের

38
0
SHARE
  • সংবাদ সম্মেলনে কাদের

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে রাজনৈতিক আইসোলেশনে আছে বলেই সরকারের কোন উন্নয়ন দেখতে পায় না। বিএনপি মহাসচিব বলছেন করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে সরকার নাকি একেবারেই ভ্রুক্ষেপহীন! বিএনপি মহাসচিব চিরাচরিত শব্দ চয়নে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন, একে সমালোচনা না বলে প্রতিহিংসা ও মিথ্যাচারও বলা যায়।

নোভেল করোনাভাইরাসের নতুন সংক্রমণ মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সংক্রমণ বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের ফ্লাইট বন্ধের বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইউরোপ-আমেরিকার অবস্থা ভয়াবহ। এই অবস্থায় নিজের এবং অন্যদের সুরক্ষার জন্য মাস্ক পরিধান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। টিকা সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় নয় বলে অনেক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মনে করছেন। প্রতিরোধ ব্যবস্থার জোরদারের অংশ হিসেবে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করাই বিকল্প ভ্যাকসিন। তাই কোন রূপ অবহেলা নয়, আতঙ্কিত না হলে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে সকলকে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকার তার সরকারী বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকার প্রস্তুতি নিয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে প্রণোদনা কর্মসূচী গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধির প্রতি মনোযোগী হতে হবে। আর লন্ডনসহ বিভিন্ন দেশের ফ্লাইটের বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে। লন্ডন-ঢাকা ফ্লাইটের বিষয়ে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। শেখ হাসিনার সরকার অতীতের ধারাবাহিকতায় সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।

বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যখন মহামারী নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে তখন শেখ হাসিনার মানবিক ও সাহসী নেতৃত্বে একদিকে সংক্রমণ রোধ ও চিকিৎসা অপরদিকে জীবন জীবিকার নিরাপত্তা বিধানে গৃহীত পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে। বিএনপি চেয়েছিল মানুষ না খেয়ে এবং বিনা চিকিৎসায় রাস্তায় মরে পড়ে থাকবে, তা হয়নি বলেই তাদের এত গাত্রদাহ। জনগণের ক্ষতি করার পাশাপাশি দেশের ইমেজ নষ্ট করা ও মিথ্যাচারই এখন বিএনপির একমাত্র কৌশল।

বিএনপি করোনাকালে জনগণের জন্য কি করেছে- এমন প্রশ্ন রেখে সেতুমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ও সরকার প্রধান শেখ হাসিনার মতো একজন মানবিক নেতৃত্ব যতক্ষণ আছেন, ততক্ষণ মহামারীসহ যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় লড়াই চালিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ। বিএনপি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিয়ে জনমণে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে দেশের বাজেট ছিল ৫৪ হাজার ৮শ’ কোটি টাকার। আর সেই বাজেট বর্তমানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালের মূল এডিপি ছিল প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা, আর এখন ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা। তখনকার সময় রিজার্ভ ছিল ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বর্তমানে ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। অর্থনীতি এগিয়ে যাওয়া নিয়ে যখন বিশ্বব্যপী প্রসংশা চলছে তখন বিএনপি প্রকাশ করেছে সংশয়। তারা বলে সরকার নাকি নিজেরাই ‘রোল মডেল’ বলছে! বাস্তবে বিএনপির এসব বানানো গল্প। বিএনপি এখন কূলহারা নৌকার মাঝি আর পথহারা পথিকের মতো, তারা সরকারের অর্জনে চরম পরশ্রীকাতর। বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের কর্মসূচী গ্রহণ করা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা ভাল খবর। কিন্তু কর্মসূচী পালনের চেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বাধীনতাবিরোধী এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে গোপন ও ওপেন সখ্য থেকে বেরিয়ে আসা। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নয়, তাদের নিয়ে সুবর্ণজয়ন্তী পালন এক ধরনের প্রহসন।