Home প্রধান খবর পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

58
0
SHARE

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব কেড়ে নেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচীর শেষ দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দলের ক’জন নেতাকর্মী আহত হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির ১৭ কর্মীকে আটক করে পুলিশ। এর আগে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জিয়ার খেতাব কেড়ে নেয়ার অধিকার কারো নেই। সর্বস্তরের নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপির আয়োজনে শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচী। রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশে আগত নেতাকর্মীরা সেখানে বসে পড়লে ওই রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সমাবেশ শেষ হওয়ার পূর্বমুহূর্তে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ওই এলাকার ভয়াবহ যানজট দূর করতে কদম ফোয়ার দিক থেকে পুলিশ একযোগে সমাবেশের দিকে আসে এবং রাস্তায় যানবাহন বাহন চলাচল শুরু করার চেষ্টা করে। তখন কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের হট্টগোল বাধে। এক পর্যায়ে তারা ধর ধর বলে স্লোগান দিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এ সময় পুলিশও মারমুখী হয়ে ওঠে।

পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার এক পর্যায়ে পরিস্থিতি সামলাতে দলটির নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে বিএনপি নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তারা দৌড়ে তোপখানা রোড ও জাতীয় প্রেসক্লাবের ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পরিস্থিতি শান্ত হলে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভেতরে আশ্রয় নেয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমসহ নেতাকর্মীরা দুপুর ১টার দিকে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে চলে যান।

ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় একজন আহত বিএনপি কর্মীকে পুলিশ ধরে নিয়ে যেতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির পরাজিত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন তাঁকে পুলিশের হাত থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের জানান, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের শেষের দিকে কে বা কারা ইট ছুড়ে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। এরপর পুলিশ অতর্কিত হামলা চালায়। পুলিশের হামলায় ক’জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলেও ইশরাক জানান। এ সময় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দায়িত্বরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের কাছে বলেন, পুলিশ সমাবেশের পাশেই অবস্থান করছিল। কিন্তু বিএনপি কর্মীরা পুলিশের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করায় লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়।

পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরুর আগে দলের নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জিয়াউর রজমানই মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সেক্টর কমান্ডারও তিনি। যিনি মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করলেন, তার খেতাব কেড়ে নেয়া হবে? দেশের মানুষ তা কখনও মেনে নেবে না।

সরকারকে উদ্দেশ করে ড. মোশাররফ বলেন, যারা জিয়াউর রহমানের খেতাব কেড়ে নিতে চাচ্ছেন তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। আপনাদের কাছ থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য আজকে যখন জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছে তখন এই ষড়যন্ত্র। আমি সকলকে আহ্বান জানাব, আগামী দিনে এই সরকারের পতনের আন্দোলনে সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন। আজকে আমি আন্দোলনের ডাক দিচ্ছি।

ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় খেতাব কেড়ে নেয়ার অধিকার জামুকার নেই। এ খেতাব দেয়া হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য। তৎকালীন সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য এ খেতাব দিয়েছেন। এই খেতাব বাতিল করার অধিকার যদি সরকারের থাকে, তাহলে নতুন করে বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম খেতাব দিন। যেহেতু এটা দেয়ার এখতিয়ার নেই, সুতরাং কেড়ে নেয়ারও অধিকার নেই। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে বিদ্রোহ করে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বাঙালী সেনাদের সংগঠিত করেন। সশস্ত্র যুদ্ধ করেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জিয়ার খেতাব নিয়ে আমরা ব্যবসা করি না। এটা আমাদের গর্ব। এই খেতাব কেড়ে নিলে সময় এলে সব হিসাব নেয়া হবে। জনগণের আদালতেই বর্তমান সরকারের বিচার হবে। তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান মারা যাওয়ার পর ৭৬ সালে মতিয়া চৌধুরী ডাকসু থেকে তার ছবি নামিয়ে ফেলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা তাকে মন্ত্রী বানিয়েছেন।

গয়েশ্বর রায় বলেন, আঘাত এলে পাল্টা আঘাত হবে। পুলিশের কাজ পুলিশ করুক। যারা চাকরি করতে চান, তারা জনগণের পক্ষে থাকুক। আর যদি তারা সরকারকে রক্ষা করতে চান, তাদের বিষয়ে আমার কোন কথা নেই। সময় এলে জনগণ সব হিসাব নেবে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশে একজন রাজনীতিবিদ আছেন, যিনি কবিতার ভাষায় কথা বলেন। তার বাড়ি নোয়াখালী, তিনি ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, আলজাজিরার প্রতিবেদনের পেছনে কারা, তাদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। কিন্তু আলজাজিরার প্রতিবেদন ধামাচাপা দিতে তারা জিয়াউর রহমানের খেতাব কেড়ে নেয়ার কথা বলছে। জিয়াউর রহমানের খেতাব কেড়ে নেয়ার অধিকার এ সরকারের নেই। যতদিন পৃথিবী থাকবে জিয়াউর রহমানের অবদান ততদিন থাকবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আমানউল্লাহ আমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম নকী, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব প্রমুখ।

এদিকে দুপুরে বিএনপির আহত নেতাকর্মীদের দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও ইশরাক হোসেনসহ দলের কিছু নেতাকর্মী। এ সময় তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আহত নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন। বিএনপির দেয়া তথ্য মতে সেখানে আহত নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিলেন- ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল বাবু, ঢাকা কলেজের যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজ, ছাদত্রদল ঢাকা মহানগর পূর্বেরসহ সাধারণ সম্পাদক আলামিন খান, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েরর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আশিকুর রহমান, ঢাকা জেলার সহ-সভাপতি মোঃ তমিজ উদ্দিন, হাবিবউল্লাহ বাহার কলেজ ছাত্রদল নেতা রাহাত হোসেন প্রমুখ।