Home রাজনীতি খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি

খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি

55
0
SHARE

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় তাকে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে শরীরের তাপমাত্রা ওঠানামা করায় বিকালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। এ সময় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত মেডিকেল বোর্ড। এ বোর্ডের পরামর্শেই তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বণিক বার্তাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। এজন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে ভর্তি রেখেই তার বাকি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা চলবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের এভার কেয়ার হাসপাতালে যাওয়ার খবরে আগে থেকেই সেখানে জড়ো হন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। হাসপাতালটির আশপাশে ভিড় করেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ভিড় সামলাতে হাসপাতালের ভেতর থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।

৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস ও চোখের সমস্যায় ভুগছেন। গুলশানের বাসা ফিরোজায় অবস্থানের সময় গত এপ্রিলে তিনি নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। এরপর কভিড-পরবর্তী জটিলতায় পড়েন তিনি। এজন্য গত ২৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থানের কয়েকদিনের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। প্রায় দুই মাস তিনি সিসিইউতে ছিলেন। পরে ১৯ জুন মেডিকেল বোর্ড বাসায় নিয়ে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে ছাড়পত্র দেয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় খালেদা জিয়ার। এ মামলায় বন্দি থাকাকালেই তার বিরুদ্ধে হয় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা। এ মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড পান তিনি। আগের মামলায় হাইকোর্টে আপিল করার পর সাজা হয় দ্বিগুণ। ফলে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয় সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারেই ছিলেন খালেদা জিয়া। দেশে নভেল করোনাভাইরাস মহামারী শুরুর দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন নিয়ে যাওয়ার পর বিশেষ বিবেচনায় মানবিক কারণে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান বিএনপি নেত্রী। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ প্রথমে ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তি দেয়া হয় তাকে। পরে দফায় দফায় এ মুক্তির মেয়াদ আরো বাড়ানো হয়।

image_print