যুদ্ধ আর সংঘাতে বিশ্ববাজারে বাড়ছে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দেশে দেশে সংঘাত আর যুদ্ধের কারণে এমনিতেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজার অস্থিতিশীল রয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার বাড়তে পারে। এছাড়া এই সংঘাতে আমেরিকা জড়িয়ে পড়লে তা বেড়ে ১৪০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে শঙ্কা বিশ্লেষকদের।

সম্প্রতি অয়েল প্রাইস ডটকমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে এমন অস্থিরতায় জ্বালানি তেলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও। সেইসঙ্গে স্বর্ণ ও অ্যালুমিনিয়ামের দামও বাড়ছে হু হু করে।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী ও জ্বালানির বৈশ্বিক বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্য। হরমুজ প্রণালি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রফতানিকারকরা প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহন করে, যা বৈশ্বিক ব্যবহারের এক-পঞ্চমাংশ। মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক সিটি গ্রুপের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত করলে ব্যারেল প্রতি দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

আবার ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে বাধা দিলে প্রতি ব্যারেলের মূল্য দাঁড়াতে পারে ১২০-১৩০ ডলারে। বহুজাতিক আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান সোসিয়েতে জেনারেলের হিসাব অনুযায়ী, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে পড়লে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি তা পৌঁছতে পারে ১৪০ ডলার পর্যন্ত।

এরই মধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম চলতি মাসের শুরুতে বেড়ে ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে উঠলেও ইসরাইলে ইরানের হামলায় তেমন ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ প্রকাশ না হওয়ায় তা আবার নেমে যায়। উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আবারও তা বাড়াবে বলে মত বাজার বিশেষজ্ঞদের।

জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকের অন্যতম বৃহৎ সদস্য দেশ ইরান। দেশটি প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করে। ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতে ব্যাহত হবে দেশটির উত্তোলন ও রফতানি উভয়ই। যার প্রভাব পরবে বিশ্ববাজারে।

ইউক্রেন রাশিয়া সংঘাতের কারণে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা ছিল সাত বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে ইরান- ইসরাইল সংঘাত। এতে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট অস্থিরতায় শুধু জ্বালানি তেলই নয়, দাম বাড়ছে প্রাকৃতিক গ্যাস, সোনা ও অ্যালুমিনিয়ামেরও। সেইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী শেয়ার ও সূচকের দরপতন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কয়েক দিন ধরে চুয়াডাঙ্গায় অব্যাহত রয়েছে তাপপ্রবাহ। সোমবার (২২ এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গা জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপদাহের কারণে হিট অ্যালার্ট জারি করেছে জেলা প্রশাসন। খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে নিষেধ করা হচ্ছে। তবে কাজের প্রয়োজনে অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন এই তীব্র গরমের ভেতর ঘরের বাইরে যেতে।

এদিকে চুয়াডাঙ্গায় অতি তীব্র তাপপ্রবাহে এক ঘণ্টার ব্যবধানে হিট স্ট্রোকে ২ নারীর মৃত্যু হয়েছে। তারা দুজনই আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের বেগুয়ারখাল গ্রামের বাসিন্দা। সোমবার (২২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯ টায় স্বামীর জন্য মাঠে ভাত নিয়ে যাওয়ার সময় আশুরা খাতুন (২৫) ও সকাল সাড়ে ১০ টায় আয়েশা বেগম (৭০) মারা যান।

স্থানীয়রা জানান, বেগুয়ারখাল গ্রামের আনোয়ার হোসেন সকালে না খেয়েই মাঠে কাজ করতে যান। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্ত্রী আশুরা খাতুন স্বামীর জন্য মাঠে ভাত নিয়ে যাচ্ছিলেন। স্বামীর ক্ষেত পর্যন্ত পৌঁছনোর আগেই জমির আইলে আশুরা খাতুন মাটিতে পড়ে যান। মাঠের কৃষকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশুরাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার আগেই তিনি মারা যান।

এর এক ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ১০ টায় একই গ্রামের আক্কাস আলীর স্ত্রী আয়েশা বেগম মারা যান। ক’দিনের তীব্র গরমে তিনি হাঁসফাঁস করছিলেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত গ্রাম্য চিকিৎসক রাশেদুল ইসলাম বলেন, কয়দিনের তীব্র গরমে আয়েশা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুজনই হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

এদিকে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানিয়েছেন, আরও কয়েক দিন এমন তাপমাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এখনই বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। রাত ও দিনের তাপমাত্রার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। দিনের বেশির ভাগ সময় প্রখর তাপে উত্তপ্ত থাকছে চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গা শহর ঘুরে দেখা যায়, দিনের বেলায় সাধারণ মানুষ বাইরে কম বের হচ্ছেন। শ্রমজীবী মানুষেরা বের হলেও ফাঁকা রাস্তায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তারা। তাই প্রশান্তির খোঁজে গাছের নিচে ছায়াযুক্ত স্থানে জিরিয়ে নিচ্ছেন অনেক শ্রমজীবী মানুষ।

এদিকে তীব্র তাপদাহে জনসাধারণকে সচেতন করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে পথচারী ও এলাকাবাসীকে সতর্ক করছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে নিষেধ করা হচ্ছে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

এর আগে গত শনিবার (২০ এপ্রিল) চলতি মৌসুমের সকল রেকর্ড ভেঙে দেশের সর্বোচ্চ অতি তীব্র তাপদাহ ৪২ দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ১৮ শতাংশ। জেলার হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে দিন দিন বাড়ছে গরমজনিত রোগীর সংখ্যা।

এই বিভাগের আরো খবর