মনপুরা সূর্যমুখী ফুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের

ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ এলাকাবাসী

মনপুরা (ভোলা) সংবাদদাতা:
মনপুরা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে রবি ২০২৩/২৪ মৌসুমে উপজেলা কৃষি সমম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রণোদনা ও প্রদর্শনী কর্মসূচীর আওতায় ৬ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন কৃষকেরা। উপজেলার প্রায় ১০০ জন কৃষক ১৫টি ব্লকে প্রাথমিকভাবে ৬ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের বীজ নিয়ে চাষ শুরু করেন। আবহাওয়া ও জমি চাষের অনুকুলে থাকায় বাম্পার ফলন আশা করছেন কৃষকেরা। ফলন ভালো দেখে সূর্যমুখী ফুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। স্বল্প খরচে ফুল চাষে সফলতার আশা কৃষকের।
সরজমিনে হাজির হাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন ব্লকে সূর্যমুখী ফুল চাষী মোঃ রিয়াজ সোনারচর ব্লকের মোঃ আলমগীর ও মনপুরা ইউনিয়নের ঈশ্বরগঞ্জ ব্লকের পলাশ চন্দ্র দাস এর কৃষিজমিতে গিয়ে দেখা যায়, সূর্যমুখী ফুল হাসিমুখে সূর্যের হাসি ছড়াচ্ছে চারদিকে। হলুদ ফুল আর সবুজ গাছের অপরুপ দৃশ্য। দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় সূর্যমুখী ফুলের সৌন্দর্য দেখতে আশেপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা জমির পাশে ভিড় করছেন। কেউ কেউ আবার স্মৃতি ধরে রাখতে ফুলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ফুলের সাথে ছবি তুলছেন। ফুলের সৌন্দর্য দেখে সবাই মুগ্ধ।
সূর্যমুখী ফুল চাষী কৃষক মোঃ রিয়াজ জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনা ও প্রদর্শনী কর্মসূচীর আওতায় ২ কেজি সূর্যমুখী ফুলের বীজ নিয়ে বাড়ীর পাশে ৫০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করি। উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা আবুল কালাম তাকে সূর্যমুখী চাষে উদবুদ্ধ করেন। বর্তমানে তার জমিতে সকল গাছে ফুল ফুটেছে। বাজার মূল্য ভালো থাকায় এ থেকে তার ভালো লাভ হবে। কৃষক রিয়াজ আরো বলেন, ৫০ শতাংশ জমিতে চাষ করতে আমার উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। আল্লাহর রহমতে যে ফলন হয়েছে তাতে ৪৫০ থেকে ৫০০ কেজি বীজ পাওয়া যাবে। প্রতিমন (৪০) কেজি ৪ হাজার টাকা করে বিক্রয় করলে ৪৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা বিক্রয় করতে পারব। খরচ বাদে আমার লাভ হবে ৩৫ হাজার টাকা। আমি আগামী বছর আরও বেশী জমিতে সূর্যমুখী ফুল চাষ করব।
ঈশ্বগঞ্জ ব্লবের আরেক কৃষক পলাশ চন্দ্র দাস জানান, আগে জমিতে বিভিন্ন রকম সবজি চাষ করতাম। এ বছর কৃষি অফিসের সহায়তায় আমি সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছি। বর্তমানে আমার খেতে প্রতিটি গাছে ফুল ধরেছে। আমি ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ। সবাই ফুল দেখার জন্য আসে। একটি ফুলের ওজন ৩শত গ্রাম হতে ৫শত গ্রাম হবে। আমি আগামীতে আরো বেশী সূর্যমুখী ফুলের চাষ করব।
ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন,আবুল কালাম ও সাহিদা ফারজানা বলেন আমরা সবসময় কৃষকদের নতুন নতুন ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত করে থাকি। এবছর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ১৫টি ব্লকে ১০০ জন কৃষক সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। আমরা সবসয় তাদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আগামীতে আরও বেশী কৃষক সূর্যমুখী ফুল চাষে আগ্রহ জন্মাবে।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান তাওহীদ বলেন, রবি মৌসম প্রণোদনা ও প্রদর্শনী প্রকল্পের আওতায় প্রণোদনা কর্মসূচীর অংশ হিসেবে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সূর্যমুখী ফুলের বীজ দেওয়া হয়েছে। কৃষকেরা যদি এটি আবাদ করে তাহলে বাজারে এর যে চাহিদা ও মূল্য রয়েছে তাতে কৃষকেরা অধিক পরিমান লাভবান হবেন। এই বীজের তৈল ভালো এবং দামও বেশী। সূর্যমুখী ফুল চাষে এবছর কৃষকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ বেড়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে সবসময় কৃষকদের বিভিন্ন রোগ ও পোকামাকড়েরর আক্রমন থেকে তাদের ফসল রক্ষায় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

এই বিভাগের আরো খবর