Home প্রধান খবর পরীমনিকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ

পরীমনিকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ

108
0
SHARE

বিনোদন ডেস্ক:

ফেসবুকে ধর্ষণ ও হত‌্যাচেষ্টার অভিযোগ জানানোর পর রোববার (১৩ জুন) রাতে সাংবাদিকদের কাছে তার সঙ্গে হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন পরীমনি।

রাজধানীতে নিজ বাসায় পরীমনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গত বুধবার (৯ জুন) রাতে পূর্বপরিচিত অমির সঙ্গে উত্তরার বোট ক্লাবে যান তিনি। সেখানে গিয়ে দেখেন নাসিরুদ্দিনসহ চার-পাঁচজন টেবিলে বসে আছেন। তাদের সঙ্গে পরীমনির পরিচয় করিয়ে দেন অমি। টেবিলে দুটি মদের বোতল ছিল। পরীকে মদপানের প্রস্তাব দিলে তা নাকচ করেন তিনি। পরে তাকে কফি খাইতে দেওয়া হয়। তবে, কফির স্বাদ স্বাভাবিক ছিল না। তাই তিনি কফি পান করেননি। এমনকি পরে সরবরাহ করা কোল্ড ড্রিংকসেও কিছু মেশানো হয়েছিল বলে মনে হয় পরীমনির।

তিনি কোল্ড ড্রিংকসও পান করেননি। এতে ক্ষিপ্ত হন নাসিরুদ্দিন। পরীমনি ও তার সঙ্গে থাকা জেমী ওয়াশরুমে যেতে চাইলে পরীকে যেতে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি পরীমনি ও জেমী বাসায় যেতে চাইলেও বাধা দেওয়া হয়। নাসিরুদ্দিন পরীমনিকে লাথি মেরে চেয়ার থেকে ফেলে দেন এবং মুখের মধ‌্যে মদের বোতল ঢুকিয়ে দেন। এতে তার দাঁতের মধ‌্যে আঘাত লাগে এবং কিছু মদ গলার মধ‌্যে চলে যায়। এতে তার বুক জ্বালা করে। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরীমনি ও জেমী চিৎকার ও কান্না করলে তাদের ধর্ষণ করার হুমকি দেওয়া হয় এবং গালাগালি করা হয়।

ওই রাতেই বনানী থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন পরীমনি।

 

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পরীমনির খোলা চিঠি 

দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। রোববার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য নিজেই জানিয়েছেন পরীমনি।
এর প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে খোলা চিঠি পোস্ট করেছেন পরীমনি।  পাঠকদের জন্য তার খোলা চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
বরাবর, 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 
আমি পরীমণি। এই দেশের একজন বাধ্যগত নাগরিক। আমার পেশা চলচ্চিত্র। 
আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি।
আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। 
আমি এর বিচার চাই।
এই বিচার কই চাইবো আমি? কোথায় চাইবো? কে করবে সঠিক বিচার ? আমি খুঁজে পাইনি গত চার দিন ধরে। থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্রবন্ধু বেনজির আহমেদ আইজিপি
স্যার! আমি কাউকে পাই না মা। 
যাদেরকে পেয়েছি সবাই শুধু ঘটনা বিস্তারিত জেনে, দেখছি বলে চুপ হয়ে যায়! 
আমি মেয়ে, আমি নায়িকা, তার আগে আমি মানুষ। আমি চুপ করে থাকতে পারি না। আজ আমার সাথে যা হয়েছে তা যদি আমি কেবল মেয়ে বলে, লোকে কি বলবে এই গিলানো বাক্য মেনে নিয়ে চুপ হয়ে যাই, তাহলে অনেকের মতো (যাদের অনেক নাম এক্ষুনি মনে পড়ে গেল) তাদের মতো আমিও কেবল তাদের দল ভারী করতে চলেছি হয়তো।
আফসোস ছাড়া কারোর কী করবার থাকবে তখন! 
আমি তাদের মতো চুপ কী করে থাকতে পারি মা? 
আমি তো আপনাকে দেখিনি চুপ থেকে কোনো অন্যায় মেনে নিতে!
আমার মা যখন মারা যান তখন আমার বয়স আড়াই বছর। এতদিনে কখনো আমার এক মুহূর্ত মাকে খুব দরকার এখন,
মনে হয়নি এটা। আজ মনে হচ্ছে , ভীষণ রকম মনে হচ্ছে মাকে দরকার ,একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরার জন্যে দরকার। 
আমার আপনাকে দরকার মা। আমার এখন বেঁচে থাকার জন্যে আপনাকে দরকার মা। 
মা আমি বাচঁতে চাই। 
আমাকে বাঁচিয়ে নাও মা।