জাতীয়

বিএনপির বারবার একদফা দাবি ঘোষণা কোনো গুরুত্ব বহন করে না- তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহ্‌মুদ বলেছেন, ‘বিএনপি মাঝে মধ্যে এক দফার আন্দোলন ঘোষণা করে। সুতরাং তাদের আবার নতুন করে এক দফার আন্দোলনের ঘোষণা এটা যে বিশেষ গুরুত্ববহ তা নয়। তবে আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে মাঠে থাকবো, দেশে কাউকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার সুযোগ দেবো না।’

মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রীএ কথা বলেন।

১২ জুলাই বিএনপির একদফা দাবি ঘোষণা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অতীতেও দেখেছি বিএনপি যখনই কর্মসূচি ঘোষণা করে, তখনই তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়, জনজীবনে ভোগান্তি ঘটায়। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারই তাদের মূল উদ্দেশ্য। সেই সুযোগ আমরা দেবো না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল, আমরা রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকবো, জনগণের পাশে থাকবো।’

ড. হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদল এখন দেশে অবস্থান করছে। এই সময় তাদের এ ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার অর্থ হচ্ছে, তারা আসলেই কর্মসূচিগুলো জনগণকে দেখাতে চায় না, বিদেশিদের দেখাতে চায়। বিদেশিরা তাদের শক্তি সামর্থ্য নিয়ে সন্দিহান। তারা শক্তি দেখানোর জন্য চেষ্টা করছে মাত্র।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আসলে বিদেশিদের কাছে বিএনপির শক্তি প্রদর্শন করার কোনো প্রয়োজন তো নেই। তাদের যদি কোনো অনুযোগ, অভিযোগ থাকে সেটি জনগণের কাছে বলতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য তাদের সমস্ত কর্মসূচি, সমস্ত কথাবার্তা হচ্ছে বিদেশিদের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টাপ্রসূত। এটি রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের দেউলিয়াত্বই প্রকাশ করে।’

জাতীয় সংসদে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত রিপ্রেজেন্টেশন অব্ দি পিপল অর্ডার (আরপিও) সংশোধন বিল পাস হওয়ায় নির্বাচন কমিশন সন্তোষ প্রকাশ করলেও বিএনপি বিরূপ মন্তব্য করেছে, এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে নির্বাচন কমিশন। তারা যখন সন্তোষ প্রকাশ করে আমি সেটির সাথে সহমত পোষণ করি। কারণ নির্বাচন কমিশনই বলছে যে, তারা আরপিও সংশোধনের যে প্রস্তাব দিয়েছিলো সেটি যেভাবে সংসদে পাশ হয়েছে সেটি নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। নির্বাচন কমিশন যে শক্তিশালী অবস্থানে আছে সেই অবস্থানে থেকে তারা একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে পারবে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’

বিএনপি মহাসচিবের সাম্প্রতিক মন্তব্য ‘আমরা রাজা-রানির দেশে বাস করতে চায়নি, গণতন্ত্রের জন্য দেশ স্বাধীন করেছিলাম’ এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব কখন মুক্তিযুদ্ধ করেছেন আমি সেই প্রশ্ন রাখতে চাই। মুক্তিযুদ্ধের পরে তো উনি কিছুদিন উনার বাবাসহ আত্মগোপনে ছিলেন। উনি তো মুক্তিযুদ্ধ করেন নাই। বরং ক’দিন আগে মির্জা ফখরুল সাহেব বলেছেন, পাকিস্তানই ভালো ছিলো। যে দলের মহাসচিব পাকিস্তানই ভালো ছিলো বলে সেই দল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বে কতটুকু বিশ্বাস করে সেটি নিয়েই তো প্রশ্ন থেকে যায়। কারণ তার দল তাকে শো’কজ করেনি বা তার পদ থেকে বাদ দেয়নি। সুতরাং মির্জা ফখরুল সাহেবরা ‘বাংলাদেশ’ কতটুকু বিশ্বাস করে সেটি প্রশ্ন। তিনি রাজা-রানি বলতে কি বেগম খালেদা জিয়াকে বুঝিয়েছেন কি না সেটিও প্রশ্ন।’

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button