Home ছবির গ্যালারী বাইডেন-জিনপিং বৈঠক আলোচনায় নিজেদের বেশি লাভবান দেখছে বেইজিং

বাইডেন-জিনপিং বৈঠক আলোচনায় নিজেদের বেশি লাভবান দেখছে বেইজিং

20
0
SHARE

সময়ের চিএ ডেস্ক।।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একটি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেছেন। বলা যেতে পারে এটি একটি যুগান্তকারী ঘটনা। পূর্ববর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। ওই সময়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে কূটনৈতিক পর্যায়েও বৈরিতার প্রভাব ছিল।

গত সোমবার বিশ্বের অন্যতম দুই পরাশক্তি দেশের দুই নেতার মধ্যে ভার্চুয়াল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জলবায়ু, বাণিজ্য, করোনা মহামারী অথবা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের মতো বিরোধপূর্ণ বিষয়ে বাস্তবসম্মত কোনো নীতি প্রণয়ন করতে দেখা যায়নি, যাতে করে সংলাপের মধ্য দিয়ে দুদেশের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনা প্রশমিত হয়। এ আলোচনা গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্কের পথও স্পষ্ট করেনি।

তবে এরই মধ্যে আলোচনায় দুদেশের সাংবাদিকদের জন্য ইতিবাচক ফল মিলেছে। মঙ্গলবার জানা গেছে, দুদেশ সাংবাদিকদের ভিসাবিষয়ক বিধিনিষেধ শিথিলে সম্মত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এর ফলে দুদেশের সাংবাদিকরা আরো মুক্তভাবে দেশ দুটিতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা চায়না ডেইলি বলছে, এক বছরের বেশি সময়ের কঠিন চেষ্টায় পারস্পরিক এ সমঝোতা। এতে আবেদনের আইন ও বিধি অনুসারে দুই দেশের সরকার সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ তিন মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর করবে। সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রবেশ এবং বের হওয়ার সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছে উভয় দেশ, যা তারা আগে করতে পারত না।

যুক্তরাষ্ট্র এ অগ্রগতিকে স্বাগত জানায় উল্লেখ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে এটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।

সাংবাদিকদের ভ্রমণ ছাড়া এ পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি জানা না গেলেও দুপক্ষই প্রাপ্তির আনন্দে ভাসছে। সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত দেখা যাচ্ছে বেইজিংকে। সম্মেলনের পর চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়, ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা চাই না, বাইডেনের পুনরাবৃত্তি’। এ বিষয়ক হ্যাশট্যাগ চীনের নিয়ন্ত্রণাধীন নিজস্ব মাইক্রো ব্লগিং সাইট উইবোতে ট্রেন্ডিংয়ে পরিণত হয়, যা মুহূর্তেই ২০ কোটির বেশি ভিউ হয়। এছাড়া চীনের কমিউনিস্ট পার্টির দৃষ্টিতে, তাইওয়ানের পুনরেকত্রীকরণ; সমাধান না হওয়া প্রধান বিষয়, যা চীনের অগ্রযাত্রাকে নবজীবন দান করবে।

এ বিষয়ে চীনের প্রেসিডেন্টের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্মতি বিষয়ে বড় ধরনের অপপ্রচারের বিজয় হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউজের সভাসূত্র বলছে, বাইডেন এমন কিছুই বলেননি। এমনকি স্বাধীনতার কথাও উচ্চারণ করেননি।

হোয়াইট হাউজ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র কঠোরভাবে একত্রীকরণ প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাইওয়ানের স্ট্যাটাস বদল, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার বিপক্ষে।

বাইডেন পরবর্তী সময়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয়টি আরো পরিষ্কার করেন। বলেন, আমি বলেছি তাইওয়ানই সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা (যুক্তরাষ্ট্র ও চীন) নই। আমরা স্বাধীন হয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও উৎসাহিত করছি না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমরা তাইওয়ান অ্যাক্ট মেনে চলতে বদ্ধপরিকর। এ ব্যাপারে তাইওয়ানের নিজের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করে ওয়ান চায়না পলিসি অনুসারে চীন তাইওয়ানকে তার অংশ মনে করে। কিন্তু তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির এ দাবিকে কখনই সমর্থন করেনি ওয়াশিংটন। তবে তারা তাইওয়ান রিলেশন অ্যাক্টের আলোকে তাইপের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে আসছে।

বাইডেন-শি ভার্চুয়াল বৈঠক বিষয়ে প্রায় চার হাজার শব্দের একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বাইডেনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের স্বাধীনতা সমর্থন করে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে তাইওয়ানের স্ট্যাটাস পরিবর্তনের একতরফা প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ব্যাপারে কিছুই বলা হয়নি।

image_print