ফায়ারম্যানসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোলার চরফ্যাশনের কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী লিজাকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে ফায়ারম্যান সিয়ামসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
গত ৯ মে নিহত লিজার বড় বোন ফেরদৌস বেগম বাদী হয়ে ভোলার বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
সিয়াম লালমোহন উপজেলার ধলীগৌর নগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করিমগঞ্জ গ্রামের মো. আলাউদ্দিনের ছেলে। সে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় ফায়ারম্যান হিসেবে কর্মরত। অপর আসামীরা হলেন, সিয়ামের পিতা আলা উদ্দিন, মাতা উম্মে সালমা, মামা মঞ্জুরুল আলম, মামী সুখি বেগম।
মামলার বাদি ফেরদৌস বেগম অভিযোগ করেন, লিজা বেগম তার ছোট বোন, চরফ্যাশন ফাতেমা মতিন মলিলা কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্রী। সিয়াম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চাকুরীজীবী পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনে প্রেম, অতপর বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে লিজার সাথে ১ বছর ধরে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ছুটিতে বাড়ি এসে গত ১৯ এপ্রিল সিয়াম দেখা করতে বলেন লিজাকে। লিজা তার সাথে দেখা করলে তাকে নিয়ে তজুমদ্দিন স্লুইসগেট এলাকায় ঘুরতে যায় লিজা। সে খানে বিয়ের প্রলোভনে লিজাকে জোর পূর্বক সিয়াম ধর্ষণ করে। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের ধরে ফেলে, তখন সিয়াম নিজের স্ত্রী দাবী করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। রাতেই থানায় মুচলেকা দিয়ে সিয়ামের মামা মঞ্জুরুল আলম সিয়াম ও লিজাকে থানা থেকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়িতে নিয়ে অপর আসামীদের প্রতক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় একই তাদের রুমে রাত যাপন করতে দেন। ওই সময়ে সিয়াম বিয়ের আশ্বাসে একাধিক বার ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে লিজা বিয়ের দাবী করলে সিয়াম তাকে হত্যাসহ বিভিন্ন ভয় দেখায় এবং বাড়ি চলে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে।এরপর লিজাকে নিজ বাড়ি যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে ব্যর্থ হয়ে ২১ এপ্রিল সকাল ৭.৪৮ ঘটিকার সময়ে ১-৫নং আসামীগণ পরস্পর যোগসাজশে অজ্ঞাতনামা আসামীদের সহযোগিতায় লিজাকে হত্যা করে তার লাশ ঘরের আড়ার সাথে ওড়না দিয়ে ঝুলাইয়া রেখে আত্মহত্যা করেছে মর্মে মিথ্যা ঘটনা সাজাইয়া প্ৰকৃতঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালায়। দাফনের পূর্বে গোসলের সময় লিজার পিঠে এবং সিনায় ও রানে একাধিক জখম দেখিতে পাওয়া যায়। তজুমদ্দিন থানা পুলিশ ২১ এপ্রিল লাশ উদ্ধার করে ৫ জনকে আসামীকরে একটি আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা রুজু করেন এবং মামলায় সিয়াম, সিয়ামের মামা মঞ্জুরুল আলম, মামী সুখি বেগমকে গ্রেফতার করেন। অপর আসামীরা পলাতক রয়েছে।
পরবর্তীতে গত ৯ মে ভিকটিমের বড় বোন ফেরদৌস বাদী হয়ে ভোলার বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে একটি ধর্ষন ও হত্যা মামলা দায়ের করেন।  বিজ্ঞ আদালত সন্তূষ্ট হয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে মামলাটি এফ আই আর হিসাবে রুজু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশ পেয়ে থানা পুলিশ গত ১৫ মে মামলাটি এফ আই আর হিসেবে রুজু করেন এবং গ্রেফতার কৃত আসামী সিয়াম ও তার মামা মঞ্জুর আলমের ৫ দিনের রিমান্ড দাবী করেন। আদালত ২৬ মে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এই বিভাগের আরো খবর