Home ধর্ম আজ পবিত্র শব-ই-বরাত

আজ পবিত্র শব-ই-বরাত

43
0
SHARE

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ সোমবার দিবাগত রাতে পবিত্র শব-ই-বরাত। মুসলমানদের জন্য এটি সৌভাগ্যের রজনী। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ আদায়, কোরান তিলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ, মিলাদ মাহফিল, দোয়া মোনাজাতসহ এবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে এই রাতটি অতিবাহিত করবেন।

মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের নিজের এবং নিজের পরিবারসহ আত্মীয় স্বজন এবং মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করবেন। তবে করোনা পরিস্থিতিতে মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের উপস্থিতি কিছুটা কম হতে পারে। করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদগুলোতে শব-ই-বরাত পালন করতে মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ।

পবিত্র শব-ই-বরাত উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারী টিভি চ্যানেল ও রেডিও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। এ ছাড়া দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হবে। শব-ই-বরাতের পরদিন অর্থাৎ আগামীকাল মঙ্গলবার সরকারী ছুটি। তবে সংবাদপত্রে আজ সোমবার ছুটি থাকায় আগামীকাল মঙ্গলবার পত্রিকা প্রকাশিত হবে না।

পবিত্র শব-ই-বরাত এর রজনীতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মুসলমানরা কোরান তিলাওয়াত, নফল নামাজ ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে মসজিদে সারা রাত চলবে নফল নামাজ, পবিত্র কোরান তেলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল, জিকিরসহ অন্যান্য এবাদত-বন্দেগি ও মোনাজাত।

পবিত্র শব-ই-বরাত উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষদের মধ্যে অনেকেই নফল রোজাও পালন করেন। সারারাত এবাদত- বন্দেগি, জিকির ও দোয়াকালাম পাঠ ছাড়াও এই পবিত্র রাতে মুসলমানরা মৃত বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনসহ প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করে থাকে। তাই এ রাতে কবরস্থানগুলোতেও মুসল্লিদের উপচেপড়া ভিড় হয়। এ ছাড়া সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার মাজারগুলোতেও মুসল্লিদের ভিড় থাকে।

রেওয়াজ অনুসারে শব-ই-বরাত উপলক্ষে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের ঘরে ঘরে ভাল-ভাল খাবার-দাবার রান্না করা হয়। বিভিন্ন ধরনের হালুয়া, মিষ্টান্ন রুটি ও মাংসসহ নিজ নিজ সাধ্যমতো বিভিন্ন ধরনের সুস্বাধু খাবারের আয়োজন করে। নিজেরা খাওয়া ছাড়াও আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে এসব খাবার বিতরণ করা হয়। দরিদ্রদের মাঝেও এসব খাবার পরিবেশন করা হয়। এ ছাড়া এই দিনে অনেকেই দরিদ্রদের অর্থ দান করে থাকেন। এতে সামাজিক হৃদ্যতা ও সৌহার্দ্যরে সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই দিনে সারাদেশে ঈদের দিনের মতোই উৎসবমুখর পরিবেশের অবতারণা হয়। পবিত্র শব-ই-বরাত পালনের মধ্য দিয়ে সমাজে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও ধনী-গরিব বৈষম্য কিছুটা কমে আসে।

মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতিতে মসজিদে মসজিদে এশার নামাজের পর থেকেই দফায় দফায় ওয়াজ মাহফিল, জিকির ও মিলাদের পর বাদ ফজর নিজের এবং স্বজনদের পাশাপাশি দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহর রহমত কামনায় মোনাজাতের মধ্য দিয়ে পবিত্র লাইলাতুল বরাতের সমাপ্তি হবে।পবিত্র শব-ই-বরাত উদ্যাপন উপলক্ষে আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় (বাদ মাগরিব) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ওয়াজ মাহফিল শেষে বাদ এশা দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। ওয়াজ, দোয়া ও মোনাজাত করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা শায়লা শারমীন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে পবিত্র শব-ই-বরাত সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য অন্যান্য বছরের মতো এবারও ঢাকা মহানগরীতে আতশবাজি, পটকা ফোটানো এবং যেকোন ধরনের বিস্ফোরকদ্রব্য বহন নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

হিজরী শাবান মাসের পরেই আসে পবিত্র মাহে রমজান। তাই মুসলমানদের কাছে শব-ই-বরাত রমজান মাসের আগমনী বার্তা বয়ে আনে। মুসলমানরা হিজরী বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে শব-ই-বরাত অর্থাৎ সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করে থাকেন। মহিমান্বিত এ রাতে মহান রাব্বুল আলামিন তার বান্দাদের ভাগ্য নির্ধারণ করেন। ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ শব্দের অর্থ সৌভাগ্য। আরবি ‘লাইলতুল বরাত’ মানে সৌভাগ্যের রাত। এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পরম করুণাময়ের অনুগ্রহ লাভের আশায় বেশি বেশি নফল নামাজ আদায়, কোরান তেলাওয়াত ও জিকিরে মগ্ন থাকেন। অনেকে রোজা রাখেন, দান-খয়রাত করেন। মুসল্লিরা রাতভর এবাদত-বন্দেগির পর অতীতের গুনাহের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করেন । এভাবে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় পবিত্র শব-ই-বরাত উপলক্ষে ইবাদতের মাধ্যমে মানুষ পাপের বোঝা কমিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন।

পবিত্র শব-ই-বরাত উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা দেশবাসী ও মুসলিম উম্মার সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

হযরত আবু উমামা বাহেলি (রা) থেকে বর্ণিত আছে, যখন শাবান মাস আগমন করত তখন রাসূল (স) বলতেন, এ মাসে তোমরা তোমাদের অন্তর্জগৎকে পূতপবিত্র করে নাও এবং নিয়তকে পরিশুদ্ধ ও সঠিক করে নাও। (তাবরানি)। কিন্তু অন্তরকে পূতপবিত্র করার অর্থ কি? এর অর্থ হলো, বেশি বেশি নেক আমল করা ও তওবা- ইস্তেগফার করা। যখন শাবান মাস আসত, রাসূল (স) নফল আমলের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতেন। দিনে রোজা রাখতেন এবং রাতে দীর্ঘ সময় নামাজ পড়তেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, যখন শাবানের মধ্য দিবস আসে, তখন তোমরা রাতে নফল ইবাদত করো ও দিনে রোজা পালন করো। (সুনানে ইবনে মাজাহ)।

শব-ই-বরাত এ মুসলমানদের বিশেষ কয়েকটি আমলের কথা বেশি বলা হয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে বেশি বেশি করে কোরান তিলাওয়াত করা, জিকির-আজকার করা, দীর্ঘসময় নিয়ে নফল নামাজ পড়া, সালাতুত তাসবীহ পড়া, বেশি বেশি ইস্তেগফার করা, অধিকপরিমাণে চোখের পানি ঝরিয়ে নিজের জন্য, একাকী কবর জিয়ারত করা, সকল মুসলমানের জন্য এবং মৃত আত্মীয়-স্বজনের জন্য দোয়া করা এবং শব-ই-বরাতের পরের দিন রোজা রাখা।