পৃথিবীর ইতিহাসে সকল বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতাকে হার মানিয়েছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ – সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে সকল বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতাকে হার মানিয়েছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার জন্য এত রক্ত পৃথিবীতে এর আগে কেউ দেয়নি। দেশের আনাচে-কানাচে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। বাবার সামনে ছেলেকে, ছেলের সামনে বাবাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। রক্তের হোলি খেলা চলেছে। দুই লাখ মা-বোনের সম্মানহানি করা হয়েছে। আর এর সবই বৃথা যেত যদি দেশ স্বাধীন না হতো। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর নেতৃত্বে বাঙালি জাতির হাজার বছরের এ কাঙ্ক্ষিত
স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আজ শনিবার রাজধানীর বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ
মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর সহযোগিতায় গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত 'বাংলাদেশ গণহত্যা স্মরণ ও মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১: বহুমাত্রিকতার খোঁজে' শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
কে এম খালিদ বলেন, কেউ কেউ মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক করেন, প্রশ্ন তোলেন। আমি মনে করি, শহিদের সংখ্যা নিয়ে এ সংখ্যাতাত্ত্বিক বিতর্ক তাঁদের প্রতি অবমাননার শামিল। সংস্কৃতি তিনি বলেন, গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র কর্তৃক পরিচালিত জরিপে ইতোমধ্যে চিহ্নিত বধ্যভূমির সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। এ জরিপ সম্পন্ন হলে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়াবে। ১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি মুনতাসীর মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. সজল নাগ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন ট্রাস্টের সদস্য এবং জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি তারিক সুজাত। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সম্মেলনে ভারত থেকে আগত অতিথি কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সম্মেলনে বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর সদস্য, বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও লেখকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

এই বিভাগের আরো খবর