Home খেলার খবর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের গৌরবময় টেস্ট জয়

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের গৌরবময় টেস্ট জয়

25
0
SHARE

 

অন্ধকার ঠেলে আলোর পথে টাইগাররা

ক্রীড়া ডেস্ক ॥ আঁধার কেটে আলোর আগমন ঘটবেই। আলোকের বিচ্ছুরণ চোখ ঝলসে বিকিরণ করে সৌন্দর্য। বৈশি^ক মহামারী করোনার হানায় বিপর্যস্ত একটি বছর কাটিয়ে অবশেষে সুন্দর, ঝলমলে আলোর দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। টেস্ট ক্রিকেটের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে পর্যুদস্ত করে মাউন্ট মঙ্গানুই জয় করেছে। দেশ থেকে ১১ হাজার ২৬৪ কিলোমিটার দূরত্বে তাসমান সাগরের পাড়ে আলোর ঝলকানিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। অবিশ্বাস্য, অসম্ভব, কল্পনার চেয়ে এবং ছবির চেয়ে সুন্দর এক বিজয়গাথা এঁকেছেন মুমিনুল হকরা। অনেক আগে মরে যাওয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট ৭৫৫ ফুট উঁচু পর্বতটা জয় করেই বিশ্বের উচ্চতম মাউন্ট এভারেস্টের শৃঙ্গে উঠে গেছে টাইগাররা। কারণ এটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম জয়

 

 

বাংলাদেশের। আগে কখনও নিউজিল্যান্ডে গিয়ে কোন ফরমেটে জিততে না পারা দলটি নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে দেশের বাইরে সবচেয়ে আকর্ষণীয়, সবচেয়ে বড় জয় ছিনিয়ে এনেছে। আগের দিনই বিজয় ডঙ্কা বাজাতে শুরু করেন ডানহাতি পেসার এবাদত হোসেন চৌধুরী। তার শিকার করা ৬ উইকেটে কিউইরা দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৬৯ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর মাত্র ৪০ রানের টার্গেট ২ উইকেট খুঁইয়ে পেরিয়ে যায়।

 

বিজয়ের মঞ্চটা প্রস্তুত হয় মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের চতুর্থ দিন শেষেই। ১৩০ রানের লিড পাওয়া বাংলাদেশকে জবাব দিতে নেমে এবাদতের গতির কাছে অসহায় নিউজিল্যান্ড ১৪৭ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে। এর ৪টিই তুলে নেন দুর্দম্য এবাদত। অন্য কিউই ব্যাটাররা কাঁপতে থাকলেও ব্যতিক্রম ছিলেন অভিজ্ঞ রস টেইলর যার কিনা বাংলাদেশের বিপক্ষে রেকর্ডটা খুবই সমৃদ্ধ। এবাদতের ত্রাসোদ্দীপক আগুনে-বোলিংয়ের সামনে তিনি ৩৭ রানে তখনও অপরাজেয়। তাই কিউইরা ১৭ রানে এগিয়ে থাকায় জয় পাওয়ার স্বপ্নটায় রঙের তুলি দিতে পারেনি বাংলাদেশ দল। কিন্তু পঞ্চম দিন সকালে যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই শুরু করলেন আবার এবাদত। তার সামনে মাথানত করলেন টেইলর। দিনের অষ্টম বলেই তাকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরত পাঠালেন। চিরাচরিত নিয়মে অন্যদের মতোই ৪০ রান করা টেইলরকেও স্যালুট জানিয়ে বিদায়টা জানালেন এবাদত। ক্যারিয়ারে প্রথমবার এবং ৯ বছর পর কোন বাংলাদেশী পেসার হিসেবে দেশের বাইরে ৫ উইকেট শিকার হয়ে গেছে। ততক্ষণে কিউই তাঁবুতে ভর করেছে দুঃস্বপ্ন যেখানে প্রেতাত্মার মতো বিভীষিকা হয়ে দুর্বিষহ ছিলেন এবাদত। তাই কাইল জেমিসনও ফিরে গেলেন শূন্যতে। বিপর্যস্ত কিউইদের হয়ে আর লড়তেই পারেনি কেউ। তাসকিন আহমেদের গতির কাছে নতি স্বীকার করেছেন রাচিন রবীন্দ্র (১৬) ও টিম সাউদি (০)। পরে মেহেদি হাসান মিরাজ কিউইদের দুঃসহ যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়েছেন ট্রেন্ট বোল্টকে (৮) তুলে নিয়ে। ইনজুরিতে পড়া মাহমুদুল হাসান জয়ের বদলি ফিল্ডার হিসেবে নেমে তাইজুল ইসলাম দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন

image_print