Home জাতীয় নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত করা হচ্ছে-এনামুল হক শামীম

নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত করা হচ্ছে-এনামুল হক শামীম

36
0
SHARE

নিজস্ব প্রতিবেদক।।পানি সম্পদ উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম বলেছেন; সারাদেশের নদী ভাঙ্গন রোধে দ্রুত কাজ করছে সরকার। এজন্য নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত করা হচ্ছে। যাতে দেশের নদনদী নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া যায়।দেশের ২২টি জেলায় ভাঙনের ঝুঁকিপূর্ণ ৫৪টি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় যেহেতু স্থায়ী প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের মানুষ অনেকাংশে জলাবদ্ধতার হাত থেকে, নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে। যার সুফল কয়েক বছরের মধ্যে মিলবে।

 

আজ ফরিদপুর নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিদর্শন এবং কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ভৌগোলিকভাবে ভাটির দেশ বাংলাদেশে বন্যা ও নদী ভাঙনের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে উপ-মন্ত্রী শামীম বলেন, এই বন্যা অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উপর নির্ভর করে না। এটা ভারতের আসাম, জলপাইগুড়ি, নেপাল ও চীনের অঞ্চলগুলোর উপর নির্ভর করে। তাই সারাদেশে তীব্র নদী ভাঙন কবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

এনামুল হক শামীম বলেন, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কারণেই গত ১৩ বছরে সারাদেশে নদীভাঙনের পরিমাণ সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর থেকে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টরে চলে আসছে। হাওড় অঞ্চলেও ভাঙন রোধে কাজ করা হয়েছে। একারণে সেখানকার কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পেরেছে। দুর্নীতি যাতে না হয় এবং কাজের ক্ষেত্রে যাতে গুণগত মান বজায় থাকে, সেজন্য নিয়মিত মনিটরিং করা হয়। কাজের ব্যাপারে কোন প্রকার গাফিলতি, অনিয়ম ও দূর্নীতি সহ্য করা হবে না।

 

এছাড়াও উপমন্ত্রী সারা দেশের নদী ভাঙ্গন প্রবণ এলাকার কাজের উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। উপকূল অঞ্চলে প্রতিটি বাঁধ প্রশস্ত ও উঁচু করা হচ্ছে, বনায়ণ করা হচ্ছে এবং যেসব স্থায়ী প্রকল্প নিচ্ছেন, তাতে নদী খনন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জনবলও বাড়ানো হয়েছে।

 

এনামুল হক শামীম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী প্রজন্ম নিয়ে ভাবেন, সেজন্য তিনি আগামীর বাসযোগ্য বিশ্বমানের সুবিধা সম্বলিত বাংলাদেশ গড়তে চান। তিনি দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন। তিনি ডেল্টাপ্লান-২১০০ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। আর এই মহাপরিকল্পনার সিংহভাগ কাজই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে। এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সারাদেশে নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার কোনো সমস্যাই থাকবে না। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

 

এসময় নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোঃ আলিমউদ্দিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হেকিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম, ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা, শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপ কমিটির সদস্য জহির সিকদার সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

image_print