Home ভোলা চরফ্যাশন চরফ্যাসনে সৌদি প্রবাসীর বধূ কুপিয়ে জখম করেছে তিনজনকে

চরফ্যাসনে সৌদি প্রবাসীর বধূ কুপিয়ে জখম করেছে তিনজনকে

80
0
SHARE
চরফ্যাসন প্রতিনিধি: ভোলার চরফ্যাসনের আসলামপুর ২ নং ওয়ার্ডের হারুন (৪০), মাকছুদ (৪০)  মহিউদ্দিন (৩৫) নামের তিন ব্যক্তিকে সোমবার সন্ধ্যায় কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে হারুন এর অবস্থা আশঙ্কাজনক। সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আহত হারুনের ভাই জাফর অভিযোগ করেন জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একই এলাকার প্রবাসী নুুুরে আলম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী সেলিনা বেগম বাড়ির সামনের রাস্তায় ধারালো ছুরি ও দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় জাফর বাদী হয়ে চরফ্যাশন থানার তিন জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চরফ্যাশন থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিদ্দিকুর রহমান  প্রবাসী নুর আলম ও তার স্ত্রী সেলিনা বেগম কে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক সেলিনা বেগম কে জামিনে মুক্তি দেন এবং তার স্বামীর নুরে আলমের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
আহত মাকছুদ অভিযোগ করেন, সৌদি প্রবাসী নুরে আলম ও তার বোন এক বাড়িতে বসবাসরত বিবি হনুফার সাথে বিরোধ দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি বিবি হনুফা তার ভাই নুর আলমের সাথে সুষ্ঠু মীমাংসা উদ্দেশ্যে আমাদেরকে সালিস করার ভার দেয়। এ বিষয়ে নুর আলম কে সালিসে বসতে বললে, সে সালিশে বসতে অস্বীকৃতি জানায় এবং যারা তার সালিস মীমাংসা করবে তাদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।  সোমবার সন্ধ্যায় জনতা বাজারে যাওয়ার পথে নুরে আলম ও তার স্ত্রী সেলিনা ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে।
 নুরে আলমের বোন বিবি হানুফা জানান, আমার ভাই সৌদি প্রবাসী নুর আলমের সাথে তার প্রথম স্ত্রীর বিবাদ ও পরবর্তীতে তালাকের জের ধরে আমার মেয়ে তাসলিমার সংসার ভেঙে যায়। তার (নুরে আলম) প্রথম স্ত্রীর সাথে বিবাদে জড়িয়ে আমার কাছ থেকে আমার প্রবাসী ভাই নুরে আলম টাকা ধার নেয় পরবর্তীতে বাংলাদেশে এসে দ্বিতীয় বিয়ে করে এবং আমার পাওনা টাকা দিতে গড়িমসি করে। উল্টো তার দ্বিতীয় বউ সেলিনা আমাকে ও আমার মেয়েকে হুমকি দেয় ও কথায় কথায় মারতে আসে। সম্প্রতি তাবলীগ জামাতের এক মহিলা আমার বাসায় এসে কিছু চাল রেখে যায়। এ নিয়ে নুরে আলম ও তার স্ত্রী সেলিনা তাদের তাবিজ কবজ করতে ওই মহিলাকে আনা হয়েছে বলে ধারালো দা নিয়ে হামলার চেষ্টা করে। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। এবিষয় স্থানীয়রা জানতে চাওয়ায় নুরে আলম ও সেলিনা তাদের উপর হামলা করে। এছাড়া নুরে আলমের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন সহ বিভিন্ন মামলায় এর আগে অভিযুক্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন। এছাড়া নুরে আলম ও সেলিনা বেগম বিভিন্ন জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন।
এ বিষয়ে নুরে আলমের স্ত্রী সেলিনা বেগম তার ননদ হনুফার সাথে দীর্ঘ দিনের বিরোধের কথা স্বীকার করে বলেন, স্বামী নুরে আলম তার বোন ও ভাগ্নিদের সংসার খরচ চালানোর পরও তাদের নামে এলাকায় বিচার দেয়। এছাড়া এক মহিলা এনে তাবিজ কবজ করে। এ নিয়ে মার পিঠের ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় স্বামী নুরে আলমকে চিকিৎসা দিতে চরফ্যাসন নেয়ার পথে তাদের উপর হামলা করে মাকসুদ, হারূন তখন আত্মরক্ষার্থে নিজের ব্যাগে থাকা ছুরি দিয়ে তাদের কুপিয়ে জখম করি। পরে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হলে পাশ্ববর্তী এক বাড়িতে আশ্রয় নেই। খবর পেয়ে থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নেয়।
এদিকে সেলিনা বেগমের অভিযোগের বরাত দিয়ে ৭ এপ্রিল বুধবার কয়েকটি গনমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছে  স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য এসআই ছিদ্দিক শেলিনা বেগমকে থানার একটি  কক্ষে নিয়ে চোখ-বেঁধে মারধর করেন এবং তার সাথে থাকা নগদ টাকা রেখে দেন।
এ প্রসঙ্গে  চরফ্যাসন থানার উপ-পরিদর্শক ছিদ্দিকুর রহমান বলেন- এসব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যমূলক। তাকে দুইজন মহিলা পুলিশের উপস্থিতিতে তার নাম ঠিকানা ঠিক আছে কিনা যাচাই করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করি। সে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে তার আইনজীবী সহকারীর উপস্থিতিতে ব্যাগ, নগদ টাকা, মোবাইলসহ সকল সামগ্রী নিয়ে নেন। মামলা থেকে রেহাই পেতে কারো প্ররোচনায় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে আমার সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে।