দেশকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলেছে আওয়ামী লীগ: মির্জা ফখরুল

বিশেষ প্রতিনিধি:
আওয়ামী লীগ দেশকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলেছে বলে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, বাংলাদেশ শুধু ফ্যাসিস্টের কবলে পড়েনি, বাংলাদেশ এখন বর্ণবাদীদের কবলে পড়েছে। দেশটাকে তারা দুটো ভাগে ভাগ করে ফেলেছে। একটা ভাগ হচ্ছে আওয়ামী লীগ, আরেক ভাগ হচ্ছে বিরোধী দল।’

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও দলের স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, ফজলুর রহমান। সভা পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী। এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের বিরুদ্ধে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ ও ‘গোষ্ঠীতন্ত্রের’ অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সাম্প্রদায়িকতা এমন পর্যায়ে গেছে যে যাঁরা বিএনপি করেন, তাঁদের ঘরবাড়ি পর্যন্ত দখল করে নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের জমি দখল করে নেওয়া হচ্ছে, ব্যবসা দখল করে নেওয়া হচ্ছে, তাঁদের ছেলেমেয়েদের চাকরির কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি দূরসম্পর্কের আত্মীয় যাঁরা আছেন, তাঁদেরও চিহ্নিত করে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটা ‘বর্ণবাদ’ ছাড়া কিছু নয়। এই অবস্থা তৈরি করে তারা নিজেরাই ‘সাম্প্রদায়িক’ অবস্থা তৈরি করছে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আওয়ামী লীগীকরণ ছাড়া এবং তাদের নিজস্ব লোকজন ছাড়া তারা কাউকে কোথাও দাঁড়াতে দেয়নি। সব কটা প্রতিষ্ঠান তারা দলীয়করণ করে ধ্বংস করেছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব স্বাধীনতা দিবসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের একটি বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, তারা আবার দাবি করে গতকাল বলেছে, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে তাদের নাকি এই জিহাদ অব্যাহত থাকবে। যারা সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে, যারা নিজেরা গোষ্ঠী তৈরি করছে, বর্ণবাদ তৈরি করছে, তাদের মুখ এ কথা শোভা পায় না।

দুর্নীতি, দুঃশাসনে দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা চরম দুরবস্থায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় স্বেচ্ছাচারিতা, বিভিন্ন রকম অসামাজিক কার্যকলাপ ছাড়া আর কিছু হচ্ছে না। সেখানে নিয়োগ হচ্ছে দলীয়করণের মাধ্যমে। যাঁদের যোগ্যতা নেই, তাঁদের ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি প্রাইমারি স্কুলেও এখন দলীয় ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই এলাহীর একটি বক্তব্যের উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উপদেষ্টা বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার লুট হয়ে গেছে। আমার প্রশ্ন, এখন পর্যন্ত বসে আছেন কেন? পদত্যাগ করেন না কেন? কারা এর জন্য দায়ী? কারা আজকের এ অবস্থা তৈরি করেছে? কারা পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরি করে বিনা উৎপাদনে লুটের সাম্রাজ্য তৈরি করেছে?’

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, সব প্রতিষ্ঠানে লুটেরাদের দায়িত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো হয়েছে, যাতে লুটপাট ভালোভাবে করা যায়।

 

এই বিভাগের আরো খবর