রাজনীতি

দুই দলের শর্ত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সংলাপের পথ

বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজনৈতিক সংকট নিরসনে একমাত্র ভরসা আলোচনা কিংবা সংলাপ। মার্কিন প্রাক-নির্বাচনী প্রতিনিধি দলের পাঁচ দফা সুপারিশেও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমান সৃষ্ট সংকট সমাধানে যৌক্তিক সংলাপ। তবে সংলাপ নিয়ে রাজনীতির ভাগ্যাকাশে জমে থাকা কালো মেঘ কাটছেই না। নিজ নিজ শর্তে অনড় প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে এই স্বল্পতম সময়ে আদৌ কী একটা সফল সংলাপ সম্ভব? কিংবা সংলাপের সম্ভাবনাইবা কতটুকু? এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় বইছে।

তবে দুই দলের আলোচনার এজেন্ডা নির্ধারণ অথবা শর্ত জুড়ে দেওয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সংলাপের পথে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের তরফে বলা হয়েছে সংবিধানের মধ্য থেকে শর্তহীন সংলাপের দরজা উন্মুক্ত। তবে বিএনপিসহ তাদের সমমনারা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকায় সংকট সমাধানে সংলাপ আদৌ সম্ভব হবে কিনা- এ ব্যাপারে সন্দেহ-সংশয় থেকেই গেছে।

সংলাপের অতীত অভিজ্ঞতায় খুব আশাবাদী না হতে পারলেও রাজনৈতিক অভিজ্ঞ বলছেন, বড় দলগুলো যতই এখন অনড় অবস্থানে থাকুক, নির্বাচনের আগে সংলাপের রাস্তা একটা না একটা অবশ্যই বের হবে। এই সংলাপের মধ্য দিয়ে দুই পক্ষ তাদের অমননীয় অবস্থান থেকে সরে আসবে। তবে বড় দুই রাজনৈতিক দলের দুই মেরুতে অবস্থান দেশের জন্য শুভ নয়। সংলাপ বা আলোচনার মাধ্যমেই রাজনৈতিক দলসহ দেশবাসীর মধ্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা তৈরি হবে। তাদের চাওয়া একটাই, সংলাপ বা সমঝোতা যেটাই হোক তার মধ্যদিয়ে দেশে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।

মার্কিন প্রতিনিধিদের সুপারিশের পর গত দু’দিন ধরে রাজনীতির মাঠে সংলাপের হাওয়া জোরেশোরেই বইছে। সংলাপের এই হাওয়াই ঘুরে ফিরেই সামনে চলে আসছে যে, নির্বাচনের তিন মাসও সময় নেই। শুধু মার্কিন প্রতিনিধি দলই নয়, আন্তর্জাতিক মহলও জোর দিচ্ছে সংলাপে। দেশের নাগরিক সমাজও সংলাপ বা সমঝোতার পক্ষেই মতো দিয়েছেন।

সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও চলমান সংকট সমাধানে সংলাপকেই কার্যকর উপায় বলে মনে করছে। দলটির নেতারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন প্রাক-পর্যবেক্ষক দল যে সুপারিশ করেছে তা যথার্থ। সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব। এ বিষয়ে পার্টি মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, ‘আমরা সংলাপের আহ্বান আগেই জানিয়েছি। মার্কিন প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল বলার আগেই আমাদের পার্টি চেয়ারম্যান (জিএম কাদের) সরকারের কাছে আহ্বান করেছেন সংলাপের জন্য। সংলাপে বসলে আশা করা যায় সমাধান বেরিয়ে আসবে।’

সংলাপ ইস্যুতে আওয়ামী লীগের এতদিনের অবস্থান ছিল বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়। এই সংলাপ না হওয়ার কারণই তারা একাধিকার ব্যাখ্যা করেছে। এবার ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলটি তাদের কঠোর এই অবস্থান থেকে সরে এসে সংলাপ প্রশ্নে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন দলটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সংলাপ বসতে হলে সেটি অবশ্যই হতে হবে শর্তহীন। শর্তযুক্ত কোনো সংলাপে বসবে না আওয়ামী লীগ।

সংলাপ প্রশ্নে সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বিএনপির নাম উল্লেখ করে বলেছেন, ‘শর্ত দিয়ে কখনো সংলাপ হতে পারে না। আর বন্ধুরাষ্ট্রের যে কেউ যেকোনো পরামর্শ দিতে পারে। সেই পরামর্শ গ্রহণ করব, কি করব না, সেটি আমাদের এখতিয়ার। বিএনপির দাবি- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্তি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার করতে হবে। এ সব শর্ত দিয়ে কখনো সংলাপ হতে পারে না।’

এ প্রসঙ্গে আগের দিন রবিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি চায় প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচন কমিশন বাতিল করা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করা। সংলাপের চিন্তা করব তখন, যখন তারা তাদের এসব শর্ত প্রত্যাহার করে নেবে। শর্তযুক্ত কোনো সংলাপের ব্যাপারে আমাদের কোনো চিন্তাভাবনা নেই। শর্ত তারা প্রত্যাহার করলে তখন দেখা যাবে।’

একই দিনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও সংবাদিকদের সঙ্গে মার্কিন দলের সংলাপের সুপারিশ নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে সংবিধান বা প্রচলিত আইনে যা আছে, তার বাইরে কোনো সংলাপ হতে পারে না। সংলাপ করতে হলে বাস্তব বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

অন্যদিকে, রাজপথে আন্দোলনরত প্রধান বিরোধী দল বিএনপি দৃশ্যত এখন পর্যন্ত তাদের আগের কঠোর অবস্থানেই অনড় রয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংলাপ ইস্যুতে জানিয়েছেন, ‘আমরা বরাবরই বলেছি, নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আমরা আলোচনার পক্ষে। তবে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারসহ কয়েকটি এজেন্ডা ছাড়া আলোচনা অর্থবহ হবে না।’

তবে সংবিধানের আলোকে নির্বাচনে পূর্ণ প্রস্তুত থাকা আওয়ামী লীগ ও রাজপথে আন্দোলনে থাকা বিএনপির অনড় অবস্থানের মধ্যে কার্যকর সংলাপের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে যেভাবেই হোক দুই দলকে সংলাপের টেবিলে দেখতে চান তারা। অবশ্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, দুটি পক্ষই এই মুহূর্তে নিজ নিজ অবস্থানের সমর্থনে শক্তি দেখিয়ে জিততে চাইছে। ফলে সংঘাতের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

এবার সংলাপের কারণ ॥ ঢাকা সফর করে যাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশের সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে অর্থবহ সংলাপসহ পাঁচ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। গত ৭ থেকে ১২ অক্টোবর ঢাকা সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে তারা এক বিবৃতিতে মোট পাঁচটি সুপারিশ তুলে ধরেন। ১৪ অক্টোবর ওয়াশিংটন থেকে প্রচারিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রথমেই বলা হয়, সংলাপের কথা। প্রতিনিধি দল মনে করে- নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে পারে উদার কথাবার্তা, উন্মুক্ত এবং গঠনমূলক সংলাপ।

এরপরই সংলাপ নিয়ে রাজনীতির ভেতরে বাইরে আলোচনা শুরু হয়। কথা বলেন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা। অবশ্য চলতি সপ্তাহে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিবের রুদ্ধদ্বার এক বৈঠক হয়েছে। যেখানে আগামী নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান আবারও তিনি পরিষ্কার করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। অবশ্য এমন বৈঠকের কথা বিএনপির তরফে অস্বীকার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে, ২০১৪ সালে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর মধ্যস্থতায় যেভাবে সংলাপ হয়েছিল, এবারও তেমন সংলাপ করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এর আগে অবশ্য গত জুনে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা আমির হোসেন আমুর বক্তব্যে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সরকার সংলাপে রাজি এমন কথা উঠে এসেছিল। অবশ্য এমন বক্তব্য দিয়ে কিছুটা তোপের মুখে পড়েছিলেন বর্ষীয়ান এই নেতা।

সংলাপ নিয়ে আলোচনায় এক এগারোর সময় মো. আব্দুল জলিল ও মান্নান ভূঁইয়ার সংলাপও ঠাঁই পাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সেই সংলাপও আলোর মুখ দেখেনি। তাই সংলাপে ভরসা পাচ্ছেন না কোনো পক্ষ।

কী বলছে বিএনপি ॥ বিএনপি নেতারা অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলছেন, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার অনুমতি দিয়ে বিদেশে পাঠানোর সুযোগ তৈরির মাধ্যমে সংলাপ শুরু হতে পারে। কূটনীতিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে নেতারা এমন মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তবে তাদের আশঙ্কা, ২০১৪ ও ’১৮ সালের সংলাপের মতো তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্যে পড়া নিয়ে। যে কারণে সংলাপের বিষয়ে ‘সতর্কভাবে’ তারা পা ফেলতে চায় বিএনপি। যাতে করে সরকারের কৌশলের কাছে হেরে যেতে না হয় তাদের।

সংলাপের বিষয়ে বিএনপির কোনো কোনো নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গত নির্বাচনের আগে গণভবনে সংলাপের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন। তারা বলছেন, ওই সময় অনেক ভালো ভালো কথা বলেছে সরকারি দল, কিন্তু একটা প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেনি। বরং ভোটের মাঠে প্রার্থীদের দাঁড়াতেই দেওয়া হয়নি। দলটির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও বলছেন, আন্তর্জাতিক মহলের চাপ এড়াতে সরকার সংলাপে জোর দিতে পারে। কিন্তু এজেন্ডা ঠিক করে, তার বাস্তবায়ন কীভাবে হবে সেসব চূড়ান্ত না করে সংলাপ হলে কোনো সুফল আসবে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ঘোষণা না দিলে বর্তমান সরকারের সঙ্গে কোনো সংলাপে আমরা যাব না। আমরা এখনো এই পুরনো অবস্থানেই রয়েছি।’

বিএনপির নীতিনির্ধারক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংলাপের আলোচনা চললেও মাঠ ছাড়বে না বিএনপি। গত দুই নির্বাচনের আগে লম্বা সময় ধরে কঠোর কর্মসূচি দিলেও এবার অল্প সময় নিতে চায় দলটি। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহকে সেজন্য বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত রাজপথে শক্ত অবস্থান নেওয়া গেলে আন্তর্জাতিক মহল আরও সক্রিয় হবে। সরকারের প্রতি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের চাপ বাড়বে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেছেন, ‘বিএনপি সংলাপের বিরোধিতা কখনো করেনি। কিন্তু সেটা অর্থবহ সংলাপ হতে হবে। অতীতের মতো ধোঁকা দেওয়ার চিন্তা করলে তা সফল হবে না।’

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেছেন, আওয়ামী লীগ একতরফা নির্বাচন করে ফেললে ১৭ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি অস্তিত্বের সংকটে পড়বে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই সরকারের অধীনে কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার অবস্থানে অটল থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সে জন্য অক্টোবরের শেষেই ঢাকামুখী লংমার্চ বা অবরোধের মতো কর্মসূচি নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

আওয়ামী লীগ কী ভাবছে ॥ সংলাপ প্রশ্নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তত্ত্বাবধায়কের চিন্তা মাথা থেকে বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একইসঙ্গে বিএনপির সঙ্গে আপোস বা সমঝোতা করবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন। শুক্রবার এমন বক্তব্য দিলেও অবশ্য রবিবার কিছুটা সুর নরম করে তিনি জানান, বিএনপি শর্ত প্রত্যাহার করলে সংলাপের ব্যাপারে তারা চিন্তাভাবনা করবে। মার্কিন প্রাক-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলের সুপারিশ নিয়ে কোনো আপত্তি নেই বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতারা মনে করছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বড়জোর এক মাস বাকি আছে। এ পর্যায়ে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া, আয়োজন করা এবং এ থেকে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো রাজনৈতিক বাস্তবতা দেশে নেই। বরং সংলাপের চেষ্টা হলে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আওয়ামী লীগের যে দৃঢ় মনোভাব ও চেষ্টা, তা কিছুটা গতি হারাতে পারে। ফলে এখন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংলাপের আয়োজন করার সম্ভাবনা ক্ষীণ। নির্বাচন নিয়ে সংবিধানের বাইরে কোনো সংলাপ হতে পারে না। সরকারি দল কখনো সংবিধান লঙ্ঘন করে কোনো কিছু করতে পারে না।
দুই দলের নেতাদের অনেকেই সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সংলাপের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন, কিন্তু তারাও নিজেদের দলীয় অবস্থানের পক্ষে অনড় থেকে পরস্পরের ওপর চাপ সৃষ্টিতে দলের কৌশলকে সমর্থন করছেন। বিদেশী কূটনীতিকদের দিক থেকে দুই দলের ওপরই সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের ব্যাপারে দুই দলের ওপর চাপ রয়েছে। কয়েক দিন আগে একটি পশ্চিমা দেশের রাষ্ট্রদূত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের দুজন নেতার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন বলেও জানা গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে দুই দলেরই সংলাপের সম্ভাবনা শর্তের বেড়াজালে বন্দি রয়েছে বলে দৃশ্যমান হচ্ছে।

রাজনীতির বাইরে থাকা বিশ্লেষকরাও বলছেন, দুই দলই খোলা মনে সংলাপে এলে একটা না একটা পথ অবশ্যই বের হবে। গত সংলাপের সময় অনেকেই ধরে নিয়েছিল কোনো প্রাপ্তি আসবে না, কিন্তু সেখানে ১০ বা ২০ শতাংশ প্রাপ্তি অবশ্যই এসেছে। সেটাও বা কম কী? আর সংলাপের একটি ধারাবাহিকতা থাকে। হয়তো প্রথম বসায় কিছুটা হলো বা মনোমালিন্যই হলো। তবে আবারও একটি সংলাপের সম্ভাবনা থাকে। আমাদের প্রধান প্রত্যাশা নির্বাচনটা সুষ্ঠু হোক, সবার অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনটা হোক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button